• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশয়

সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশয়

ছবি : সংগৃহীত

দুর্ঘটনা

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ

সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ মার্চ ২০১৯

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত কমিটি তাদের সুপারিশ প্রস্তুত করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দিতে পারেনি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অসুস্থ থাকায় সুপারিশ জমা দেওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সুপারিশ শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। প্রশ্ন হলো, এর কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে? তাদের অভিযাগ, আগেও অনেক ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে, কিন্তু পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের কারণে সেগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খানকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের ‘সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটি’ গঠন করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। কমিটিকে পরবর্তী ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। কমিটির সদস্য ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমাদের অনেক বৈঠক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সুপারিশ দিয়েছেন। কমিটি তার রিপোর্ট প্রায় চূড়ান্ত করেছে। কিন্তু কমিটি কার কাছে রিপোর্ট দেবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এখন মন্ত্রী মহোদয় (ওবায়দুল কাদের) তো অসুস্থ। আমরা চাইলে সচিবের কাছে জমা দিতে পারি। বৃহস্পতিবার (আজ) একটি মিটিং হবে, এরপর সিদ্ধান্ত হবে রিপোর্টটি কোথায় দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিটি ১০০টির বেশি সুপারিশ তৈরি করেছে। আমরা সুপারিশমালায় খুশি। কারণ আমাদের মতামতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে সড়কে একটা পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

তিনি বলেন, শুধু সুপারিশ থাকলে হবে না। এগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। বাস্তবায়নের দায়িত্বে কিন্তু আমরা নই, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে। নাহলে আগের মতোই বিশৃঙ্খল পরিবেশ থেকে যাবে।

কমিটির সদস্য কলামিস্ট আবুল মকসুদ বলেন, আগামীকাল (আজ) কমিটির বৈঠক রয়েছে। এরই মধ্যে অনেকেই তাদের নিজস্ব মতামত কমিটির কাছে জমা দিয়েছেন। এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, মোটামুটি এ বৈঠকে চূড়ান্ত হবে। তবে কমিটির সুপারিশ মন্ত্রীর কাছে দেওয়া হবে নাকি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে দেওয়া হবে, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আবুল মকসুদ বলেন, আমি মনে করি, মন্ত্রী মহোদয় যেহেতু অসুস্থ, তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক। এরপর আমরা তার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দিই।

কমিটির অপর সদস্য ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘অনেক বৈঠক হয়েছে। রিপোর্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। কমিটির প্রধান বেশি বলতে পারবেন।’

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন কমিটি আগেও বহুবার গঠন করা হয়েছে। কেন নতুন করে আবারো কমিটি করা হলো তা তাদের কাছে স্পষ্ট না। তাদের অভিযোগ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের কারণে আগের সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করাও যায়নি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. হানিফ খোকন বলেছেন, কমিটিকে ১৪ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই সময় যথেষ্ট নয়। আমরা তাদের রিপোর্টের দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।

সুপারিশ আগেও হয়েছে বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করে যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এই কমিটি নিয়ে আমরা আগেও বসেছি। কিন্তু সেই সুপারিশগুলোও বাস্তবায়ন হয়নি। আসলে আমাদের কোনো কথাই তো তারা আমলে নিচ্ছে না। তারা যা যা করে আমাদের তাই মেনে নিতে হয়। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, শুধু তদন্ত কমিটি আর সুপারিশমালা দিয়ে একের পর এক ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে পার করে দেওয়া হচ্ছে। এজন্য পেশাদার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। সেই প্রতিষ্ঠান সড়ক নিয়ে সব ধরনের গবেষণা করবে এবং কার্যক্রম প্রস্তুত করবে। এর মাধ্যমে আমরা সুফল পেতে পারি। আজ যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো মালিক ও শ্রমিকদের দৌরাত্ম্যের কারণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

একাধিকবার চেষ্টা করেও এ বিষয়ে কমিটির প্রধান শাজাহান খানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, বাংলাদেশ ট্রাক, কভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেড়ারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ওসমান আলী। এ ছাড়া বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ডিআইজি হাইওয়ে, ডিআইজি অপারেশন, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই), অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা এতে যুক্ত আছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads