• রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
পোশাক রফতানিতে আয় বাড়ছে

পোশাক রফতানিতে আয় বাড়ছে

প্রতীকী ছবি

আমদানি-রফতানি

পোশাক রফতানিতে আয় বাড়ছে

# ৯ মাসে প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৫৭ ভাগ # পোশাক শিল্পে অগ্রগতি অব্যাহত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৮ এপ্রিল ২০১৯

চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে রফতানি আয় বড় ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংক। সরকারি প্রতিষ্ঠান রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদনেও এ তথ্যের সত্যতা উঠে এসেছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানিয়েছে, অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে দেশের রফতানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আর এতে বড় অবদান রয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের।

ইপিবি সূত্র জানিয়েছে, গত জুলাই থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত পণ্য রফতানিবাবদ দেশের উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে এনেছেন ৩ হাজার ৯০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে ২ হাজার ৭৪৫ কোটি ১৭ লাখ ডলার। এ হিসেবে ৯ মাসে রফতানি বেড়েছে ৩৪৫ কোটি ১৩ লাখ ডলার। শতকরা হিসেবে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৭ ভাগ।

৯ মাসের লক্ষ্যের চেয়ে ২০৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় বেশি এসেছে বলে জানিয়েছে ইপিবি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ২ হাজার ৮৮২ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য রফতানির লক্ষ্য ছিল। এ সময়ে আয় হয়েছে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। এ অবস্থায় অর্থবছর শেষে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্যোক্তারা বলছেন, রফতানি আয়ে সুখবর নিয়েই অর্থবছর শুরু হয়েছিল। প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাক রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধির কারণে এর ধারবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে অন্যান্য খাতেরও আয় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলে রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। বছরের পরবর্তী মাসগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশা করছেন তারা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মার্চে রফতানি আয় হয়েছে ৩৩৪ কোটি ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের। এ হিসাবে এ মাসে আয় বেড়েছে ৭ কোটি ৭২ লাখ ডলার। গত বছরের মার্চে এ আয় হয়েছিল ৩০৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট রফতানি আয়ে পোশাকের অবদান ৮৩ শতাংশ। তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্যান্য রফতানির উপখাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৮ শতাংশেরও বেশি হবে।

আলোচিত সময়ে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি আয় এসেছে ২ হাজার ৫৯৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার, যা  লক্ষ্যমাত্রার তুলনায়  ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের একই সমেয়ের তুলনায় রফতানি এ বছর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।ড়্গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পোশাক খাতে রফতানি আয় ছিল ২ হাজার ২৮৩ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

অর্থবছরের ৯ মাসে বড় খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় কৃষিপণ্য রফতানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ৭২ কোটি ২৭ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ খাতে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি।

তবে সম্ভাবনাময় পাট ও পাটজাত পণ্যে ধারাবাহিকভাবে কমছে রফতানি আয়। ফলে অর্জন হয়নি লক্ষ্যমাত্রাও। পাট ও পাটজাত খাত থেকে মার্চ শেষে রফতানি আয় এসেছে ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এটা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কম। এছাড়া চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ৭ দশমিক ১২ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের চেয়ে ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। আলোচিত সময়ে এ খাতে আয় হয়েছে ৭৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads