• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
ads
ভারত থেকে এসেছে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ

ছবি : সংগৃহীত

আমদানি-রফতানি

ভারত থেকে এসেছে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ০৬ অক্টোবর ২০১৯

রাজধানী ঢাকার বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কমেছে। বাজারে এখন ভালো মানের (দেশি বাছাই করা) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। যা গত সপ্তাহে ১২০ টাকায় উঠেছিল আর গত শুক্রবারের পর্যন্ত ১০০ টাকার নিচে নামেনি। অন্যদিকে আরো কম দামে কেনা যাচ্ছে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ। এসব পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত রোববার রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণার পরে ভারতে আটকা পড়া ট্রাকগুলো দেশে প্রবেশ করেছে। ফলে এসব পেঁয়াজ বাজারে জোগান বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রায় ১০ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেসব পেঁয়াজও দেশের বাজারে প্রবেশ করছে। জানা গেছে, ভারত রপ্তানি নিষিদ্ধ করার আগে এসব পেঁয়াজ আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছিল।

অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ভারত পেঁয়াজ আমদানি নিষিদ্ধ করার পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে রেকর্ডসংখ্যক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর পরিমাণ সাত হাজার ৩৬৩ টন। এর মধ্যে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে চার হাজার ২০৩ টন পেঁয়াজ এসেছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে তুরস্ক ও মিসর থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। ওই পাঁচ দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে পেঁয়াজ এসেছে ৩৬৪ টন। এর মধ্যে খালাস হয়েছে ২০২ টন।

প্রসঙ্গত, ভারত হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বেশ বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ। দেশের বাজারে পণ্যটির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায় দুদিনেই। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায় ক্রেতাদের মধ্যে। এর পরপরই  পেঁয়াজের ঊর্ধ্বমূল্যে নড়েচড়ে বসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দাম নিয়ন্ত্রণে অন্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানিসহ ডজন খানেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারে অভিযানও চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাতে বেরিয়ে আসে পেঁয়াজ নিয়ে এ অস্থির পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরো সিন্ডিকেট করে পণ্যটির দাম বাড়িয়েছে।

ওই সময় কিছু বাজারে বিক্রি বন্ধ রেখে পেঁয়াজ মজুত করার খবর পাওয়া গেছে, আবার কোথাও হঠাৎ উধাও হয়ে গেছে পেঁয়াজ-এমন খবর মিলছে। এ পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পর দেশের সবচেয়ে বড় বাজার খাতুনগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের মুখে নজরে পড়ে সিন্ডিকেটের তৎপরতা। সেখানে মিয়ানমার ও ভারত থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪২ টাকায় কিনে, ৭৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর আগে ভারতের রপ্তানি বন্ধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রপ্তানি বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত যেন প্রতিবেশীদের আগে থেকে জানিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। শুক্রবার নয়াদিল্লির আইটিসি মাইয়্যুরা হোটেলে বাংলাদেশ-ভারত বিজনেস ফোরামের অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তিনি। সে সময় পেঁয়াজের বাড়তি দামে উদ্বেগও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, গতকাল শনিবার সীমান্তে আড়তগুলোতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমে এখন ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বন্দরে পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক আটকা থাকায় কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এসব পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বন্দরের আড়তে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বন্দরের এক পেঁয়াজ আমদানিকারক বলেন, গতকাল প্রায় ৩ হাজার টন এই বন্দর দিয়ে এসেছে। আরো প্রায় ৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা আছে। এসব কারণে পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে।

দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও রাজধানীর শ্যামবাজারে পেঁয়াজের দরে সেই অস্থিরতা আর নেই। গত দুদিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, এখন আড়তে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৫-৭০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৬২- ৬৫ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads