• বুধবার, ৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
তিন দিনে রাজস্ব আদায় ১০৬৪ কোটি টাকা

সংগৃহীত ছবি

রাজস্ব

আয়কর মেলা

তিন দিনে রাজস্ব আদায় ১০৬৪ কোটি টাকা

করদাতাদের উপচেপড়া ভিড়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৭ নভেম্বর ২০১৯

আয়কর মেলা থেকে রাজস্ব আদায় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মেলার তৃতীয় দিন পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর তৃতীয় দিনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬২ কোটি ২ লাখ টাকা। 

রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত আয়কর মেলার তৃতীয় দিন গতকাল শনিবার করদাতা ও সেবাপ্রার্থীদের উপচে পড়া ভিড় এবং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে কর দেওয়ার পাশাপাশি কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতেও ভিড় করছেন সেবাপ্রার্থীরা। উদ্বোধনী ও দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতি ও শুক্রবারও উপচেপড়া ভিড় ছিল মেলায়। গতকাল শনিবার সেবা নিয়েছেন ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪০ জন, রিটার্ন দাখিল করেছেন ৮৪ হাজার ৫৪৩ জন এবং নতুন টিআইএন নিয়েছেন চার হাজার ১১ জন। 

‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনিভর’ স্লোগান এবং ‘কর প্রদানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত হোক রূপকল্প বাস্তবায়ন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সাত দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে এনবিআর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৮টি বিভাগ, ৫৬টি জেলা, ৫৬টি উপজেলাসহ মোট ১২০টি স্পটে এ আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলছে এ মেলা। মেলায় আয়কর রিটার্ন দাখিল, ই-টিআইন গ্রহণ, ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং, ই-পেমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। মেলার বিশেষ আকর্ষণ মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে করদাতারা রকেট, নগদ, বিকাশ ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে আয়কর জমা দিতে পারছেন। মেলায় রিটার্ন দাখিলের জন্য আসা রামপুরার অমেদুল বলেন, গত বছর মেলার প্রথম দিন রিটার্ন জমা দিয়েছিলাম। অনেক ভিড় ছিল। এ কারণে এবার মেলার প্রথম দুদিন আসিনি। ভেবেছিলাম শনিবার ভিড় কম হবে; কিন্তু এখানে এসে দেখি অনেক ভিড়। তিনি আরো বলেন, মেলায় কর দেওয়া সহজ, ঝামেলা নেই। তাই লাইনে দাঁড়িয়ে দেরি হলেও কর দিয়ে যাব। এ ছাড়া রোববার অফিস আছে। অফিস চলাকালে কর দিতে আসা কষ্টকর।

রোমানা নামের এক নারী করদাতা বলেন, এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই কর দিচ্ছেন। করদাতাদের মধ্যে বেশ উৎসাহ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেখতে বেশ ভালো লাগছে, প্রতিটি সুনাগরিকের উচিত কর দেওয়া। তিনি বলেন, মেলা থেকে কর দেওয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। ফরম পূরণ, টাকা জমা দেওয়াসহ সব সুবিধা এক জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া যাচ্ছে। করদাতাদের জন্য এটা অনেক বড় সুযোগ।

রোমানা নামের এক নারী করদাতা বলেন, এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই কর দিচ্ছেন। করদাতাদের মধ্যে বেশ উৎসাহ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেখতে বেশ ভালো লাগছে, প্রতিটি সুনাগরিকের উচিত কর  দেওয়া। তিনি বলেন, মেলা থেকে কর দেওয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। ফরম পূরণ, টাকা জমা দেওয়াসহ সব সুবিধা এক জায়গা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া যাচ্ছে। করদাতাদের জন্য এটা অনেক বড় সুযোগ।

জানা গেছে, তিন দিন পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৮২ জন সেবা নিয়েছেন আয়কর সংক্রান্ত। রিটার্ন দাখিল করেছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৬৪১ জন। সব মিলিয়ে নতুন টিআইএন নিয়েছেন ১১ হাজার ৯৭৯ জন। 

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আয়কর মেলার তৃতীয় দিনে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৬২ কোটি ২ লাখ টাকা। মেলার প্রথম দুদিনে আয়কর সংগ্রহ হয়েছে ৮০২ কোটি ২০ লাখ ২২ হাজার ৬৮২ টাকা। এ হিসাবে আয়কর মেলা থেকে রাজস্ব আদায় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মেলার তৃতীয় দিন পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সেবা নিয়েছেন ৪ লাখ ৪ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ১১৫ জন। আর ৭ হাজার ৯৬৮ জন নতুন ই-টিআইএন নিবন্ধন করেছেন। মেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার আয়কর সংগ্রহ হয়েছে ৪৭৯ কোটি ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৭ টাকা। ওইদিন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সেবা নিয়েছেন ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮৪ জন। এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেছেন ৭৩ হাজার ৭৪৩ জন। আর ৩ হাজার ৬০২ জন নতুন ই-টিআইএন নিবন্ধন করেছেন। এর আগে মেলার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার আয়কর সংগ্রহ হয় ৩২৩ কোটি ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮৫ টাকা। এ দিন মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সেবা নেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে রিটার্ন দাখিল করেন ৬৩ হাজার ২৭২ জন। আর ৪ হাজার ৩৬৬ জন নতুন ই-টিআইএন নিবন্ধন করেন।

 

মেলায় অসুস্থ হলে আছে প্রাথমিক চিকিৎসা

এদিকে আয়কর দিতে মেলায় আসা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে। গতকাল শনিবার আয়কর মেলায় আসা আবদুস সাত্তার (৫০) লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতেই হঠাৎ মাথাঘুরে পড়ে যান। এ সময় মেলায় স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বরত স্কাউট ও কর অঞ্চলের কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে নিয়ে যান মেলায় স্থাপিত হেলথকেয়ারে। ওই ব্যক্তির বুকে ব্যথা থাকায় দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক।

জানা গেছে, মেলার প্রথম দিনে ৫৪ জন, দ্বিতীয় দিন ৪৭ জন ও তৃতীয় দিনে ২৯ জনকে মেলাপ্রাঙ্গণে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। মেলায় করদাতাদের জন্য ফ্রি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। করদাতা কিংবা কোনো দর্শনার্থী  মেলায় এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসাপত্র ও ওষুধ দিচ্ছে হাসপাতালটি। কর অঞ্চলের মিডিয়া কর্নারের পাশেই হেলথ কেয়ার বুথ বসানো হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক অসুস্থতা নিয়ে আসা সেবাগ্রহীতাদের দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসাপত্র। একজন চিকিৎসক ও তিনজন নার্স মেলার শুরু থেকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। মেলাপ্রাঙ্গণে আলাপ হয় হেলথকেয়ারের চিকিৎসক মো. আজিজুর রহমান রাজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, জ্বর, সর্দি, গ্যাস্ট্রিক, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, বমির প্রাথমিক চিকিৎসা মেলাতেই দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে দেওয় হচ্ছে প্রাথমিক ওষুধও। তবে হূদরোগ, ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে পরামর্শপত্র দিয়ে তাদের জরুরি ভিত্তিতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে অ্যাম্বুলেন্সে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads