• শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
ads
হ্যাঁ, আমরাও পারি আমরাও পারব

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্লেষণ

ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়

হ্যাঁ, আমরাও পারি আমরাও পারব

  • আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া
  • প্রকাশিত ১৯ মে ২০১৯

একবার না পারিলে দেখ শতবার। আবহমানকাল থেকে আমরা শুনে আসছি এই কথাটি। তবে একবার না, আমরা পরপর ছয়বার পারিনি। সীমিত ওভারের ছয়টি প্রতিযোগিতায় আমরা ফাইনালে উঠেছিলাম। জয়ের স্বপ্নে আমরা ছিলাম বিভোর। কিন্তু না, স্বপ্ন পূরণ হয়নি। পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে, বুকভরা দীর্ঘশ্বাস ও বেদনাহত চিত্তে আমাদের খেলার মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। অবশেষে আমাদের প্রত্যাশার রজনী পোহাল। সোনার হরিণ ধরতে পেরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলাম আমরা। গত শুক্রবার ডাবলিনের মালাহাইডে ত্রিদেশীয় সিরিজে শক্তিশালী ওয়েষ্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে এক অবিশ্বাস্য বিজয় মুকুট ছিনিয়ে আনল আমাদের সোনার ছেলেরা, মাশরাফির টাইগাররা।

আজ এই আনন্দঘন মুহূর্তে, বিজয়ের শোভাযাত্রায় উচ্ছ্বাস-আবেগসিক্ত মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের মানসপটে ভেসে আসে এক কালের কুজ্ঝটিকাময়, কলঙ্কময় দিনগুলোর কথা, যখন পশ্চিমা পাঞ্জাবি চক্র পাকিস্তান ক্রিকেট টিমে একজন বঙ্গসন্তানকেও অন্তর্ভুক্ত করত না। উপরন্তু তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলত, বাঙালিরা চাষাভুষার জাত, তারা ক্রিকেট খেলার কী বোঝে। আল্লাহর অসীম রহমতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে আমরা যখন দেশ স্বাধীন করলাম তখন থেকেই বাংলার দামাল ছেলেরা বিশ্বের ক্রিকেট অঙ্গন কাঁপাতে শুরু করেছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজ অকপটে বলতে চাই— ১৬ই ডিসেম্বর ৭১-এ দেশ স্বাধীন হলে যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলাম, তেমনি আর একবার আনন্দ গৌরবে উদ্বেলিত হয়েছিলাম যেদিন বিশ্ব ক্রিকেট আসরে বাংলার অহঙ্কারী টাইগাররা পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। তারপর থেকেই বিশ্ব ক্রিকেট জগৎ কাঁপানো জয়যাত্রা আমাদের অব্যাহত রয়েছে।

এবারে ডাবলিনের মালাহাইডে গত শুক্রবারের ম্যাচটি আমাদের জন্য অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা ছিল না। প্রথম পর্বের তিনটি খেলাই আমরা জিতেছি সদর্পে। আয়ারল্যান্ডের সাথে একটি খেলা বৃষ্টির জন্য পরিত্যক্ত হলে আমরা সর্বমোট ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে গিয়েছি। আমাদের প্রতিপক্ষ ওয়েষ্ট ইন্ডিজ মাত্র ৯ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে এসেছে আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। সে বিবেচনায় আমরা বিজয়ের ব্যাপরে ছিলাম দৃঢ় প্রত্যয়ী। কিন্তু আমাদের নিশ্চিত বিজয়ের পথে বিরূপ প্রকৃতি এসে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বৃষ্টির জন্য খেলা স্থগিত হলে সৃষ্টি হয় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হলে ২৪ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংগ্রহ করে ১৫২ রান। কিন্তু অভিশাপ নেমে আসে আমাদের মাথায়। ডার্কওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি যাকে আমরা বৃষ্টি আইন বলে জানি সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জেতার জন্য টার্গেট দেওয়া হয় ২১০ রান। এটা ছিল অকল্পনীয়, পাহাড় পেরুবার শামিল। এ ছিল এক ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ মহাসমুদ্র পাড়ি দেওয়ার মতো। আমাদের প্রিয় কবি সুকান্ত লিখেছেন, ‘সাবাশ বাংলাদেশ, /এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়,/ জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার/ তবুও মাথা নোয়াবার নয়।’ পরাজয় মানেনি আমাদের সোনার ছেলেরা, পরাভোগ মানেনি টাইগাররা। ক্রিকেট দুনিয়াকে তাক করে দিয়ে, বিমূঢ়-বিস্ময়ে হতবাক করে দিয়ে এক দুরন্ত বিজয় অর্জন করে টাইগাররা।

সামনে বিশ্বকাপের তোড়জোড় চলছে, বিশ্বকাপে খেলার জন্য টাইগাররা ইতোমধ্যে ঘর ছেড়েছে। ডাবলিনের এই বিজয় আমাদেরকে বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী করেছে। চাঙ্গা করেছে। এক স্বপ্ন জয়ের মধ্যদিয়ে আরেকটি বিশাল স্বপ্ন সম্ভাবনার প্রেক্ষিত রচনা করেছে। গোটা জাতি আজ সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে হিসাবনিকাশ শুরু করেছে। যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে হলে দরকার দৃঢ়চেতা সংগঠকের। আমাদের চোখের সামনে সেই উজ্জ্বল ইতিহাস এখনো জ্বলজ্বল করছে, কীভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার চুম্বক দিকনির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর চৌকস নেতৃত্বে বাংলাদেশের টাইগাররা ক্রিকেটের অত্যুজ্জ্বল মাইলফলক স্পর্শ করতে পেরেছিল। পরবর্তীতে নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বে সেই অগ্রযাত্রা আজও অব্যাহত আছে। আমাদের জাতির সৌভাগ্য এই যে, আমরা একজন ক্রীড়ামোদী, ফুটবল-ক্রিকেটপাগল প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। যখনই আমাদের টাইগাররা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর খেলায় অংশ নেয়, জননেত্রী শেখ হাসিনা গভীর রাত জেগে হাতে তসবিহ নিয়ে পায়চারি করে আমাদের বিজয় কামনায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। আমরা আজ প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সিরিজের বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। সেদিন আর দূরে নয় যেদিন আমরা বিশ্বকাপ জয় করে ঘরে ফিরব বীরের মতো। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। ক্রিকেট বিশ্বকাপও আমরা জয় করব। গোটা বিশ্বকে জানিয়ে দেব— হ্যাঁ, আমরাও পারি, আমরাও পারব। আমরা রাতের গভীর বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনব ফুটন্ত সকাল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads