• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ads
দেশ সঠিক নেতৃত্বে রয়েছে : ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

ছবি : বাংলাদেশের খবর

বিশ্লেষণ

আপন ভুবন

দেশ সঠিক নেতৃত্বে রয়েছে : ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ আর্থসামাজিক অনেক সূচকে উন্নতি করেছে। র্থনৈতিকভাবে অনেক দেশ থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ।

সামাজিক সূচকেও এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ দেশ এখন সঠিক নেতৃত্বে রয়েছে। তবে উন্নয়ন, দেশপ্রেম, দুর্নীতিরোধ, সুশাসন যে কথাই সামনে আসুক, আমাদের বারবার বঙ্গবন্ধুর কাছে ফিরে যেতে হবে। আমাদের উন্নয়নে বড় বাধা হচ্ছে, আমাদের অসততা ও দুর্নীতি। বাঙালি পরিশ্রমী ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জাতি। সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে মূল লক্ষ্যে পৌঁছানোর ইতিহাস আমাদের আছে। তবে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই আছি।

এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ গতকাল অতিথি হয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশের খবরে। ‘সুবর্ণরেখায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক উপাচার্য কথা বলেন বিভিন্ন ইস্যুতে। এ সময় বাংলাদেশের খবর সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন বাংলাদেশের খবরের পরিচালনা, বিনিয়োগ, সম্পাদকীয় নীতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এরপর আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের খবরের সামাজিক কর্মসূচির বিষয়ে অতিথিকে অবহিত করেন। এ সময় তিনি বলেন, সুবর্ণরেখায় বাংলাদেশ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা দেশের আগামী দিনের পথচলার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসমূহ তুলে ধরতে চাই।

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর বেশ লম্বা সময় আমাদের সঠিক নেতৃত্ব ছিল না। পরবর্তী সময়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে নেতৃত্ব শুরু করলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, বিরোধী দলে ছিলেন। যেখানেই ছিলেন দেশ পরিচালনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। তার নেতৃত্বে দেখেছি, তিনি দেশের মানুষের কথা ভাবেন। সাধারণ মানুষের কল্যাণের চিন্তা করেন। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন, তা আমরা জানি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনে গঠিত জাতীয় কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করিনি। তাকে আমরা জানি বই পড়ে। তাঁর সহকর্মীদের কাছ থেকে। তবে বঙ্গবন্ধুকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ আমাদের দিকনির্দেশনা। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধের সময় কারাগারে ছিলেন। কিন্তু আমাদের সঙ্গে ছিল তাঁর ভাষণ। এই শক্তিশালী ভাষণ আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়েছে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে শপথ নিয়ে ফেরার আগেই বাংলাদেশ টেলিভিশন ভাষণটি প্রচার করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এই শিক্ষক মনে করেন, বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। সেটি করতে পারলে আমাদের দুর্নীতি কমবে। বঙ্গবন্ধুকে জানলে এই দেশের কোনো মানুষ দুর্নীতি করতে পারে না। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা নামিয়ে নিয়ে গেছি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাচিন্তা বাস্তবায়ন করা গেলে এ পরিস্থিতি হতো না।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে গেছে জিপিএ-৫ পাওয়া। অভিভাবক চায় তার সন্তান জিপিএ-৫ পাবে। শিক্ষকরাও এই দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যে শিক্ষাব্যবস্থার কথা চিন্তা করেছিলেন, সেটি ছিল- প্রত্যেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। কিন্তু এখন আমরা দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে পারছি না। ফলে দুর্নীতি ও অনিয়ম বাড়ছে।

তবে এখানে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে চার দশকের এই সাংবাদিকতার শিক্ষক বলেন, একজন সৎ সাংবাদিকই পারবেন একজন অসৎ রাজনীতিবিদ ও আমলার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে। দুর্নীতি প্রকাশ পেলে কমতে পারে। কারণ অনেক সময় দেখি দুর্নীতি প্রকাশ পায় না। এখন অনেক সংবাদ দুর্নীতিকে আশ্রয় দেয়। কিন্তু আমাদের শুরু করতে হবে। গণমাধ্যম হবে সমাজের প্রতিফলন। সমাজে সৎ মানুষ আছে, তাদের কথা বলতে হবে। এতে অনুপ্রেরণা তৈরি হবে। সমাজের খারাপ দিক, মন্দ দিকও তুলে ধরতে হবে। এতে ভালোমন্দের পার্থক্য সামনে আসবে। এতে করে যারা দুর্নীতিবাজ, প্রতারক তাদের ব্যাপারে সমাজে সচেতনতা তৈরি হবে। এই দায়িত্ব গণমাধ্যমকে নিতে হবে।

দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলতেন, দেশের কৃষক-শ্রমিক দুর্নীতি করে না। তাই তাদের সচেতন করতে হবে। সাধারণ মানুষ কষ্ট করে জীবনযাপন করে; কিন্তু গণমাধ্যমে তাদের কথা আসছে না। তাদের কথা তুলে ধরতে হবে। ইতিবাচক সাংবাদিকতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে নানা কারণে এটি হয় না। তবে শুরু করতে হবে। একজন সৎ আমলা কীভাবে জীবনযাপন করছেন, একজন সৎ রাজনীতিবিদ কীভাবে জীবনযাপন করছেন, তা তুলে ধরতে হবে। তাদের ঝুঁকি তুলে ধরতে হবে।

এখন শিক্ষকরা ছাত্রদের সময় দেন না। শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ফলে ছাত্রদের কথা শোনা হয় না। কিন্তু ছাত্রদের অনেক কথা বলার থাকতে পারে। এখন সনদভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের সংবেদনশীল হতে শিখতে হবে। এটি আসবে সুশিক্ষা থেকে। যেমনটি বঙ্গবন্ধুর জীবনের দর্শন। মানুষকে ভালোবাসা শিখতে হবে। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করা হয় ঝুঁকির ব্যাপারে। কিন্তু এই দেশের মানুষ তাকে মারতে পারে- এটি বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। আমরা বহু প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এসেছি। তবে আরো বহু পথ পাড়ি দিতে হবে। আমাদের আত্মশুদ্ধির চর্চা করতে হবে। ভুল হলে শোধরাতে হবে।

জাতীয় পতাকার প্রসঙ্গ টেনে আলাপচারিতায় সাবেক এই উপাচার্য বলেন, জাতীয় পতাকা দেশপ্রেমের প্রকাশ। এটি একজন নাগরিকের সম্পদ। কিন্তু জাতীয় দিবস ছাড়া এটি নাগরিক ব্যবহার করতে পারেন না। কিন্তু তা কেন হবে। এটি ব্যবহারে নাগরিককে স্বাধীনতা দিতে হবে। অপব্যবহারের প্রসঙ্গ আসতে পারে। তবে সম্মানের সংস্কৃতির দিকে আমাদের যেতে হবে। উন্নতির দিকে যেতে হবে।

সাংবাদিকতাকে বস্তুনিষ্ঠতা দিয়ে টিকে থাকতে হবে উল্লেখ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকতার জন্য সারা বিশ্বেই চ্যালেঞ্জ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে সম্পাদনা ছাড়া রিপোর্ট যায়। কিন্তু গণমাধ্যমে সেটি করার সুযোগ নেই। তাই বস্তুনিষ্ঠতা দিয়ে টিকে থাকবে সংবাদমাধ্যম। এটি আরো শক্ত করতে হবে। কেবল সত্য প্রকাশ করতে হবে। নতুন নতুন গণমাধ্যম আসছে। একটি প্রতিযোগিতা হবে। তবে সেটি হতে হবে বস্তুনিষ্ঠতার ভিত্তিতে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads