• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর আবাদ

সংগৃহীত ছবি

কৃষি অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর আবাদ

  • প্রকাশিত ২১ আগস্ট ২০১৯

মাটির গুণগত মান ও আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে মুজিবনগরে সৌদি আরবের খেজুর চাষ শুরু হয়েছে। ‘মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়া কেন্দ্র মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স চত্বরে ২০১৪ থেকে খেজুরের চাষ শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্য দেশ কাতার, ওমান, দুবাই, ইরান, সৌদি, সোদান থেকে আজওয়া, আম্বার, লুলু, খালাছ, ডেগলেটনুর, কালমি, মাকতুম, ছুক্কারি, বাহারি ও মারইয়াম ১০টি জাতের বীজ নিয়ে আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, কুষ্টিয়া। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বীজ বপন করা হয় কুষ্টিয়া সেচ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। সেই বীজের দুই হাজার চারা রোপণ করা হয় মুজিবনগর কমপ্লেক্সে। বপনের সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বেশ কিছু গাছে ফলও আসে। মধ্যপ্রাচ্যে যে মান ও স্বাদের ফল হয়, সেই মানের ফলই গাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে দেশেই এ ফল উৎপাদনের দ্বার খুলতে যাচ্ছে। ১০টি জাত নিয়ে মেহেরপুরের মুজিবনগরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে এ চাষ। কয়েকটি জাত বাছাই করে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে বলে জানান কৃষিবিজ্ঞানীরা। খেজুরগাছের পরাগায়ণ পোকা-মাকড়, মৌমাছি কিংবা বাতাসের মাধ্যমে খুব কম হয়। তাই হাত দিয়ে অথবা মেকানিক্যাল পদ্ধতিতে পরাগায়ণ করতে হবে। বাগানে ১০০টি স্ত্রী গাছের সঙ্গে মাত্র ১টি পুরুষ গাছ থাকলেই পরাগায়ণের জন্য যথেষ্ট। পরাগায়ণ করতে হলে স্ত্রী গাছের ফুল চুরমি ফেটে বাইরে আসার পর পুরুষ গাছের পরাগরেণু পাউডার নিয়ে স্ত্রী গাছের পুষ্পমঞ্জরিতে লাগিয়ে দিয়ে চুরমির অগ্রভাগ রশি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। ২/৩ দিন পর পর পুনরায় পরাগায়ণ করলে ভালো ফল হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়া জোনের আওতায় মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স চত্বরে খেজুর বাগানের তত্ত্বাবধায়ক মহিবুল ইসলাম বলেন, খেজুরের চারা রোপণ করতে হলে ৩ ফুট গভীর ও ৩ ফুট লম্বা এবং ৩ ফুট আড়াআড়ি গর্ত বানাতে হবে। ওপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি ওপরে দিতে হবে। গর্তের মাটি ১-২ দিন রোদে শুকিয়ে নিলে ভালো হয়। পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মাটির সঙ্গে গুড়া বিষ মেশাতে হয়। প্রতিটি গাছের গোড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি গোবর সার মেশাতে হবে। ডা. সজীব উদ্দিন স্বাধীন বলেন, খেজুর খুবই পুষ্টিমান।

১ কেজি খেজুর ৩ হাজার ৪৭০ ক্যালরি শক্তি জোগান দেয়। খেজুরে গ্লুুকোজ, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, তামা, ক্যালসিয়াম, ফলিক এসকরবিক অ্যাসিডসহ নানা উপাদান রয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শহীদুল্লাহ জানান, এই খেজুর চাষে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বর্ষাকালে পুষ্পমঞ্জরিকে ঢেকে দিতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যের মতোই ফল উৎপাদন করা সম্ভব। না হলে খেজুরচাষে সুফল পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, মেহেরপুরের মাটিতে সব ধরনের আবাদ সম্ভব। এখানকার আবহাওয়া ও মাটি খেজুর চাষের জন্য উপযোগী।

রেজাউল করিম, মুজিবনগর

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads