• রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকি

অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি

সংরক্ষিত ছবি

আমদানি-রফতানি

অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি

হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ এপ্রিল ২০১৯

নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতায় প্রতিবছর অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানিতে কর ফাঁকি হয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আমদানিকারকরা বলছেন, প্রতিবছর অবৈধভাবে প্রায় ২৫ লাখ মোবাইল ফোন আসে বাংলাদেশে। যার মূল্য ৩ হাজার কোটি টাকা। অবৈধভাবে মোবাইল ফোন আমদানি কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) জানিয়েছে, অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানির মধ্যে রয়েছে অ্যাপল, স্যামসাং ও শাওমির মতো নামিদামি ব্র্যান্ডের মোবাইল। অবৈধভাবে আমদানি করা এসব ফোনে দেশের মোবাইল ফোনের ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বিপরীতে প্রতিবছর বৈধভাবে ২ কোটি ৭৬ লাখ মোবাইল ফোন আমদানি হয়ে থাকে। অবশ্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, ভোক্তাদের মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অবৈধ আমদানির ফোন ব্যবহার করে থাকেন। বিএমপিআইএ জানিয়েছে, দেশের ৭৫ ভাগ ফোনই ফিচার ফোন। বাজেট ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও অন্যান্য বন্দরগুলো দিয়ে অবৈধ মোবাইল আমদানি বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন আমদানিকারকরা আর সরকার রাজস্ব হারাতে থাকবে বিপুল অঙ্কের।

প্রসঙ্গত, গত বছর সরকার দেশে মোবাইল ফোন তৈরির অনুমোদন দেয়। তবে মোবাইলের বিভিন্ন পার্টস আমদানিতে উৎপাদনকারীদের ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যাতে সরকারের সংশ্লিষ্টরা অবৈধ মোবাইল আমদানি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। বাংলাদেশে এখন শুধু ওয়ালটন ও স্যামসাং দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদন করে থাকে। যেখানে পাশের দেশ ভারতের ৯৪ শতাংশ মোবাইলের জোগান দেন দেশীয় উৎপাদকরা। বিটিআরসির তথ্যমতে, দেশে এখন ১৫ কোটি ৫৮ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহাকারী রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর আমদানি হয়েছে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ফোন। ইতোমধ্যে বৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনের জন্য আইএমইআই ডাটাবেজ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, দেশের বাজারের ৬০ শতাংশ ফোন ইতোমধ্যে আইএমইআই সার্ভারের অধীনে এসেছে।

সরকারি এই সংস্থাটির তথ্যমতে, কারো ফোন বৈধ কি না, তা জানা যাবে মুঠোফোনের আইএমইআই নাম্বারটি লিখে ১৬০০২ এ এসএমএস পাঠানোর মাধ্যমে। এরপর বিটিআরসির পক্ষ থেকে আরেকটি মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে ফোনটি বৈধভাবে আমদানি করা নাকি অবৈধভাবে। এ ছাড়া কারো ফোন হারিয়ে গেলে আইএমইআই নম্বরের মাধ্যমে তার ফোন শনাক্ত করতে পারবেন।

বিএমপিআইএর সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব জানান, তারা জানতে পেরেছেন আগামী ডিসেম্বর নাগাদ এই ডাটাবেজের কাজ সম্পন্ন হবে। এটি করা হলে আমদানিকারকরা স্বস্তিতে থাকবেন। বিটিআরসির ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা গেলে বৈধভাবে আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

অন্যদিকে ভোক্তাদের মোবাইল চুরির ঘটনাও কমবে। উল্লেখ্য, চলতি মাসে অবৈধভাবে মোবাইল আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে দেশে মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। মোবাইল ও কনজ্যুমার ইলেট্রনিকস পণ্য (টিভি, মনিটর ইত্যাদি) অবৈধভাবে আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে সমপ্রতি রায় দিয়েছেন ঢাকা জেলা জজ আদালত। আদালত তার রায়ে সব অবৈধ আমদানিকারককে স্যামসাং ব্র্যান্ড পণ্যের আমদানি ও বিতরণসহ বাজারজাত করা এবং বিক্রয় করার ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। ১০ জন অবৈধ মোবাইল আমদানিকারক এবং ১১ জন অবৈধ কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস পণ্য আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কোং. লিমিটেড (দ. কোরিয়া) এবং স্যামসাং ইন্ডিয়া ইলেট্রনিক্স লিমিটেড যৌথভাবে স্যামসাং বাংলাদেশ অফিসের মাধ্যমে ঢাকা জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। পণ্যের অবৈধ আমদানি এবং বিক্রয় দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর, এই কারণে এর অবৈধ আমদানি এবং বিক্রয় প্রচলিত আইন দ্বারা নিষিদ্ধ।

যে কারণে সম্প্রতি বিটিআরসি দেশের সব মোবাইল ডিভাইস নিবন্ধনের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে। আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-১৮-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, মেধাস্বত্বসংক্রান্ত বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে নিবন্ধিত ব্র্যান্ডের পণ্যসামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যের স্বত্বাধিকারী কর্তৃক সত্যায়িত মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত সনদপত্র পণ্য খালাসের সময় শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু অবৈধ আমদানিকারকরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads