• শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
পাহাড়ে উন্নয়নের ছোঁয়া

পাহাড়ে উন্নয়নের ছোঁয়া

ছবি : বাংলাদেশের খবর

জীব ও পরিবেশ

পাহাড়ে উন্নয়নের ছোঁয়া

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারি ২০১৯

নানা ধরনের অস্থিতিশীলতার মধ্যেও থেমে নেই পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন। এ এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বেসরকারি পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন থাকলেও সরকারের নির্ধারিত থোক বরাদ্দ আর বৈদেশিক সহায়তায় এগিয়ে চলছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। এরই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে চলছে সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে ৩২০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে এই প্রকল্প।

চার হাজার পাড়াকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দুর্গম পার্বত্য এলাকার ১,৬৫,৩৪৩ পরিবারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, পয়ঃব্যবস্থা ইত্যাদি মৌলিক সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রকল্পের অধীনে শিক্ষা কর্মসূচিতে প্রকল্পভুক্ত ৩-৫ বছর বয়সী ১,৭৩,১৬৫ জন শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য প্রস্তুতকরণের লক্ষ্যে পাড়াকেন্দ্রে শিশু বিকাশ ও প্রাক-শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে চার হাজার পাড়াকেন্দ্রে ৫৪ হাজার শিশু প্রি-স্কুলে অধ্যয়নরত। পাড়াকেন্দ্র থেকে ২ লাখের বেশি শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ক্ষুদ্র ও পশ্চাৎপদ নৃগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিবছর এক হাজার শিক্ষার্থীর খাদ্য, আবাসন, পোশাক-পরিচ্ছদ, শিক্ষা উপকরণ বিনামূল্যে প্রাপ্তিসহ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষালাভ করছে। আবার ৯৪,৭২৪ জন শিশুর জন্য ভিটামিন-মিনারেল পাউডার, কিশোরী ও গর্ভবর্তীদের আয়রন ট্যাবলেট, ১,২২,৪৩৫ জন প্রসূতি মায়ের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ, ৮১,৭১০ জন কিশোরীর জন্য কৃমিনাশক বড়ি বিতরণ, ৫৩৪ জনকে উঘও প্রশিক্ষণ ও ২,০৪৫ জনকে গঘঐও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১২০টি নলকূপ স্থাপন ও সংস্কার, ৫,৪২৩টি স্বল্পব্যয়ী স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা সরবরাহ, ১,৩৫০ জন কেয়ারটেকার প্রশিক্ষণ ও টুলবক্স বিতরণ এবং ১,২০৫টি হ্যান্ড ওয়াসিং ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলায় ২৩৬টি, রাঙামাটি জেলায় ১২০টি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১২০টি ৬৫ ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়। ৪৪০ জন উপকারভোগীকে সোলার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান জেলায় ২১২৪টি, রাঙামাটি জেলায় ১৭৫৩টি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১৫৩৭টি ৬৫ ওয়াট পিক ক্ষমতার সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের আরডিপিপিতে আরো ৫ হাজার সোলার হোম সিস্টেম ৫,৮৯০টি মোবাইল চার্জার এবং ১২ ওয়াট পিকের পরিবর্তে ৩২ ওয়াট পিকের ২,৩১৫টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জুলাই ২০১১ থেকে জুন ২০১৯ মেয়াদে ৫১৫.১৮৪৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২য় পর্যায় শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ৪১টি বিদ্যালয় সংস্কার, ৪০টি নতুন বিদ্যালয় স্থাপন, ৬১টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও ১০৫টি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৬,২৮০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ প্রদান, কৃষক-মাঠ-স্কুল নির্বাচন, কৃষক-মাঠ-স্কুলের প্রদর্শনী প্লটের জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৪টি উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় ২৭০ জন প্রশিক্ষিত মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ও মোবাইল মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ৯৪,০০০ জনকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। ৮টি উপজেলার দুর্গম এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ নেই সেখানে প্রাণিসম্পদের ভ্যাকসিন রাখার জন্য ১১টি সোলার ফ্রিজ স্থাপন করা হয়েছে। রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় ৩০টি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ২৮টি সরকারি অফিস জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অপরদিকে ২০২১ সালের মধ্যে পার্বত্য এলাকার প্রতিটি বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকরণ। পার্বত্য এলাকায় পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য কাপ্তাই লেক ও বড় নদীগুলো খননকরণ। এখানকার উৎপাদিত পচনশীল খাবার সংরক্ষণের জন্য তিন পার্বত্য জেলায় কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ। জেলার সঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করার জন্য পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads