• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৪
প্রয়োজন হচ্ছে না চাল আমদানির

প্রয়োজন হচ্ছে না চাল আমদানির

সংরক্ষিত ছবি

আমদানি-রফতানি

প্রয়োজন হচ্ছে না চাল আমদানির

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ০৩ জানুয়ারি ২০১৯

দেশে চালের সঙ্কট প্রায় কেটে গেছে। গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে দেশে চাল আমদানির প্রয়োজন হয়েছিল ২২ লাখ টনের বেশি। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ নেমে এসেছে মাত্র এক লাখ টনে। যথেষ্ট মজুত থাকার কারণে সরকার চাল আমদানি করছে না। আর বাজারে সঙ্কট নেই বলে ব্যবসায়ীদেরও চাল আমদানিতে ঝোঁক নেই। যদিও বিশ্ববাজারে চালের দাম আগের তুলনায় এখন বেশ কম।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চাল আমদানি ছিল রেকর্ড পরিমাণে। সঙ্কট থাকায় সে সময় প্রথমার্ধেই অর্থাৎ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ লাখ ৩৮ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়। এর পর থেকেই কমছে আমদানি, যা অর্থবছর শেষে ৩৯ লাখ টনে দাঁড়িয়েছিল।

কিন্তু চলতি অর্থবছরে ধানের বাম্পার ফলনে সেই আমদানি-নির্ভরতাও কেটেছে। ফলে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত) চাল আমদানি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৬ হাজার টন। যার মধ্যে খাদ্যসহায়তাসহ সরকারি খাতে এসেছে ৪৯ হাজার টন ও বেসরকারি ব্যবসায়ীরা এনেছে ৫৭ হাজার টন।

তথ্য বলছে, সরকারি গুদামে এখনো ১০ লাখ ৪৬ হাজার টন চাল মজুত রয়েছে। এই পরিমাণ মজুত আপদকালীন দুর্যোগ ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে বিতরণের জন্য পর্যাপ্ত। এ করণে বিদেশ থেকে চাল কেনার কোনোই প্রয়োজন বোধ করছেন না সরকার-সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আরিফুর রহমান অপু বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সরকারি খাতে বছরে মোট ২২ লাখ টন চালের প্রয়োজন হয়, যা বিতরণ ও বাকিটা ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য সংরক্ষিত থাকে। এ চাহিদার অর্ধেক চাল আমাদের গুদামে রয়ে গেছে। আর অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ থেকে বাকিটা আসবে। ফলে এখন চাল আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।

‘দেশে গত ইরি-বোরো, আউশ ও শেষ আমনের বাম্পার ফলন হওয়াতে বাজারে চালের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ কারণে কমে আসছে চালের দামও। তাই ব্যবসায়ীরাও চাল আমদানি করছেন না।’ এমনটা জানিয়ে বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি জাকির হোসেন রানা বলেন, ব্যবসায়ীরা লাভের জন্য পণ্য আমদানি করে। কিন্তু বর্তমান চাল আমদানি করা হলে, সেটা সব খরচ মিলিয়ে বাজারদরের থেকেও বেশি দাম পড়বে। এ কারণে এখন আর ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি করছে না।

কয়েকজন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সঙ্কট থাকায় গত অর্থবছর শুল্কছাড়ের কারণে দেশে রেকর্ড সর্বোচ্চ পরিমাণে চাল আমদানি হয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে বাজেটে আবারো ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করায় চাল আমদানিতে আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের এপ্রিলের শুরুতে আগাম বৃষ্টি ও হাওরে বন্যার কারণে দেশে ব্যাপক ফসলহানি হয়। সে সময় আবার সরকারের সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াতে মজুত তলানিতে নেমে আসে। এতে ঘাটতি পূরণে চাল আমদানির বিকল্প ছিল না। এ কারণে তখন বিদেশ থেকে চাল আমদানিতে শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে নামিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছিল। এরপর দেশে রেকর্ড সর্বোচ্চ চাল আমদানি হয় সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই। পরের বছর (২০১৮) ইরি-বোরের উৎপাদন ভালো হওয়ায় সঙ্কট কাটিয়ে ওঠায় বাজেটে (২০১৮-১৯) আবারো আগের শুল্কে ফিরিয়ে আনা হয়। ফলে এখন চাল আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ এবং রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ ছাড়া সে সময় দেওয়া বাকিতে এলসি খোলার সুবিধাও প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, বিশ্ববাজারে চালের দাম আগের থেকে এখন বেশ কম। বর্তমানে ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানে ৩৫১-৩৮০ ডলারের মধ্যে প্রতি টন চাল কেনাবেচা হচ্ছে। যদিও গত বছর এই সময় ওইসব দেশ থেকেই ৩৭৫-৪১০ ডলারে চাল আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads