• সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
সিরাজদিখানের বেতপণ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে

ছবি: বাংলাদেশের খবর

আমদানি-রফতানি

সিরাজদিখানের বেতপণ্য বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে

  • সালাহউদ্দিন সালমান, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ)
  • প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সিরাজদিখানের বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এর সঙ্গে সচল হচ্ছে দেশের টাকার চাকা। বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা। এক সময় এই পরিবারগুলোর দারিদ্রতা ছিল নিত্য সঙ্গী। অভাব অনটন থাকায় জীবন নির্বাহ করা ছিল খুবই কষ্টের। বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন সামগ্রীর এই কুটির শিল্পটি বদলে দিয়েছে তাদের ভাগ্য। যেখানে তাদের অনাহারে দিন কাটাতে হত সেখানে আজ তারা সবাই অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল। দিনবদলের পাশাপাশি ছেলে মেয়েদেরকে স্কুলে পাঠিয়ে শিক্ষার পাশাপাশি কর্মজীবি করে গড়ে তুলছে। এ পেশায় স্বাবলম্বী হওয়ায় বাপ-দাদার পেশাকে তারা আকড়ে ধরে রেখেছেন। এক সময় গ্রামীণ বাজারে বাঁশের তৈরি পণ্যের বেশ চাহিদা থাকলেও বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্যের কারণে এ শিল্প এখন হারাতে বসেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মনিপাড়ার প্রায় ৬০টি হিন্দু সম্পদায়ের ঋষি পরিবার এখনো ধরে রেখেছেন তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। সংসারের কাজ শেষ করে নারী পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন। বাঁশ ও বেত থেকে তাদের নিপুণ হাতে তৈরি করছেন বাহারি সব পণ্য। মনিপাড়ায় যেসব পণ্য তৈরি করে তার মধ্যে রয়েছে-কুলা, বেদেপাটির ন্যায় ধান রাখা চাঁচ/চাটাই, হাঁস-মুরগির খাঁচা, সাজি, ঢাকনা, চালনি, পালা, খাঁচা, মোড়া বেতের ধামা, চেয়ার, টেবিল, দোলনা, খারাই, পাখা, বই রাখার তাক, টাবরা, ঘুনি, ডালা ও ঝুড়ি সহ বিভিন্ন প্রকার আসবাবপত্র । এই বাঁশ আর বেতই বর্তমানে তাদের জীবিকার প্রধান বাহক। আগে একটি বাঁশ কিনতে হতো ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। আর এখন প্রতিটি বাঁশ কিনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। বর্তমানে আধুনিতার যুগে বাজারে সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য ও অন্যান্য দ্রব্য মূল্যের সাথে পাল্লা দিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

বাশঁ ও বেত শিল্পের কারিগরা বলেন, বাপ-দাদারাও এই পেশায় ছিল আমিও এ পেশায় আছি । পণ্যের চাহিদাও ভালো । আমাদের এসব পণ্যের মূল কাঁচামাল হলো বাঁশ ও বেত। বেত কিনতে হয় বহু দূর-দূরান্ত থেকে যে কারণে খরচটা বেশী পড়ে লাভ হয় কম। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড,গাউছিয়া,আড়ং এবং চট্টগ্রামে এসব পণ্য বিক্রি করে থাকি। আমাদের এসব পণ্য ইউরোপের কিছু দেশে যায়।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফিকুন নাহার বলেন, উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নে বাশ ও বেত শিল্পের একটি পল্লী গড়ে উঠেছে। সেটি আমাদের জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা। তাদের উৎপাদিত পণ্য ঢাকার বিভিন্ন নামি দামি দোকানে সাথে সাথে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে যদি তাদের প্রয়োজন হয় । এই শিল্পটাকে বাচিয়ে রাখার জন্য যা যা করনিয় আমরা তাই করে যাবো। ’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads