• শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
রেকর্ড রাজস্ব আদায়

রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে করমেলার শেষ দিন গতকাল ছিল করদাতাদের ব্যাপক উপস্থিতি

ছবি -বাংলাদেশের খবর

রাজস্ব

রেকর্ড রাজস্ব আদায়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ নভেম্বর ২০১৮

রেকর্ড রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত এবারের মেলা থেকে আদায় হয়েছে ২ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা, যা এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ। আর গতবারের মেলা থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বেশি। শতকরা হিসাবে আয়কর আহরণ বেড়েছে গতবারের থেকে ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর শেষ দিন রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৬৯ কোটি টাকা, যা এবারের মেলায় সর্বোচ্চ। সার্বিকভাবে মেলায় করদাতাদের সাড়ায় সন্তুষ্টি জানিয়েছে এনবিআর।

আয়কর মেলার শেষ দিনে করদাতাদের ভিড় ছিল অনেক বেশি। মেলা থেকে কর পরিশোধ সারতে এদিন ঢাকার ১৫টি কর অঞ্চল থেকে করদাতারা ছুটে আসেন। ভিড়ের কারণে নির্ধারিত সময় পরও সেবা দিতে হয়েছে আয়োজকদের। এবার সারা দেশের ১৬৬টি স্থানে মেলার আয়োজন করা হয়।

এনবিআরের তথ্য মতে, সারা দেশে চলা এবারের মেলা থেকে সেবা নিয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ, যা বিগত দিনের যেকোনো মেলা থেকে বেশি। গতবারের মেলা থেকে সেবা নেন ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৯ জন। সেবা গ্রহীতার হার বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এবার মেলা থেকে নতুন ই-টিআইএন নিয়েছেন ৩৯ হাজার ৭৪৩ জন। রিটার্ন দাখিল করেছে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৩ জন। রিটার্ন দাখিলের হার ২০১৭ সালের থেকে দেড় লাখ বা ৪৫ শতাংশ বেশি।

শেষ দিন ঢাকার বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবসহ সারা দেশে ৪৫টি স্পটে মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়কর মেলা শেষ হলেও ২২ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত সব কর অফিসে মেলার পরিবেশে মেলার মতোই সব কর সেবা প্রদান করা হবে এবং করদাতারা রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সৃজনশীল, উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগ ও করদাতা-সেবার উজ্জ্বলতম নিদর্শন আয়কর মেলা। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া আয়কর মেলার পরিধি এবং মেলার মাধ্যমে আয়কর বিভাগের সেবার পরিসর উত্তরোত্তর বাড়ছে। এবার মেলা শুরু হয় গত ১৩ নভেম্বর। রাজধানী ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে ৭ দিন, ৫৬টি জেলা শহরে ৪ দিন, ৩২টি উপজেলায় ২ দিন এবং ৭০টি উপজেলায় ১ দিনব্যাপী আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মেলার সপ্তম দিনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫৬৯ কোটি টাকা। রিটার্ন দাখিল ৭৫ হাজার ৩৭৭। আর এক দিনে নতুন ই-টিআইএন নিয়েছেন ৭ হাজার ৭৩৩ জন। এদিন মেলায় এসে কর সংক্রান্ত সেবা নিয়েছেন ২ লাখ ৬০ ৩২৭ জন।

এ বছর আয়কর মেলায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিল। সারা দেশে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন ৩ হাজার ৭৭০ জন করদাতা এবং ই-পেমেন্টের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ জন করদাতা ১ কোটি ৪৮ হাজার ৬৮৫ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।

আয়কর মেলায় ছিল ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন, আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ, রিটার্ন গ্রহণ, কর পরিশোধ, মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য ১টি করে পৃথক বুথ, প্রতিটি কর অঞ্চলের জন্য আলাদা বুথ, করদাতাদের সুবিধার্থে হেল্প ডেস্ক, তথ্যকেন্দ্র ও আয়কর অধিক্ষেত্র সংক্রান্ত বুথ ইত্যাদি। করদাতাদের সুবিধার্েথ ৪৩টি আয়কর রিটার্ন বুথ, ৩১টি হেল্প ডেস্ক, ব্যাংক বুথ (সোনালী ব্যাংক ১৩টি, জনতা ব্যাংক ৫টি এবং বেসিক ব্যাংক ৩টি), ই-পেমেন্টের জন্য ৩টি, ই-ফাইলিংয়ের জন্য ২টি পৃথক বুথ ছিল।

ভবিষ্যৎ করদাতা সৃষ্টি ও শিক্ষার্থীদের কর বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে মেলায় তৃতীয়বারের মতো সংযোজিত হওয়া কর শিক্ষণ ফোরামের আওতায় শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন মেলা পরিদর্শন, কর বিষয়ে ধারণা লাভ, কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হওয়া ও নেতৃত্ব লাভের শিক্ষা নেন।

২০১০ সালে প্রথম বছর আয়কর মেলা থেকে রাজস্ব আদায় হয় ১১৩ কোটি টাকা। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে আয়কর আদায় বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালের পর থেকে গত তিন বছর মেলা থেকে সেবা গ্রহীতা যেমন বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ২০১৫ সালে রাজস্ব আহরণ ছিল ২ হাজার ৩৫ কোটি টাকা, ২০১৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ১২৯ কোটি টাকা। আর সর্বশেষ ২০১৭ সালে ২ হাজার ২১৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। মেলায় আগত করদাতাদের দাবি, একই পরিবেশ থাকতে হবে কর অফিসগুলোতে। কর প্রশাসনকে রাজস্ব বাড়াতে আরো আন্তরিক হতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads