• শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ইউনুছের কলা যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে

নরসিংদীর পলাশে কলা চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন ইউনুছ মিয়া

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

কৃষি অর্থনীতি

কলা চাষে স্বাবলম্বী

ইউনুছের কলা যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে

  • নরসিংদী প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০১ ডিসেম্বর ২০১৯

সাইফুল ইসলাম পলাশ-নরসিংদী থেকে

পরিকল্পনা,সাধনা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে কাজ করলে জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। আদর্শ কৃষক ইউনুছ মিয়া তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের চরসিন্দুর গ্রামের মৃত ফায়েজ আলীর ছেলে দিনমজুর ইউনুছ মিয়া স্ত্রী সন্তান নিয়ে অভাব অনটনে জীবন পার করছিল। মাথা গুজার ঠাইও ছিলো না কোথাও। মানুষের জমিতে চাষাবাদ করে কোন রকম দিন পার করতো ইউনুছ মিয়া। বছর সাত আগে উদ্দ্যোগ নেয় কলা চাষের। এরপর বিভিন্ন জনের জমি বর্গা নিয়ে গড়ে তুলে বিশাল কলা বাগান। আর এই কলা বাগান দিয়ে ঘুরিয়েছেন নিজের ভাগ্যের চাকা।

ৎসরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলা চাষের লাভ দিয়ে বর্তমানে কিছু খরিদ ও কিছু জমি বর্গা নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশাল কলা বাগান। কম খরচে বেশি লাভ হওয়াতে সাগর, চাম্পা,গেরা ও সবরী জাতের কলা চাষ করেন ইউনুছ মিয়া। কলা চাষী ইউনুছ জানান, বর্তমানে সব মিলে ৯ বিঘা জমিতে তার দুই হাজারের উপরে বিভিন্ন জাতে কলা গাছ রয়েছে। গাছ গুলোতে এ বছর থোকে থোকে কলার ছড়ি পরেছে। প্রতিটি কলার ছড়ি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারছে। কলার বাগান দিয়ে তিনি অর্থনৈতিক ভাবে অনেক স্বচ্ছল হয়েছে। তার বাগানের কলা স্থানীয় হাট-বাজার ও জেলার চাহিদা মিটিয়ে কলা যায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে।

বর্তমানে তার কলা বাগানে আশানুরুপ ফল আসায় ব্যাপক আর্থিক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ইউনুস মিয়া। ইউনুস মিয়া বলেন, কলা চাষে ঝাঁমেলা অনেক কম, লাভও বেশি। বাজারে কলার অনেক চাহিদা রয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর কলার ফলন ভাল হয়েছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে আল্লাহর রহমত এ বছর কলা থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। এ উপজেলার চরসিন্দুরের কলার আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এখানকার কলা দেখতে অনেক পুষ্ট ও স্বাদে ভরপুর। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এ কলার বেশ কদর রয়েছে। কৃষক ইউনুস মিয়া প্রথমে ভাল জাতের চারা সংগ্রহের জন্য উপজেলার চরনগরদী বাজার থেকে বিভিন্ন জাতের কলার চারা সংগ্রহ করে প্রথমে বর্গা জমিতে রোপন করেন। পরে তা থেকে আস্তে আস্তে লাভ দিয়ে কিছু জমি খরিদ ও কিছু জমি বর্গা নিয়ে বর্তমানে মোট ৯ বিঘা জমিতে বিশাল কলা বাগান গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে সময়মত উপরি সার প্রয়োগ, রোগ পোকা দমন, সেচ, নিড়ানিসহ অন্যান্য পরিচর্যা ভাল ভাবে করেন। তারই ফলশ্রুতিতে বাগান সুস্থ সুন্দর ও ফলবান হয়ে উঠে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, পলাশ উপজেলায় এ বছর ১৪০ হেক্টর জমিতে অমৃত সাগর,মেহের সাগর,চম্পা,গেরা সুন্দর,সবরীসহ বিভিন্ন জাতের কলা চাষাবাদ হয়েছে। হেক্টরে প্রতি ৪২ মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে । কলা চাষের জন্য পলাশে উপজেলার মাটি উপযোগী, মানসম্মত জাতের কলা চাষের জন্য কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি। কলার একটি জনপ্রিয় ফল। কলায় প্রচুর আয়রন রয়েছে। যা সারা বছর ফলে । কলা বাগান স্থাপন করলে কম খরচে ভাল ফলন পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads