• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৫
ads
লক্ষ্যের বেশি সেবা রপ্তানি

সংগৃহীত ছবি

আমদানি-রফতানি

লক্ষ্যের বেশি সেবা রপ্তানি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৯ জুলাই ২০১৯

পণ্য রপ্তানির মতো সেবা রপ্তানিতেও বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে শেষ হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবছর।

গত অর্থবছরের শেষ মাস জুনের তথ্য প্রকাশ করেনি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি। ১১ মাসের অর্থাৎ জুলাই-মে সময়ের যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যায়, সেবা রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৫৪১ কোটি ৮৫ লাখ (৫.৪১ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে।

এই অঙ্ক ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয় হয়েছে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

এই ১১ মাসে সেবা খাতের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্র ধরা ছিল ৫০০ কোটি ডলার। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে আয় হয়েছিল ৩৮৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এ হিসাবে গত অর্থবছরের ১১ মাসে আগের বছরের পুরো সময়ের (১২ মাস, জুলাই-জুন) চেয়ে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি বিদেশি মুদ্রা আয় করেছে বাংলাদেশ। অর্থবছরের পুরো (১২ মাসে, জুলাই-জুন) হিসাব পাওয়া গেলে সেবা খাতের রপ্তানি থেকে আয় ৬০০ কোটি ডলা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ইপিবির কর্মকর্তারা।

সেবা খাতের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় সেবা খাতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রদত্ত শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের সেবা খাতের রপ্তানি সম্প্রতি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ সুবিধা প্রাপ্তির কারণে ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, গত অর্থবছরে বেশ ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পণ্য এবং সেবা দুক্ষেত্রেই আমরা খুশি। ২০২১ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা আমরা ধরেছি সেটা অর্জিত হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

সম্প্রতি প্রকাশিত ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই-মে সময়ে সেবা খাতের রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৫৩১ কোটি ৩১ লাখ ডলারই এসেছে সরাসরি সেবা খাত থেকে। অর্থাৎ মোট রপ্তানির ৯৮ শতাংশই এসেছে সরাসরি সেবা খাত থেকে।

বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়।

কোনো অনাবাসীর কাছ থেকে পণ্য কিনে একই পণ্য কোনো অনাবাসীর কাছে বিক্রি করাকে মার্চেন্টিং বলে। এ প্রক্রিয়ায় মোট বিক্রি থেকে মোট ক্রয় বাদ দিয়ে নিট মার্চেন্টিং রপ্তানি আয় হিসাব করা হয়।

দেশের স্থল, সমুদ্র বা বিমানবন্দরে বিদেশি পরিবহনগুলো সেসব পণ্য ও সেবা, যেমন জ্বালানি তেল ও মেরামত সেবা কিনে থাকে সেগুলোকে সেবা খাতের আওতায় ধরা হয়েছে।

জুলাই-মে সময়ে সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সরকারি পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে। এ উপখাত থেকে এসেছে ২১৮ কোটি ৫ লাখ ডলার।

অন্য উপখাতগুলোর মধ্যে অন্যান্য ব্যবসায় সেবা  থেকে এসেছে ৯১ কোটি ২১ লাখ ডলার। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আয় হয়েছে ৫০ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।

বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা (সমুদ্র, বিমান, রেল এবং সড়ক) থেকে ৬১ কোটি ৮৪ লাখ ডলার আয় হয়েছে।

আর্থিক সেবা খাত থেকে ১২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং ভ্রমণ সেবা উপখাত থেকে ৩৪ কোটি ২৩ লাখ ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।

নির্মাণ সেবা থেকে এসেছে ৪২ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।

ইপিবি চলতি অর্থবছরে সেবা খাতের রপ্তানির ১১ মাসের তথ্য প্রকাশ করলেও পণ্য রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে পুরো বছরেরই।

জুলাই-জুন সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ চার হাজার ৫৩৫ কোটি (৪০.৫৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে।

এই অঙ্ক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। আর আগের অর্থবছরের চেয়ে আয় বেশি এসেছে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

১১ মাসের সেবা রপ্তানি এবং ১২ মাসের পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ মোট আয় করেছে চার হাজার ৫৯৫ কোটি ৩৫ লাখ (৪৫.৯৫ বিলিয়ন) ডলার; প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে সেবা খাত থেকে মোট আয় হয় ৪৩৪ কোটি (৪.৩৪ বিলিয়ন) ডলার। পণ্য রপ্তানি করে আসে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার।

সে হিসেবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের পণ্য ও সেবা খাত মিলে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।

তার আগের বছরে (২০১৬-১৭) সেবা খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩৪২ কোটি ডলার। ওই বছরে পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫৯ লাখ ডলার।

সে হিসেবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পণ্য ও সেবা খাত মিলে মোট রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৮০৭ কোটি ৫৭ লাখ ডলার।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ধরা ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি (৩৯ বিলিয়ন) ডলার। আর সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ছিল ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলার। দুইটা মিলিয়ে মোট লক্ষ্য ধরা আছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি (৪৪ বিলিয়ন) ডলার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads