• রবিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৫ মাঘ ১৪২৬
চাল রপ্তানিতে দেওয়া হবে নগদ সহায়তা

সংগৃহীত ছবি

আমদানি-রফতানি

চাল রপ্তানিতে দেওয়া হবে নগদ সহায়তা

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ০৮ জানুয়ারি ২০২০

দেশে এখন উদ্বৃত্ত চাল মজুত রয়েছে। তার পরেও আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কম থাকায় সেসব রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে এবং নতুন বাজার তৈরির বিবেচনায় চাল রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। 

তবে কত শতাংশ সহায়তার ঘোষণা আসছে তা নির্ধারণ হয়নি। এ বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে।  

সূত্র বলছে, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে এখন ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা রয়েছে, চালের ক্ষেত্রেও সহায়তার পরিমাণ সমান হতে পারে।  

বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের পর দেশের বাজারে দাম একেবারেই কমে যায়। কৃষক তার উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে ধান বিক্রি করে। সে সময় ধানের স্থানীয় বাজারকে চাঙা করতে সরকার দুই লাখ টন চাল রপ্তানির অনুমতি দেয়। তবে বিদেশের বাজারেও চালের দাম কম থাকায় এ উদ্যোগের সুফল মেলেনি।    

এর পরপরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে (সেপ্টেম্বরে) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে চাল রপ্তানিতে ভর্তুকি প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।  ভর্তুকি সুবিধা দেওয়ার আগে চালের উৎপাদন, ভর্তুকি, আমদানি মূল্য, খাদ্য নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। সম্প্রতি ট্যারিফ কমিশনের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে। যেখানে চাল রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা দেওয়ার পক্ষে মতামত তুলে ধরা হয়েছে। 

তথ্য বলছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩ কোটি ৬২ লাখ টন এবং ২০১৮-১৯-এ ৩ কোটি ৭৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে।  ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চালের মোট চাহিদা ছিল ৩ কোটি ৩৮ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ লাখ টন চাল বেশি উৎপাদন হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই ২ লাখ টন চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয়  

 

 

 চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি। ফলে স্থানীয় বাজারে চালের মূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে রপ্তানিকে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। 

চালকল মালিক ও চালের রপ্তানিকারকরা বলছেন, ৪-৫ মাস আগে রপ্তানিতে ভর্তুকি সুবিধা প্রদানে সরকারকে অনুরোধ করা হয়। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে রপ্তানি সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে মিল মালিকরা চাল রপ্তানিতে ২৮ শতাংশ ভর্তুকি দাবি করেছিলেন, যেখানে রপ্তানিকারকরা চেয়েছিলেন ২০ শতাংশ। 

এসব বিষয়ে বাংলাদেশ রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহ্ আলম বাবু বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমরা রপ্তানিতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা চেয়েছিলাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত ও পাকিস্তান আমাদের বড় প্রতিযোগী।  তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে নতুন বাজার তৈরি করতে হলে ভর্তুকি ছাড়া সম্ভব নয়। ভর্তুকি ছাড়া যে দামে চাল রপ্তানি করা যাবে, এখন বিদেশের বাজারে দাম তার থেকে কম।   

এদিকে চালের রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা দেওয়ার পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় অনেক আগে থেকেই আন্তরিক। চাহিদার বেশি উৎপাদন হওয়ার কারণে রপ্তানি হলে স্থানীয় বাজারে চালের দামে কোনো প্রভাব পড়বে না, বরং কৃষকের ধানের নায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। এজন্য রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তৈরির সুযোগ দিতে চায়। 

কৃষি মন্ত্রণালয়ে সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন কৃষিপণ্যের রপ্তানির বিপরীতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। কৃষিপণ্য হিসেবে চালও নগদ সহায়তার তালিকায় যুক্ত করা হবে। তবে কী পরিমাণ সহায়তা দিলে বিশ্ববাজারে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতা করতে পারবেন সেটা নির্ধারণে কাজ করছি।  

রপ্তানিকারকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, কানাডা, ইতালিসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে এবং রপ্তানি হচ্ছে। তবে বর্তমানে রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য নয়। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads