• শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭
রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার

ফাইল ছবি

আমদানি-রফতানি

রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৬ জুলাই ২০২০

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য সরকার ৪৮ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। যা সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পণ্য খাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৪১ বিলিয়ন ও সেবাখাতে ৭ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপ মুনশি চলতি অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন। বৈশ্বিক বাণিজ্যের চলমান গতিধারার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী বলে জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের পণ্য ও সেবাখাতে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোয় রপ্তানির প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাণিজ্যের সাম্প্রতিক গতিধারা,করোনাভাইরাস পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার ঘোষিত প্রণোদন প্যাকেজ, রপ্তানির সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য ও সেবা এবং নতুন বাজারের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,করোনার নেতিবাচক প্রভাবের কারণে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে রপ্তানি যথেষ্ট হ্রাস পেলেও জুনে সেটি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাই আশা করা যায় বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সঠিক নীতি অনুসরণ ও সময়ানুগ বাস্তবায়ন করা গেলে রপ্তানির ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান,জাতীয় সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারশেনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, রফতানিমূখী তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, বিকেএমইএ সহসভাপতি মো. হাতেম, এফবিসিসিআই সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান,বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, চামড়াজাত পণ্য এবং পাদুকা উৎপাদন ও রফতানিকারক সমিতি এলএফএমইএবির সভাপতি সাইফুল ইসলাম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোভিডের প্রভাবে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত রফতানি মারাত্বকভাবে হ্রাস পেলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রক্ষেপন অনুযায়ী ২০২১ সালে বৈশি^ক বাণিজ্য ধনাত্বক গতিধারায় ফিরে আসবে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য,পিপিই,মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের নতুন চাহিদা তৈরি হচ্ছে। সেই বিবেচনায় পণ্যখাতে ২১ দশমিক ৭৫ এবং সেবাখাতে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি মনে করেন চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদার উল্লম্ফন ঘটবে,যার সাথে সাথে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন,করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে রফতানি আয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান,যেহেতু করোনার মত অতিমারি চলমান, তাই প্রয়োজন হলে আগামী ৬ মাস পরে বৈশি^ক বাণিজ্য ও রফতানির গতিধারা পর্যালোচনা করে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা পুন:নির্ধারণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অজর্ণের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন,করোনাভাইরাস বৈশ্বিক বাণিজ্য নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে সত্যি,তবে আমাদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে।এখন বৈশি^ক সরবরাহ চেইনে যে পরিবর্তনা ঘটছে,তার সুফল আমাদের নিতে হবে। এ জন্য পণ্য বহুমূখীকরণ ও নতুন বাজারে প্রবেশ করাটা জরুরি। তিনি মনে করেন ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য,কৃষিজাত পণ্য, চামড়া ও মেডিকেল টেক্সটাইল পণ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগি হলে করোনা সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগানো যাবে।

তিনি বলেন, চীন শুল্কমূক্ত পণ্য প্রবেশাধিকারের যে সুযোগ দিয়েছে, এর যথার্থ সুফল পেতে চীনের বাজারে আমাদের ঠুকতে হবে। অনেকে মনে করেন চীন আমাদের প্রতিযোগি, সেই বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব কিনা। এ ধরনের মানসিকতা পরিহারের অনুরোধ জানিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের বলেন, আপনারা চীনে যান, সেখানে কিভাবে রফতানি বাড়ানো যায়-এ নিয়ে কাজ করুণ। এক্ষেত্রে সরকার ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে তিনি জানান।

উপদেষ্টা আরো জানান, এসএমইর জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে ৫ হাজার কোটি টাকার ইন্স্যুরেন্স স্কীম চালু করা হবে। যাতে ব্যাংকগুলো প্রণোদনার আওতায় এসএমই উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানে উৎসাহী হন।

উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু কোভিড মহামারির কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ সময় রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads