• শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৬
ভূঞাপুরে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে স্বাবলম্বী দুই ভাই

ভূঞাপুরে কয়েড়া গ্রামে বায়োফ্লকে মাছ চাষ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

কৃষি অর্থনীতি

ভূঞাপুরে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে স্বাবলম্বী দুই ভাই

  • প্রকাশিত ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

আব্দুল লতিফ তালুকদার, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শুরু হয়েছে বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ। আধুনিক এ পদ্ধতিতে অল্প পুঁজি ও স্বল্পস্থানে এবং কম সময়ে এ মাছ চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় ইতমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এলাকায়। এর ফলে একদিকে যেমন বেকার সমস্যা দূরীকরণ হচ্ছে তেমনি আমিষের ঘাটতি মেটাতেও রাখছে ভূমিকা। এমনটাই দাবী উদ্যোক্তা ইমন ও সুমনের।

পুকুরে নয়, মাছ চাষ হচ্ছে বাড়ীর আঙ্গিনায় ঘরের মধ্যে। অনেকটা বেমানান শুনালেও এমনটাই বাস্তবায়িত হচ্ছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের কয়েড়া গ্রামে। পতিত পরিত্যাক্ত জায়গায় ট্যাংকি স্থাপন করে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে মাছের। অল্প পূঁজি ও স্বল্পস্থানে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষের আধুনিক ঘরোয়া এ পদ্ধতিই হচ্ছে বায়োফ্লক। এটি এমন একটি এ্যাকোয়াকালচার সিস্টেম যা কার্যকর ভাবে পুষ্টি উপাদানের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে। পানিতে বিদ্যমান, অক্সিজেন, কার্বন ও নাইট্রোজেন এর সাম্যাবস্থা নিশ্চিত করে পানির গুণাগুণ ও ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করে। এটি একটি পরিবেশ বান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি যা ক্রমাগতভাবে পানিতে বিদ্যমান সকল পুষ্টি উপাদানগুলোকে পুনঃ আবর্তন করার মাধ্যমে পুনঃ ব্যবহার নিশ্চিত করে।

এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ আগে দেখেনি এলাকাবাসী। এ জন্য নানা কথা শুনতে হয়েছে উদ্যোক্তাদের। শুরুর দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখলেও এখন অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ইমন বলেন, এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে আমার মা প্রথমে বাধা দিলেও পরে মাছ দেখে অনেক খুশি। পড়াশুনার পাশাপাশি বায়োফ্লক ট্যাংকে পরিচর্যার সহযোগীতা করছেন অন্য দুই ভাই। চাকুরির পেছনে না ছুটে দেখছেন আরো বড় পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। ইমন ও সুমন আরো বলেন, মাত্র ষাট হাজার টাকা খরচ করে দশ হাজার লিটার পানির ধারণ ক্ষমতার দুটি ট্যাংকে বিশ হাজার শিং,পাবদা, টেংরা পোনা চাষ করছেন তারা। দুটি ট্যাংক থেকে খরচ বাদে তিন মাসেই প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তারা।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আধুনিক এ প্রযুক্তিতে মাছ চাষ করে অল্প বিনিয়গে স্বল্প জায়গায়, কম সময়ে বেশি লাভবান হওয়া যায়। তাছাড়া বেকার সমস্যা দূরীকরণে এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ হতে পারে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। অচিরেই আমরা মৎস্য অফিস থেকে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়াসহ অন্যান্য আর্থিক সহযোগীতা যাতে পায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads