• সোমবার, ১ মার্চ ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

রাজস্ব

কালোটাকা থেকে আয় ১০ হাজার কোটি

রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা

  • মোহসিন কবির
  • প্রকাশিত ০৫ জানুয়ারি ২০২১

চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) মাত্র ৬ মাসে ১০ শতাংশ কর প্রদানের মাধ্যমে ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত আয় তথা কালো টাকা সাদার সুযোগ গ্রহণ করেছেন ৭৪৪৫ জন। এর ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অতিরিক্ত ৯৩৯ কোটি ৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। এছাড়া, ২০৫ জন কালো টাকার মালিক ২২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কর দিয়ে পুঁজিবাজারে তাদের অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। যা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এনবিআর।

সংস্থাটি বলছে, এর ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কর জিডিপির হার বৃদ্ধি হবে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তবে কালো টাকা অবাধে সাদা করার এই প্রবণতাকে ভবিষ্যতে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে শঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ, ব্যক্তিখাতে কর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। যারা মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকাকে সাদা করেছেন তারা মূলত ২৫-৩০ শতাংশ কর এড়াতে সেটি করেছেন। এর ফলে প্রকৃত কর প্রদানকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন এবং তাতে রাজস্ব আদায়ের হার কমতে থাকবে।  সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘এর ফলে যারা বেশি হারে কর প্রদান করছেন তারা অনেকে অনুৎসাহিত হবেন। তারা মনে করবে সময়মতো পরিশোধ না করে কিছুদিন পরে দিলে ১০ শতাংশ দিলেই হবে।’

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য তিনি এনবিআরকে করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমের বহুমুখি ব্যবহারের পরামর্শ দেন ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি প্রতিবেশী দেশ ভারতের ‘আঁধার কার্ড’ এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘বড় কোনো লেনদেন যাতে একটি নির্দিষ্ট কার্ডের মাধ্যমে করা যায় সে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র এনআইডিকেও উপযুক্ত করে তৈরির মাধ্যমে রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিতে পারে সরকার।’ তার মতে, ধারাবাহিকভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলে অনেকেই এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যার ফলে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯ এর ধারা অনুযায়ী আগামী জুন পর্যন্ত কর পরিশোধ করা যাবে। এদিকে, চলতি অর্থবছরের (২০২০-২০২১) প্রথম ছয় মাসে ২৪ লাখ ৯ হাজার ৩৫৭ জন করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। যা ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি এবং টাকার অঙ্কে যা ১ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা বেশি। গতকাল এনবিআরর সিনিয়র তথ্য অফিসার সৈয়দ এ মুমেন গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪ হাজার ২৩৮ কোটি টাকার আয়কর সংগ্রহ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এনবিআর জানায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত বিগত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনবিআর। গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে ৩৪ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা আয়কর সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads