• রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৪
ads
শীত নামায় বাড়ছে গিজার হিটারের বাজার

গিজার

সংগৃহীত ছবি

আমদানি-রফতানি

শীত নামায় বাড়ছে গিজার হিটারের বাজার

বেশ কিছু তৈরি দেশেই আমদানি কয়েক হাজার কোটির

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮

সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের চাহিদা বাড়ছে। আগে শীতে শুধু লেপ-কম্বল আর গরম কাপড়ে প্রয়োজন মিটলেও সম্প্রতি ঘরে ঘরে বাড়ছে উষ্ণতা পাওয়ার নানা যন্ত্রপাতি। সাধারণ মানুষের কাছে এসব যন্ত্রপাতি বড় ব্যয়ের হলেও সচ্ছল পরিবারে সেগুলো প্রয়োজনের সামগ্রী। এতে চাহিদার সঙ্গে বড় হচ্ছে উষ্ণতা যন্ত্রপাতির বাজারও। দেশি উৎপাদনের পাশাপাশি এ চাহিদা পূরণে আমদানি হচ্ছে কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন ইলেকট্রনিকসের বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। শীতের কারণে ইলেকট্রনিকসের দোকানে স্বাভাবিক বিকিকিনির পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে বাড়তি কয়েক ডজন পণ্য। দেশি-বিদেশি এসব পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন শোরুম ও ব্র্যান্ডশপ। বিশেষ করে এ সময় রুম হিটার, বেড হিটার, থারমাল আন্ডার ব্ল্যাংকেট, ফুট ওয়ারমার, হিটিং প্যাড, ওয়াটার হিটার, ইলেকট্রিক  কেটলি, ভ্যাকুয়াম জগ, ভ্যাকুয়াম ফ্লাস্ক, গিজার, বৈদ্যুতিক শাওয়ার, ক্লথ ড্রায়ার, কফি  মেকার, ওভেনের মতো পণ্যের চাহিদা খুব বেশি।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেট, নবাবপুর, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, মিরপুর ১০, এলিফ্যান্ট রোড, মৌচাক মার্কেট, মালিবাগ রেলগেট,

শীতে বাড়ছে উষ্ণতা যন্ত্রপাতির বাজার নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকসের ব্র্যান্ডের শোরুমে ঢুকতেই শীতকে কেন্দ্র করে বাড়তি আয়োজন চোখে পড়ছে। দেশি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ভিশন, ওয়ালটন, মার্সেল, যমুনা, নোভাসহ বেশকিছু ব্র্যান্ড কয়েকডজন বাড়তি পণ্যও এনেছে শীত মৌসুমে। এসব শোরুমে ক্রেতার বেশ ভিড় চোখে পড়ছে।

দেশের বাজারে শীতের এসব যন্ত্রপাতির বাজার কত? তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে সামগ্রিক ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে তা কয়েক হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএমএমএ) তথ্যে দেশে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ গতানুগতিক পণ্যের বাইরে, বাকিটা শুধু শীতের জন্য ব্যবহার হচ্ছে।

এদিকে সরকারি নীতিমালার জটিলতা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার কারণে দেশে এসব যন্ত্রপাতি বড় বাজার থাকলেও এতে দেশি কোম্পানির অংশীদারিত্ব খুব একটা নেই। এসব যন্ত্রের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। দেশে শীতযন্ত্রের মধ্যে গিজার, ওয়াটার হিটার ও অল্প পরিসরে কিছু রুম হিটার প্রস্তুত হচ্ছে। আবার অধিকাংশ কোম্পানি যন্ত্রাংশ আমদানির পরে সংযোজন করে বাজারে ছাড়ছে।

এসব বিষয়ে বিইএমএমএ’র সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বিভিন্ন সমস্যার পরেও যারা দেশে এসব পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জরিত তারা চীনের নিম্নমানের আমদানি পণ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সারা দেশে বিদ্যুতের সংযোগে উন্নতিতে আগের থেকে এখন দেশে এসব পণ্যের কারখানা বেড়েছে বলে দাবি  মোশাররফ হোসেনের।

দেশে ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রায় ছোটবড় মিলিয়ে ১০ হাজার এ কারখানা। তবে এর বেশিরভাগই বিইএমএমএ’র সদস্য নয়। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মাত্র ৮০০ এবং এসব কারখানার মধ্যে কারা কোন ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে সে তথ্যও নেই কোথাও। তবে খোঁজ নিয়ে দেশের কিছু বড় ব্র্যান্ড ছাড়াও ঢাকা এবং এর আশেপাশে প্রায় অর্ধশত কোম্পানি শীতের যন্ত্রপাতি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি দেশে শীতযন্ত্রের উৎপাদন করছে ওয়ালটন। ওই প্রতিষ্ঠানের হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস বিক্রয় বিভাগের প্রধান মাশরুর হাসান বলেন, মানুষের সক্ষমতার সঙ্গে দেশে বিদ্যুতায়নের প্রসারে শীতযন্ত্রের বাজার ব্যাপক সম্প্রসারিত হয়েছে। ওয়ালটন এ কারণে গত বছরের থেকে এ বছর প্রায় দ্বিগুণ পণ্য বাজারে এনেছে। আর পণ্য সম্ভারে যুক্ত করা হয়েছে নতুন মডেল। এখন পর্যন্ত বিক্রিও বেশ ভালো। আশা করা হচ্ছে, এ বছর শতভাগ টার্গেট পূরণ সম্ভব হবে।

দেশি পণ্যের পাশাপাশি মিয়াকো, প্যানাসনিক, ফিলিপস, কিয়াম, সিঙ্গার, ভেনা, সনি, ইয়ামাদা ও সিমেন্স ব্র্যান্ডসহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা রয়েছে বাজারে। এসব ব্র্যান্ডের পণ্য চীনসহ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি করা হয়। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকশ আমদানিকারক এসব পণ্য এনে বাজারে সরবরাহ করে থাকেন।

তবে বাজারে অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের মতো এসব পণ্যেরও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডগুলো নকল পণ্যের ছড়াছড়ি। এসব বাজারজাত করছে কয়েকটি চক্র। তারা চীন থেকে কম দামে খুচরা সরঞ্জাম এনে সংযোজন করে তা বিক্রি করছে নামিদামি ব্র্যান্ডের নামে। বেশি লাভের কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরাও ঝুঁকছেন এসব পণ্যের বিপণনে। ঠকছেন ক্রেতারা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads