• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
রুট পারমিট ছাড়াই বাসটি চলছিল ২৬ বছর

দীর্ঘ ২৬ বছর অবৈধভাবে চলা বাসের ধাক্কায় লেগুনার ১৫ যাত্রী নিহত

ছবি : বাংলাদেশের খবর

দুর্ঘটনা

নাটোরে লেগুনার ১৫ যাত্রী নিহত

রুট পারমিট ছাড়াই বাসটি চলছিল ২৬ বছর

  • বগুড়া ও নাটোর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৯ আগস্ট ২০১৮

নাটোরের লালপুরে লেগুনাকে ধাক্কা দেওয়া চ্যালেঞ্জার পরিবহনের বাসটির কোনো রুট পারমিট ছিল না। দীর্ঘ ২৬ বছর অবৈধভাবে সড়কে চলছিল ওই বাসটি। গতকাল মঙ্গলবার বগুড়া সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিন চ্যালেঞ্জারের বাসটির নিবন্ধন ও এর চালকের লাইসেন্স স্থগিত করেছে বগুড়া বিআরটিএ। এদিকে নাটোরে চ্যালেঞ্জারের বাসের ধাক্কায় লেগুনার ১৫ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ওই বাসের চালক শামীম হোসেনকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি করে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তবে শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্র জানায়, শামীম বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক সমিতির কার্যালয়ে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে। পরে শ্রমিক নেতারা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এদিকে নাটোরের বনপাড়া-পাবনা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় লেগুনার ১৫ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ছয় সদস্যর তদন্ত কমিটি নাটোর পৌঁছে তদন্তকাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বিআরটিএর বগুড়া কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে বাসটি ঢাকা থেকে এনে বগুড়ায় নথিভুক্ত করেন এর মালিক। এটি কয়েক দফা হাতবদল হয়। ১৯৯৩ সালে এটির মালিকানা যায় মঞ্জু সরকার নামে এক ব্যক্তির হাতে। তখন থেকে তিনিই এটির মালিক। তবে বগুড়ায় নথিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই এর কোনো রুট পারমিট ছিল না। বাসটির রুট পারমিটের জন্য কখনো আবেদনও করেনি মালিকপক্ষ। তবে বাসটির ফিটনেসসহ ট্যাক্স টোকেন ছিল। নাটোরে ওই বাসের ধাক্কায় লেগুনার ১৫ যাত্রী নিহত হওয়ার পর বাসটি আলোচনায় আসে।

বগুড়া বিআরটিএর সহকারী পরিচালক সৈয়দ মেজবাউদ্দিন বাংলাদেশের খবরকে জানান, চ্যালেঞ্জার পরিবহন বগুড়ায় ১৯৯২ সালে নথিভুক্ত হলেও এর রুট পারমিট ছিল না। তিনি জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতোমধ্যে বাসটির রেজিস্ট্রেশন ও চালকের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শামীম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের স্টেশন রোডসংলগ্ন বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এখন তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।  ইতোমধ্যে তাকে নেওয়ার জন্য নাটোরের একটি টিম বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানান ওসি।

এর আগে গত রোববার চালক শামীমের সহকারী আবদুস সামাদ কমলকে (৩৮) বগুড়া থেকে গ্রেফতার হয়। বগুড়া শহরের পলাশবাড়ী এলাকার ভাড়াবাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ। এ ছাড়া ওই বাসের মালিক মঞ্জু সরকারকে বগুড়া সদর পুলিশ ফাঁড়িতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসন গঠিত দুর্ঘটনার তদন্তকাজ শুরুর তথ্য নিশ্চিত করে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজ্জাকুল ইসলাম জানান, ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে লালপুরের ক্লিক মোড়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনকালে দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনা দেখেন কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীর ও আহতদের বক্তব্য নেন তারা। কমিটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি ঢাকা থেকে নাটোরে পৌঁছে তদন্তকাজ শুরু করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (অপারেশন) সিতাংশু শেখর বিশ্বাস, গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক ও দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সদস্য কাজী মোহাম্মাদ সিফান নেওয়াজ, নিরাপদ সড়ক চাই-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন এবং বৈশাখী টেলিভিশনের হেড অব নিউজ অশোক চৌধুরী।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বিকালে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে লালপুরের কদিমচিলান এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী, শিশুসহ লেগুনার ১৫ যাত্রী নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্য ছিল। পরদিন সকালে এ ঘটনায় লালপুর থানায় সাতজনকে আসামি করে বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইউছুব আলী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় বনপাড়া লেগুনা স্ট্যান্ডের সভাপতি জাবেদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, লেগুনার চালক, চালকের সহকারী, চ্যালেঞ্জার বাসের মালিক, বাসের চালক ও চালকের সহকারীকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্য লেগুনার চালক ও তার সহকারী দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads