• শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮
চলনবিলের উৎপাদিত ক্ষিরা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে

ছবি: বাংলাদেশের খবর

কৃষি অর্থনীতি

চলনবিলের উৎপাদিত ক্ষিরা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে

  • সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলনবিলের উৎপাদিত ক্ষিরা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জ তাড়াশ উপজেলার দিঘরিয়া ও চরবন্ধনগাছা হাট থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা শত শত টন ক্ষিরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়তগুলোতে পাইকার ও বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে। এ অঞ্চলের উৎপাদিত খিরা বেশির ভাগ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া, পাবনা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। 

জানা যায়, চলনবিলের অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ক্ষিরা চাষ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকার পাশাপাশি সার-বীজ এবং কীটনাশক সুলভ মূল্যে পাওয়ায় ক্ষিরার ফলন ভাল হয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে ক্ষিরা চাষ করতে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয় আর একবিঘা থেকে উৎপাদিত ক্ষিরা বিক্রি করছে ২৫-৩০ হাজার টাকা। এছাড়াও পোকা-মাকড়ের আক্রমনের কম এবং পরিশ্রম কম হওয়ায় ক্ষিরা চাষের প্রতি কৃষকরা ঝুকছে। ক্ষিরার আবাদ বেশি হওয়ায় বেচাকেনার জন্য তাড়াশ উপজেলার দিঘুরিয়া, রানীর হাট ও কোহিতসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রতিবছর গড়ে ওঠে প্রায় দশটি মৌসুমি ক্ষিরার হাট। হাটে প্রতি মণ ক্ষিরা ৭৫০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়। 

দিঘরিয়া হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, নাটোরের সিংড়া ও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কৃষকদের উৎপাদিত ক্ষিরা বেচাকেনার জন্য দিঘরিয়া আড়তটি প্রায় ২০ বছর আগে চালু হয়। সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়া জেলার ক্ষিরা চাষীরা এখানে বিক্রি করেন। ভোর থেকে সন্ধ্যা কৃষকেরা ছোট ছোট যানবাহন করে সরাসরি ক্ষেত থেকে ক্ষিরা তুলে হাটে নিয়ে আসেন। পাইকরা পছন্দমতো দাম-দর করে  প্রতিদিন শতশত ট্রাক ক্ষিরা কিনে নেয়।  এবছর হাটে প্রচুর ক্ষিরা আমদানি হওয়ায় ওজনের পরিবর্তে বস্তা চুক্তিতে বিক্রি করা হয়। প্রকারভেদে প্রতি ছোট বস্তা ক্ষিরা বিক্রি হচ্ছে ২৬০থেকে ৩২০ টাকা এবং প্রতি বড় বস্তা বিক্রি হয় ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এপ্রিল পর্যন্ত হাটগুলোতে ক্ষিরা কেনাবেচা হয়। 

দিঘরিয়া হাটের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, তাড়াশ অঞ্চলের উৎপাদিত খিরার মান ভালো এবং দামও কম। ক্ষিরার মান ভালো হওয়ায় কদরও বেশি। রাজধানী ঢাকাসহ পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ঢাকার কারওয়ান বাজার ও নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খিরা রপ্তানি হচ্ছে।

উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের দিঘরীয়া গ্রামের কৃষক আহমেদ আলী জানান, এবছর একবিঘা জমিতে ক্ষিরার আবাদ করতে খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। খরচ বাদে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। একই নজরুল ইসলাম ও জালাল উদ্দিন, আগে অনেকেই জমি লিজ নিয়ে ক্ষিরা চাষ করতো। কিন্তু বর্তমানে লাভ হওয়ায় কৃষকরাও ক্ষিরা চাষ করছে। বর্তমানে এলাকায় ক্ষিরা চাষের জন্য জমি লিজ পাওয়া যায় না। 

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, চলনবিলে ক্ষিরা চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় ক্ষিরাচাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেখা যায়, প্রতি বিঘা  জমিতে খরচ বাদে ৪০-৪৫ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ক্ষিরাচাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরনসহ বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads