• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
ads
বিনা-১৭ ধান চাষে ব্যাপক সফলতা ধামইরহাটে

নওগাঁর ধামইরহাটে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে কৃষক। উপজেলার দয়ালের মোড় নামক মাঠ থেকে তোলা ছবি

ছবি: বাংলাদেশের খবর

কৃষি অর্থনীতি

বিনা-১৭ ধান চাষে ব্যাপক সফলতা ধামইরহাটে

  • ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ অক্টোবর ২০১৯

নওগাঁর ধামইরহাটে চলতি আমন মৌসুমে বিনা-১৭ ধান চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে কৃষক। ধানের রোগবালাই না থাকায় এবং আগাম ধান পাকায় কৃষকরা সহজে এ ধান ঘরে তুলতে পারছে। আগাম ধান কাটার ফলে ওই জমিতে রবি শস্য চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ফলে একই জমিতে বছরে তিন ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে উপজেলা কৃষি বিভাগ দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত বিনা-১৭ ধান চাষে কৃষকদের বিভিন্নভাবে প্রণোদনা ও উৎসাহ প্রদান করছে। প্রথম বছর কৃষকরা মাত্র ৭ হেক্টর, ২০১৮ সালে ২০ হেক্টর এবং এ বছর ৫০ হেক্টর জমিতেবিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করেছে। এ ধান অনেকটা জিরাশাইলের মত সরু। ভাত খেতে খুব সুস্বাদু। উচ্চ ফলনশীল ও খরা সহিঞ্চু এ জাতের ধান বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য বিশেষ উপযোগী। বিশেষ করে এ ধান চাষ করতে ২০-৩০ ভাগ সার এবং ৩০ ভাগ পানি খরচ কম হয়। এছাড়া ধান গাছ খাটো হয় এবং খুব শক্ত হওয়ার কারণে ঝড়ে ধান গাছ হেলে পড়ে না। অন্যান্য ধানের তুলনায় এজাতের ধান গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। সবচেয়ে বড় গুণ এ জাতের ধান আগাম পাকতে থাকে। মাত্র ১২০ দিনের মধ্যে ধান কাটা যায়। আশ্বিন মাসের শেষে ধান পাকতে থাকে। এ সময় পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায়। ফলে কৃষক অল্প খরচে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারে। ধান গাছের খড় গো খাদ্য হিসেবে মাঠ থেকে বিক্রি হয়। ধান কাটার পর কৃষক ওই জমিতে হালচাষ করে রবি শস্য বিশেষ করে আলু, সরিষা ও গম চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়। এক কথায় একই জমিতে বছরে তিন ফসল পেতে কৃষকরা বর্তমানে বিনা-১৭ ধান চাষে ঝুঁকে পড়ছে।

উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত শিববাটি গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, দুই একর জমিতে তিনি বিনা-১৭ জাতের ধান তিনি চাষ করেছেন। গত বছরও তিনি এ ধান চাষ করেছিলেন। বর্তমানে ধান পাকতে শুরু করেছে। আশা করি ১ সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটতে পারব। ধান কেটে ওই জমিতে রবি শস্য হিসেবে আলু চাষ করব। ফলে বছরে তিনি একই জমিতে তিনি ফসল চাষ করতে পারবেন।

পশ্চিম শালুককুঁড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, তিনিও ২ একর জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান চাষ করেছেন। এ ধানের রোগ বালাই কম। তাছাড়া সার ও পানি খরচ অনেক কম। কম সময়ে ধান ঘরে তোলা যায়। একর প্রতি ৬৫-৭০ মণ হারে ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ করেন। ধান কাটার পর তিনি ওই জমিতে সরিষা চাষ করবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.সেলিম রেজা বলেন, বিনা-১৭ জাতের ধান একর প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ মণ হারে ফলন হয়। এ এলাকার কৃষকরা অধিকাংশ জমিতে ভারতের স্বর্ণা-৫, রঞ্জিত এবং মামুন স্বণা ধান চাষ করে। এসব ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। বিনা-১৭ জাতের ধানের রোগ বালাই নেই বললেই চলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। তাছাড়া মাত্র  ১১২ দিন থেকে ১২০ দিনের মধ্যে ধান কাটা সম্ভব। সার ও সেচে প্রায় ৩০ ভাগ কম খরচ হয়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads