• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
ads
চাঁদপুরে আখের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

ছবি: বাংলাদেশের খবর

কৃষি অর্থনীতি

চাঁদপুরে আখের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

  • মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ, চাঁদপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৪ জুলাই ২০১৯

চাঁদপুর জেলায় এ বছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখেও  ফুটেছে হাসি। জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সবচাইতে বেশী আখ আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আখ খুচরা ও পাইকারি বিক্রি। আগামী ১ মাসের মধ্যে অধিকাংশ জমির আখ বিক্রি হয়ে যাবে। এসব জমিতেই আবাদ হবে বোরো ধান।

চাঁদপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮ উপজেলার আট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৭৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৬৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৩৩৫ হেক্টর, মতলব উত্তর উপজেলায় ২১০ হেক্টর। মতলব উত্তর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা সেচ প্রকল্পের আওতায় হওয়ার কারণে জমিগুলো কৃষি উপযোগী থাকে বছর জুড়ে।

এ ছাড়াও সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৬৫ হেক্টর, মতলব দক্ষিণে ৫ হেক্টর, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৮ হেক্টর, শাহরাস্তি ৩৫ হেক্টর, কচুয়া ৫ হেক্টর ও হাইমচর উপজেলায় ৭ হেক্টর।

সোমবার (২২ জুলাই) ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর ও বালিথুবা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় জমিতে আখের আবাদ। যেদিকে চোখ যায় শুধু আখ আর আখ। কৃষকরা জমিতে কাজ করছেন। কেউ আখ তুলছেন, কেউ আটি বাঁধছেন। আবার অন্য শ্রমিক এসব আখ সড়কে নিয়ে স্তুপ করে রাখছেন।

ফরিদগঞ্জ বালিথুবা মদনের গাঁও গ্রামের সেচ প্রকল্প এলাকার কৃষক মুখলেছুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, তিনি এ বছর ৪০ শতাংশ জমিতে আখ আবাদ করেছেন। খরচ বাদ দিয়ে তার কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা লাভ হবে।

লোহাগড়র গ্রামের এলাকার কৃষক জুয়েল পাটওয়ারী ও সুমন খাঁন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, তারা প্রায় ১৫ বছর আখের চাষ আবাদ করেন। সেচ প্রকল্প হওয়ার কারণে তাদের আখেল ফলন খুবই ভাল হয়েছে। এ বছর তাদের জমিতে ২০৮ নম্বর অর্থাৎ যা “চাঁদপুর গ্যান্ডারি” নামে পরিচিত এটিই তারা আবাদ করেছেন। চাঁদপুর গ্যান্ডারি স্থানীয়ভাবে খুচরা এবং পাইকারি দুইভাবে বিক্রি হচ্ছে। কারণ এই আখ খুব সহজেই চিবিয়ে খাওয়া যায়।

মদনের গাঁও গ্রামের আরেক কৃষক বাবুল গাজী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমাদের এলাকায় মাত্র আখ বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ১ মাসের মধ্যে সব আখ বিক্রি হয়ে যাবে। তবে কিছু উঁচু জমির আখ দেরিতে বিক্রি হয় এবং ওইসব কৃষক দামও ভাল পান। এখন পাইকাররা এসে পুরো জমির আখ একসাথে ক্রয় করে নিচ্ছে।

আখের পাইকারী ব্যবসায়ী রমজান আলী মিজি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এ বছর আখের ফলন খুবই ভাল হয়েছে। এই এলাকায় চাঁদপুর গ্যান্ডারি, রং বিলাস, ইশ^রদি বিএসআরআই-(৩৪), ৪১ ও ৪২ আবাদ হয়। স্থানীয় জাতের আখের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশী। আমি এইসব আখ ক্রয় করে ঢাকা এবং নোয়াখালিতে নিয়ে বিক্রি করি।

চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা নোয়াখেরুল ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ ভাল থাকায় চাঁদপুরে আখার আবাদ খুবই ভাল হয়েছে। আখ লাভজনক হওয়ার কারণে কৃষকদেরও দিন দিন আখ আবাদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। চাঁদপুর গ্যান্ডারি নামক আখ এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads