• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বিশ্লেষণ

মায়েদের বুকটা খুলে দ্যাখো

  • ওমর ফারুক শামীম
  • প্রকাশিত ০৯ অক্টোবর ২০১৯

‘আবরার’ বাতাস থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করেন, বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করেন। আবরারের গবেষণাজ্ঞান আকাশচুম্বী। দেশবাসী আবরারের বিচক্ষণ মেধা দেখে বিস্মিত-অভিভূত। অবাক হয়েছে তাবৎ দুনিয়াও। মানবসভ্যতায় আরেক যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিল আবরার। কিন্তু এই অমূল্য আবরার এখন আর আমাদের মাঝে নেই। তাকে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় করে দিয়েছে মানুষরূপী কিছু অসুর।

বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল সায়েন্সের ছাত্র নিরপরাধ আবরার তার নিজ ক্যাম্পাসেই সহপাঠীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন। মেধাবী আবরার, স্বজনদের আহাজারি আর কলঙ্কিত ছাত্ররাজনীতি ভেতরটাকে দগ্ধ করে চলেছে। একটি সম্ভাবনাময় স্বপ্ন হারানোর দুঃসহ কষ্ট প্রতিনিয়ত ব্যথিত করে চলেছে দেশের মানুষকে। বেশি অনুশোচনায় ভুগছি— প্রযুক্তির উন্নতিতে হু-হু করে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এই তরুণই যে একদিন বাতাস থেকে বিদ্যুৎ বানানো আর বজ্রপাত থেকে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের কাজটি করত। এই বাংলাদেশ নিয়ে এতদিন আমি সে স্বপ্নটাই তো দেখছিলাম। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ও আমরা কয়েকজন আবরারকে হারিয়েছি। এর আগেও হারিয়েছি। পূতিগন্ধময় রাজনীতির জাঁতাকলে এভাবে আর কত সম্ভাবনাকে হারাবো; এ কীসের অভিশাপ, কার অভিশাপ?

‘বিশ্বজিৎ’ থেকে ‘আবরার’ পর্যন্ত যে কটা ফুল নৃশংসতার রক্তে ডুবে গেছে, ওই মায়েদের বুকটা খুলে দ্যাখো। সেখানে তোমাদের রাজনীতির দুর্গন্ধ কতটা ঘৃণায় ভরা আর বিচ্ছিরি পূতিগন্ধময়

। রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের উল্টোদিকে তোমরা যা করে চলেছ, তাতে সাধারণ মানুষের দম আটকে যাওয়ার অবস্থা! মানুষের হূদয় দলিত-মথিত করে অভিশাপ নেওয়া ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। বিশ্বজিৎ থেকে আবরার পর্যন্ত দীর্ঘশ্বাসের যে কালো মেঘ তৈরি হয়েছে— ইতিহাস এ থেকে মুক্তি দেবে না সহজে। তাই অসুরদের কবল থেকে রাজনীতি মুক্ত হোক, অথবা রাজনীতি থেকে অসুরদের বিতাড়ন চাই।

লেখক : বার্তা সম্পাদক, বাংলাদেশের খবর

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads