• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
বাংলাদেশে গড় আয়ু কমেছে সবচেয়ে বেশি

বায়ুদূষণের ফলে বাংলাদেশে গড় আয়ু কমেছে সবচেয়ে বেশি

সংরক্ষিত ছবি

জীব ও পরিবেশ

বায়ুদূষণের প্রভাব

বাংলাদেশে গড় আয়ু কমেছে সবচেয়ে বেশি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৮ আগস্ট ২০১৮

বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিনই একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দুই হাজার লিটার নির্মল বাতাস প্রয়োজন। কিন্তু তা বিশুদ্ধ না হলে এই আবশ্যিক উপাদানটিই হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, দূষিত বাতাসের কারণে সৃষ্ট ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, বায়ুদূষণ মৃত্যু ঘটানোর পাশাপাশি কমায় মানুষের আয়ুও।

প্রথমবারের মতো বায়ুদূষণের সঙ্গে মানুষের আয়ুর সম্পর্ক নিয়ে করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু কমেছে প্রায় এক দশমিক তিন বছর। তবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিসর বা শাদের মতো অতিরিক্ত বায়ুদূষণের শিকার দেশগুলোর নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই আয়ু কমার হার অনেক বেশি। গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ প্রজেক্টের করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে পিএম দুই দশমিক পাঁচ মাত্রার বায়ু দূষণের কারণে গড় আয়ু প্রায় দেড় থেকে দুই বছর কমে গেছে। 

গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া, ব্রিংহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটি ইন উতাহ, ইম্পিরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং বোস্টনভিত্তিক হেলথ ইফেক্ট ইনস্টিটিউটের গবেষকরা দেখেছেন, পরিবেশের পিএম দুই দশমিক পাঁচ মাত্রার কারণে গড় আয়ু কমে যাওয়া ১৮৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে দেশের মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে এক দশমিক ৮৭ বছর কম বাঁচেন।

বায়ুদূষণ মানুষের সামগ্রিক গড় আয়ুকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। তারা বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার বাতাসে দুই দশমিক পাঁচ মাইক্রোনের চেয়েও ছোট কণা বা পিএমের উপস্থিতি পেয়েছেন।

গবেষকরা দেখেন, ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম এই সূক্ষ্ম কণাগুলো হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং ক্যানসারের জন্ম দিতে পারে মানবদেহে।

তাদের তথ্যমতে, এ কারণে মিসরে এক দশমিক ৮৫, পাকিস্তানে এক দশমিক ৫৬, ভারতে এক দশমিক ৫৩, সৌদি আরবে এক দশমিক ৪৮, নাইজেরিয়ায় এক দশমিক ২৮ এবং চীনে এক দশমিক ২৫ বছর গড় আয়ু কমেছে।

তবে সুইডেন, কানাডা, ফ্রান্স, জাপান ও জার্মানির মতো দেশগুলোতে বায়ুদূষণের কারণে আয়ুতে প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে কম। দেশ পাঁচটিতে গড় আয়ু কমেছে যথাক্রমে, দশমিক ১৩, দশমিক ২৬, দশমিক ২৮, দশমিক ৩৩ ও দশমিক ৩৯ বছর করে।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, বায়ুদূষণ থেকে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহার বেড়েছে। ১৯৯০ সালে পিএম দুই দশমিক পাঁচ মাত্রার বায়ুতে শ্বাস নিয়ে বিশ্বে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। অন্যদিকে ২০১৫ সালে একই কারণে ৪২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর ২০১৮ সালে এ কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

গবেষকরা আরো দেখেছেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে বায়ুদূষণের ৯৫ শতাংশ পিএম দুই দশমিক পাঁচ মাত্রায় রয়েছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা মাত্রার চাইতে অনেক বেশি। এ অবস্থায় তাদের পরামর্শ, খাদ্য ও চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারগুলোর পাশাপাশি বিশুদ্ধ বাতাস সেবনের ব্যবস্থা করা গেলে মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বাড়তে পারে।

 

 

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads