• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ads
জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিপিডির সন্দেহ

সিরডাপ মিলনায়তনে গতকাল সিপিডি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

রাজস্ব

জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিপিডির সন্দেহ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৪ এপ্রিল ২০১৯

সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে হিসাব দেখাচ্ছে, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। টানা তৃতীয় মেয়াদে গঠিত আওয়ামী লীগের সরকারের ১০০ দিনের কাজ দেখে একে ‘উদ্যমহীন’ বলেছে সংস্থাটি।

শেখ হাসিনার নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কাজের মূল্যায়ন নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিপিডি। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো দল টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করল। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া এই সরকার চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে ধরেছে।

সরকারের এই প্রাক্কলনের কাছাকাছি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের আভাস দিয়েছে এডিবি; তারা বলছে এই অঙ্ক ৮ শতাংশ হতে পারে। তবে বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে কোনো গ্লানি, পরিতাপ বা হিংসা নয়, আমরাও ৮ শতাংশ চাই। কিন্তু এই ৮ শতাংশ ডিজিটটা যেন ঠিকমতো অনুমিত হয়, যাতে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বা যারা মূল্যায়ন করি, তারা যেন সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারি। দেবপ্রিয়র ভাষ্য, বিভিন্ন খাতের যে অবদান থাকার কথা, সেটা দেখা যাচ্ছে না, অথচ উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এই প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়ন হলে যে ধরনের কর আহরণ হয়, সেই কর আহরণ আমরা দেখলাম না। ব্যক্তি খাতে যে ধরনের ঋণ প্রবাহ বাড়ার কথা, সেটাও দেখলাম না। ব্যাংকিং খাতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে যে ধরনের চাঞ্চল্য থাকে, তাও দেখলাম না। বড় পুঁজিপণ্যের আমদানির প্রবৃদ্ধির হার গতবারের তুলনায় কমে গেছে। তাহলে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যে সমস্ত চলক থাকে, সে চলকগুলোর ক্ষেত্রে যে ধরনের প্রতিফলন হওয়ার কথা, সেগুলো কিন্তু আমাদের কাছে ধরা পড়ছে না।

দেবপ্রিয় বলেন, যে প্রবৃদ্ধিটা হয়েছে সেটা সঠিক ধরে নিলেও বিনিয়োগ যেহেতু বেশি হয়নি, সেহেতু শ্রমের উৎপাদনশীলতা বেশি হতে হবে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে এমনকি প্রযুক্তি বা উদ্ভাবন যুক্ত বা রূপান্তর ঘটল যে আমার শ্রমের উৎপাদনশীলতা বৈপ্লবিকভাবে বেড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে সিপিডির সন্দেহগেলো। শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়লে শ্রমিকের আয় বাড়ার কথা। কিন্তু সরকারের খানা জরিপসহ তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, বৈষম্য বাড়ছে। যে ধরনের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করতে হলে তাতে আয় ও কর্মসংস্থানের যে চিত্রটি আসে, তাও স্বস্তিদায়ক হচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিবিএসের পক্ষ থেকে জিডিপি’র যে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয়। ম্যানুফাকচারিং খাতের ওপর ভর করে প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হলেও দেখা গেছে চামড়া শিল্পের প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশ কমে গেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ তেমন না বাড়লেও সরকারি বিনিয়োগের বিনিয়োগের ওপর ভর করে প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। কিন্তু ২০১০ থেকে ১৭ পর্যন্ত তার আগের দশ বছরের তুলনায় কর্মসংস্থান উল্টো ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারাচ্ছে।

মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির এই হিসাব কীভাবে নিরূপণ হলো, তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে সিপিডি।

দেবপ্রিয় বলেন, এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে কেউ আমার কাছে প্রশ্ন করতে পারেন, কিন্তু আমি উত্তর দিতে পারব না। এর উত্তর সরকারের কাছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে এবং বিবিএস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিনিয়োগ বোর্ডের কাছে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মধ্যে প্রবৃদ্ধি নিয়ে এক ধরনের আচ্ছন্নতা আছে। কিন্তু এখন উন্নয়নের ক্ষেত্রে উচ্চ প্রবৃদ্ধিই প্রধান নিয়ামক নয়।

অনুষ্ঠানে সিপিডির আরেক সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

নির্বাচনের আগে দেওয়া আওয়ামী লীগের ইশতেহারকে সবচেয়ে ‘সুচিন্তিত’ বললেও সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করেন দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, একটি উৎসাহহীন, উদ্যোগহীন, উচ্ছ্বাসহীন এবং উদ্যমহীন একশ দিন দেখেছি। অথচ আমরা আশা করেছিলাম, একটি বড় ধরনের উত্থানের ১০০ দিন হবে, সেটা আমরা লক্ষ করিনি। সরকারের যে ধরনের উদ্যোগ গত ১০০ দিনে দেখেছেন, তা ‘মিশ্র ইঙ্গিত’ দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads