• বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭
 নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আলু উত্তোলন শুরু

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

কৃষি অর্থনীতি

নতুন আলু বাজারে, বিক্রি ৭৮ টাকা কেজি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আলু উত্তোলন শুরু

  • কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২২ নভেম্বর ২০২০

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। রোববার উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল হাই আগাম আলু উত্তোলন করেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খবর পেয়ে ফসলের মাঠেই কেজি ৭৮ টাকা করে কিনে নিয়েছে। ফলন কম হলেও দেখেন লাভের মুখ। এ ফসলটি রুপ নিয়েছে এ এলাকার মানুষের ভাগ্য বদল ও স্বাবলম্বীর ফসলে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা আলু চাষে বিখ্যাত। এক সময়ের বালু মাটিগুলো চাষাবাদের ফলে উর্বর মাটিতে পরিণত হয়েছে। আগাম ও নমলা আলু চাষাবাদের পাশাপাশি এ জমিগুলোতে ফলছে চার ফসল। এ এলাকার জমিগুলো সোনা ফলা মাটিতে রূপ নিয়েছে। আগাম আলু হয়েছে এ এলাকার কৃষকের ভাগ্য বদল ও স্বাবলম্বীর ফসলে।

এ এলাকার আলু এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান। আর ক’দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এখানকার আলু কেনার জন্য হুমরি খেয়ে পড়বে। ট্রাকে ট্রাকে করে এখানকার আগাম আলু যাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বিকিকিনি হবে দেশের সকল হাট-বাজারে। কৃষকদের হাতে আসবে কাড়ি কাড়ি টাকা। এ ফসলটি এ এলাকার মানুষের শুধু ভাগ্য বা দিন বদলেই করেনি, করেছে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী।

রবিবার উপজেলার উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের কুঠিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই তার ১০ শতাংশ জমিতে রোপনকৃত আগাম আলু উত্তোলন করেছেন। বীজ, সার, পরিচর্যা ও সেচ কাজে খরচ হয়েছে ৭ হাজার ৫ শ’ টাকা। ওই জমিতে আলু হয়েছে ১ শ’ ৫০ কেজি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা খবর পেয়ে ফসলের মাঠেই কিনে নিয়েছে ৭৮ টাকা কেজি দরে। সে আলু বিক্রি করেছে ১১ হাজার ৭ শ’ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে ৪ হাজার ২ শ’ টাকা লাভ হয়েছে। ওই কৃষক আরও ২ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপন করেছেন বলে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেব দুলাল মোহন্ত জানান।এদিকে এবার আগামজাতের আলুর বাম্পার ফলন ও বাজারের দাম ভাল পাবে। গত ক’ বছরের ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন এমনটাই আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়- চলতি বছরে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে।

রনচন্ডী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেব দুলাল মোহন্ত জানান- আব্দুল হাই ১০ শতাংশ জমির আগাম আলু উত্তোলন করেছেন। ১০ শতাংশ জমির আলু মেপে ১৫০ কেজি পাওয়া গেছে। কেজি প্রতি ৭৮ টাকা করে বিক্রি করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। দামও ভাল পাচ্ছে। কৃষকরা লাভের মুখ দেখছে। এখন পর্যন্ত পোঁকা ও রোগ বালাই দেখা দেয়নি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফসল ভাল আছে, অন্যদিকে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। উৎপাদানের ক্ষেত্রে অতীতের সকল রেকর্ড ভাঙ্গবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads