• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
চলনবিলে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট, বিপাকে দুই হাজার খামারী

চলনবিলে প্রতিদিন নৌপথে ভাটির দিকে নিয়ে যাচ্ছে গোখাদ্য খড়।

ছবি : বাংলাদেশের খবর

কৃষি অর্থনীতি

চলনবিলে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট, বিপাকে দুই হাজার খামারী

  • চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৭ আগস্ট ২০১৯

গোচারণ ভূমি পানিতে ডুবে যাওয়ায় ও ক্রমাগত লোকসানের কারণে বোরো ধানের আবাদ কমে যাওয়ায় চলনবিলের অধ্যুষিত উপজেলাগুলোতে গো খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভাটি এলাকায় গোখাদ্যের সংকট আরো বেশি হওয়ায় গোখামারীরা চলনবিল এলাকা থেকে বেশি দামে খড় ক্রয় করে নৌকাযোগে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে চলনবিলাঞ্চলে ক্রমশই এ সংকট বেড়েছে।

প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রমতে, চাটমোহর পৌর সদরসহ ১১টি ইউনিয়নের সরকারি জরিপে প্রায় ৪’শ গো-খামারী সংখ্যা রয়েছে। জরিপের কাজ এখানো চলছে। তাতে করে গো-খামারীর সংখ্যা আরো বাড়বে। এসকল খামারীদের কাছ থেকে ব্র্যাক, মিল্ক ভিটা, প্রাণ, আকিজ, এসিআইসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দুগ্ধ ক্রয় করেন। গোটা চলনবিলে প্রায় ২ হাজার গবাদি পশুর খামার রয়েছে।

জানা গেছে, চলনবিলের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, তাড়াশ, সিংড়া, গুরুদাসপুরসহ এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে ঘাসের ক্ষেতসহ গোচারণ ভূমি গুলো তলিয়ে গেছে পানির নিচে। মাঠ থেকে কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করতে না পেরে এ এলাকার গরু মহিষের মালিকদের খড়ের উপড় নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।

চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নের হাসুপুর গ্রামের ইয়ার মাহমুদ জানান, প্রতি মন খড় প্রায় ৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাটমোহর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজারের খড় ব্যবসায়ী রিপন হোসেন ও দুলাল মন্ডল জানায়, রংপুর দিনাজপুর থেকে খড় সংগ্রহ করছি। ট্রাক যোগে খড় পৌচ্ছানো বাবদ খরচ পড়ছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। প্রতি হাজার খড় বিক্রি করছি ২ হাজার ৫’শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। খৈল ভূষির দামও বেড়ে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ এলাকার মানুষের পক্ষে গবাদী পশুপালন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

গোখাদ্য সংকটের কারণ হিসেবে তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষক গোডাউনে ধান সরবরাহ করতে না পারায় ক্রমাগত লোকসানের মুখে বোরো ধানের আবাদ কমিয়ে দেওয়ায় কমছে খড় উৎপাদন। যার প্রভাব পরছে গবাদী পশু পালনে। জালেশ্বর গ্রামের কৃষক ওয়াজেদ আলী জানায়, ধানের আবাদে খরচই উঠে না। তাই আবাদ একেবারেই বাদ দিয়ে ঐ সকল জমিতে অন্য ফসল চাষাবাদ করছি।

খড় বিক্রেতারা জানান, নিচু এলাকা চলনবিলাঞ্চলে ব্যাপক ভাবে বোনা আমন ধানের চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু বোনা আমন ধানের খড় পশু তেমন না খাওয়ায় এ এলাকার মানুষকে বোরো ধানের খড়ের উপর নির্ভর করতে হয়।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এ সংকট বেশি হয়ে থাকে। যশোর, নওগা, মাগুড়া, ঝিনাইদহসহ দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রাক যোগে রোপা আমন ধানের খড় চলনবিলাঞ্চলে এনে বিক্রি করি। ট্রাক ভাড়া বেশি হওয়ায় খড়ের দাম ও বেশি পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে খামারীদের বেশি দামে খড় কিনে গবাদী পশুকে খাওয়াতে হয়। বর্তমান প্রতি একশ আটি খড় বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩শ টাকায়।

এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ মহির উদ্দিন জানান, বর্ষাকালে কাঁচাঘাসের উৎপাদন কম হওয়ায় খামারীরা বিকল্প হিসেবে দানাদার খাদ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads