• মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
টমেটোর রাজ্যে কমেছে টমেটো চাষ

গোদাগাড়ীর টমেটোর একটি বীজতলা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

কৃষি অর্থনীতি

টমেটোর রাজ্যে কমেছে টমেটো চাষ

  • প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি

টমেটোর রাজ্য বলে খ্যাত রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে চলতি মৌসুমে কমেছে টমেটো চাষ। এ অঞ্চলের কৃষকেরা পর পর কয়েক বছর টমেটো চাষ করে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে টমেটো চাষ থেকে। দেশের সিংগভাগ টমেটো চাষ হতো এ উপজেলায়।

গোদাগাড়ী কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় টমেটো চাষের জন্য চলতি মৌসুমে বীজতলা তৈরী হয়েছে ১৬ শ’ ২০ শতক জমিতে। গত বছর বীজতলা হয়েছিল ২৬ শ’ ৫০ শতক জমিতে। গত বছরের তুলনায় এবার বীজ তলা তৈরী হয়েছে ১ হাজার ৩০ শতক কম।

গোদাগাড়ী কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা যায় গত বছর এ অঞ্চলে টমেটো চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৬ শ’ ৫০ হেক্টোর জমিতে। চলতি মৌসুমে টমেটো চাষের লক্ষমাত্রা গত বছরের সমান ধরা হলেও টমেটো চাষ কম হবে বলে ধারনা করছে কৃষি অফিস। তবে বীজতলা থেকে জানা যায়, এবার প্রায় ৩ ভাগের ১ ভাগ কম টমেটো চাষ হবে এ অঞ্চলে।

এ অঞ্চলের টমেটো দেশের চাহিদা মেটার পাশা পাশি অর্থনীতিতেও ব্যপক সাড়া ফেলেছিল। টমেটো চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষক অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়ে ছিল। বর্তমানে টমেটো চাষ দিন দিন কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে পরেছে বিরুপ প্রভাব।

টমেটো চাষ কমে যাওয়ার কারন হিসাবে টমেটোর নায্য মূল্য না পাওয়াকে বেশী দায়ি করেছে টমেটো চাষীরা। যখন টমেটোর ভরা মৌসুম তখন ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে টমেটো দেশে আসায় কৃষকরা টমেটোর দাম কম পায়। যার ফলে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয় এ অঞ্চলের টমেটো চাষিরা। এছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানী টমেটোর বীজ নিয়ে কৃষকদের সাথে প্রতারনা করায় কৃষকরা টমেটো চাষে আগ্রহ হারিয়েছে।

এ উপজেলায় সব চাইতে বেশী টমেটো চাষ হয় মাটিকাটা, গোদাগড়ী, গোগ্রাম ও চরআষাঢ়িয়া দহ ইউনিয়নে। মাটিকাটা ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ কৃষি সহকারী অফিসার আশরাফুল ইসলাম জানায়, এবার মাটিকাটা ইউনিয়নে টমেটো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ শ’ ৫০ হেক্টোর জমি। গত বছর টমেটো চাষ হয়েছিল ৭ শ’ হেক্টোর জমিতে। এবার টমেটোর বীজতলা তৈরী হয়েছে ২ শ’ শতক জমিতে। গত বছরের তুলনাই এবার বীজতলা প্রায় ৩ গুন কম হয়েছে। তিনি আরো বলেন, টমেটো চাষিরা টমেটোর নায্য মূল্য না পাওয়ায় টমেটো চাষ থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা।

উপজেলার বোগদামারী গ্রামের কৃষক লালু বলেন, গত বছর ৪ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে ছিলাম। টমেটো চাষ করে গত বছর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তাই এবার ২ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করব। রানী নগর গ্রামের পিয়ারুল ইসলাম বলেন, টমেটো চাষ করে বার বার লশ হওয়ায় এবার আর টমেটো চাষ করেনি।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো টমেটোর চারা লাগানো শেষ হয়নি, তাই এখনি সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না টমেটো চাষ কমবে কি কমবেনা। গত বছর টমেটো চাষিরা টমেটোর মূল্য কম পাওয়ায় হয়তো চাষ কম হতে পারে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads