• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭
আখাউড়ায় সবজিতে মিটছে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

কৃষি অর্থনীতি

আখাউড়ায় সবজিতে মিটছে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন সবজি চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়রা তাদের নিজস্ব পতিত জমি, বাড়ির আঙ্গিনা ও ছাদে মৌসুম বেধে বরবটি, করলা, লাউ , পুইশাক,লালশাক, ঢেঁড়স, ঝিঙ্গা, বেগুনসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করছে। পৌর শহরসহ উপজেলার বেশীরভাগ এলাকায় প্রান্তিক কৃষকসহ সাধারণ লোকজন সবজি চাষে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কীটনাশকমুক্ত ওইসব শাক সবজি উৎপাদন করে নিজ ও পারিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে তারা বাড়তি আয় করছেন। কম শ্রমে বেশী লাভ হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবেও এ চাষ করছেন কৃষকরা।

অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্যার কারণে নিজেদের পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে সবজি চাষ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় বাজারে সবজি বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের উৎসাহ বৃদ্ধি পেয়েছে ।

সরেজমিনে পৌর শহরের তারাগন,দেবগ্রাম,নারায়নপুর,উপজেলার কালিনগর,সাতপাড়া,হীরাপুর, বাউতলা, উমেদপুর আজমপুর,চানপুসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সবজি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এসব এলাকার বেশীরভাগ কৃষক মৌসুম ভেদে বারো মাসই সবজি আবাদ করছেন। কেউ নিজেদের পতিত জমিতে, কেউ বাড়ির আঙ্গিনায় আবার কেউ করছেন বাড়ির ছাদে। বেশী ভাগ লোকজনই কৃষি অফিসের পরামর্শে এ চাষ করছেন।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে কৃষককের মাঝে স্বল্প মেয়াদী শাক সবজি ও মধ্যমেয়াদী লতা জাতীয় শাক সবজির বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। একজন কৃষককে লাল শাক, ডাটা শাক, কলমি শাক, পুইশাক, পালং শাক,শসা, মিষ্টি কুমড়া, করলাসহ ১৩ প্রকারের সবজি বীজ দেওয়া হয়।

কৃষক মো. ফরিদ মিয়া বলেন, কোনো প্রকার কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে লাউ,করলা,লাল শাক করা হয়েছে। জমি তৈরি করে বীজ লাগানোর এক সপ্তাহরে মধ্যেই চারা গঁজিয়ে উঠে। এরপর পরিচর্যা,পানি,সার ও মাচা তৈরিসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। গত ১০ দিন ধরে চলছে ওই সব সবজি বিক্রি। দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ করায় আশা করছি নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ভালো টাকা আয় হবে।

মো. আব্দুস সালাম বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়ি সংলগ্ন পতিত জমিতে মৌসুম অনুযায়ী করলা, বরবটি, ঢেড়স, কাকরল, সিম, টমেটো,পুইশাকসহ নানা প্রজাতির সবজি তিনি চাষ করছেন। এ চাষে বেশ সফলতা ও পান তিনি। উৎপাদিত সবজি থেকে বাড়তি আয় করে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ চালানো হচ্ছে।

করোনার এই সময়ে বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ করে পরিবারের সবজি চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয় করছেন খোদেজা বেগম। তিনি শাক, ডাটা শাক, ক পুইশাক,শসা, করলা বেশ কয়েক প্রকারের সবজি চাষ করছেন। বর্তমানে পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিতে ভালো আয় হওয়ায় তার উৎসাহ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন ওই জায়গায় কোন সময় কিছু করা হতো না। কৃষি অফিসের পরামর্শে সবজি করায় বেশ সফলতা পেয়েছেন।

ফজলুল হক বলেন, বাড়ির ছদে করলা, বেগুন, কাকরলসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজি করা হয়। সবজির ফলন ভালো হওয়ায় এখন আর সবজি বাজার থেকে ক্রয় করতে হয় না।

লিয়াকত হোসেন বলেন মৌসুম অনুযায়ী বার মাসই তিনি লাল শাখ, কাকরল, শিম ও লাউসহ বিভিন্ন প্রকারের সবজি আবাদ করছেন। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ বেশী ভাগই সবজির আয় থেকে হচ্ছে। গত ৩ বছর ধরে সবজি চাষ করছেন। সবজি থেকে বছরে ৭০ হাজার টাকার উপর আয় হয় বলে জানায়।

তিনি বলেন, এ জায়গায় যদি ধান আবাদ করা হতো তাহলে ৫ হাজার টাকার উপর ধান পাওয়া যেতো না।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বারমাসই নানা প্রকার সবজি আবাদ হচ্ছে। কৃষককের মাঝে স্বল্প মেয়াদী শাক সবজি ও মধ্য মেয়াদী লতা জাতীয় শাক সবজির বীজ বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। সেইসাথে ফলন বৃদ্ধিতে সব সময় স্থানীয় কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়। কম খরচে লাভ বেশী হওয়ায় বানিজ্যিক ভাবে শুরু হয়েছে বিভিন্ন ধরনরে সবজি চাষ।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads