• বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৫
ads
আড়াই বছরেও চালু হয়নি পাথর-কয়লা আমদানি

আড়াই বছরেও চালু হয়নি পাথর-কয়লা আমদানি

ছবি : বাংরাদেশের খবর

আমদানি-রফতানি

কামালপুর এলসি স্টেশন

আড়াই বছরেও চালু হয়নি পাথর-কয়লা আমদানি

  • শওকত জামান, জামালপুর
  • প্রকাশিত ২৭ জানুয়ারি ২০১৯

পাথর ভাঙার টুং টাং আর ক্রেশ মেশিনের ঝন ঝন শব্দ এখন আর বেজে ওঠে না। চোখে পড়ে না পাথর ও লোড-আনলোড শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। আমদানি-রফতানির অপেক্ষায় থাকা সারি সারি ট্রাকের লম্বা লাইন চোখে পড়ে না। কর্মচাঞ্চল্য বাণিজ্যিক এলাকাটির চারপাশে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা। পথে বসেছে পাথর ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে দোকানপাট, হোটেলসহ নানা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লোকও। বেকার হয়ে পড়েছে ১০ হাজার পাথর শ্রমিক। জামালপুরের কামালপুর এলসি স্টেশনে পাথর ও কয়লা আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় এ চিত্র ফুটে উঠেছে।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার মহেন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কাছে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুরে ১৯৫২ সালে এলসি স্টেশন স্থাপন হয়। এ পথে ভারত থেকে মূলত পাথর ও কয়লা আমদানি হয়। এ ছাড়া আদা, সুপারি ও কোয়ার্টজও আমদানি হয়ে থাকে। এখান থেকে রফতানি হয় কাটন, মশারি, শাড়ি ও সিমেন্ট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতের পরিবেশবাদীদের মামলা ও ভারতীয় পাথর ব্যবসায়ীদের কোয়ারি লাইসেন্স জটিলতায় ২৬ মাস ধরে কামালপুর-মহেন্দ্রগঞ্জ রুটে পাথর ও কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ বন্ধ হয়ে পড়ায় ৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার এলসি খুলে পথে বসেছে প্রায় ২০০ আমদানিকারক পাথর ব্যবসায়ী। উচ্চমূল্যে ব্যাংক ঋণের সুদ গুনতে হচ্ছে তাদের। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ও নেমে এসেছে কয়েক গুণ। কবে নাগাদ আমদানি চালু হবে নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউ।

খোলা আকাশের নিচে মূল্যবান পাথর কাটিং ও ক্রেসিং মেশিনগুলো নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে পাথর কোয়ারির জমির ভাড়া। এ পরিস্থিতি উত্তরণে নানা উদ্যোগ নিয়েও কোনো বাস্তবায়ন না হওয়ায় হাল ছেড়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এখানকার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। কামালপুর ল্যান্ড কাস্টমস অফিস ও আমদানি-রফতানিকারক সমিতি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিয়াম এন্টারপ্রাইজের মালিক পাথর ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দুই শতাধিক ব্যবসায়ী পাথর-কয়লা আমদানি-রফতানির সঙ্গে জড়িত। ধারদেনা ও ঋণে পুঁজি সংগ্রহ করে ব্যবসা করে আসছি। আমদানি বন্ধের আগ মুহূর্তে সোয়া কোটি টাকা ভারতের ব্যবসায়ীর কাছে পাথর ও কয়লা বাবদ এলসি করেছি। আমদানি বন্ধ থাকায় বড় অংকের টাকা আটকা পড়েছে। এতে মূলধন সঙ্কটে পাথর-কয়লা ব্যবসা করতে পারছি না। এখন মুদি দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। কবে নাগাদ এলসির টাকা ফেরত পাব জানি না।

এলসিতে টাকা আটকে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ী সুদের টাকা গুনছে। আবার অনেকেই পাওনাদারদের তোপের মুখ থেকে রক্ষা পেতে এলাকা ছাড়া।

ধানুয়া কামালপুরের খামার গেদ্দা গ্রামের পাথর শ্রমিক মোহাম্মদ আলী (৬০) বলেন, এখানে ১০-১২ হাজার লোক লোড-আনলোড, পাথর ভাঙ্গা ও ক্রেশিং কাজে নিয়োজিত ছিলাম। এ এলসি স্টেশনে পাথর ভাঙা কাজে এসব শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ, যা আয় হতো তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কোনোমতে সংসার চলত। পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে।

রুটি রুজির পথ বন্ধ হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবন পার করছেন পাথর শ্রমিকরা।

কামালপুর ল্যান্ড কাস্টমস অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা রুকন উদ্দিন বলেন, এলসি স্টেশনটি পাথর আমদানি নির্ভর। পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় রাজস্ব আয় আগের তুলনায় কমে গেছে। কবে নাগাদ পাথর-কয়লা আমদানি চালু হবে- তা তিনি জানাতে পারেননি।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, বন্ধের ব্যাপারে কামালপুর এলসি স্টেশনের আমদানিকারকদের আমদানি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা ভারতীয় রফতানিকারকদের। তাদের পক্ষ থেকে এলসি খোলার উদ্যোগ নিলেই সমস্যাটি সমাধানের পথ খুঁজে পাবে। পাথর ও কয়লার এলসি খোলার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads