• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬
ads
বৃক্ষশূন্য সিলেট বেতার

ছবি : সংগৃহীত

জীব ও পরিবেশ

বৃক্ষশূন্য সিলেট বেতার

  • সিলেট ব্যুরো
  • প্রকাশিত ০২ জুলাই ২০১৯

যে প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষকে গাছ লাগানের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়, সেই প্রতিষ্ঠানে নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে সব গাছ। কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূতভাবে এই কাজটি করেছে সিলেট বেতার কর্তৃপক্ষ। তাদের এ কর্মকাণ্ডে হতবাক স্থানীয় বৃক্ষপ্রেমীরা।

১৯৬১ সালে যাত্রা শুরু করা সিলেট বেতারে অসংখ্য ছোট-বড় গাছ ছিল। নানা রকম গাছপালায় শোভিত সবুজ এই বেতারের আঞ্চলিক কেন্দ্রটি এখন বৃক্ষশূন্য। কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক গাছ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দু-একটি বাদে সব কয়টি গাছই কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এই গাছগুলো কাটতে সরকারি যে বিধিবিধান রয়েছে তার কোনো কিছুই মানা হয়নি। এছাড়া আরো অভিযোগ রয়েছে গাছগুলো পানির দরে অর্থাৎ দেড় শতাধিক গাছ মাত্র চার লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। যেখানে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয়েছে।

সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমে এমন পরিবেশ বিধংসী কাজে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় বৃক্ষপ্রেমীরা। রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত বৃক্ষপ্রেমী আফতাব চৌধুরী বলেন, সরকারি অফিস হোক আর বাড়িতে হোক না কেন গাছ লাগানোর পর এটার মালিক সরকার। এজন্য অনুমতি নিয়ে গাছ কাটতে হবে। এ ক্ষেত্রে তারা তা মানেনি। এটা একটা অন্যায় কাজ করেছে। এজন্য তাদের বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে পরিবেশবিধংসী এই অপকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, বেতার থেকে সারা দেশের মানুষকে বৃক্ষ রক্ষার সচেতনতার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিধি লঙ্ঘন করে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করা হয়, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই কাজে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বন বিভাগের এবং বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে দাবি করেন সিলেট বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী মানোয়ার হোসেন। কিন্তু অনুমতির কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি।

তার দেওয়া কাগজপত্রে দেখা যায়, মে মাসের ২৮ তারিখে তিনি বন বিভাগের কাছে গাছ কাটার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু এর ২২ দিন আগে তিনি পত্রিকায় গাছ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। অনুমতি পাওয়ার আগে কীভাবে গাছ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিলেন এবং গাছ বিক্রি করলেন, এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এছাড়া যেসব গাছ কাটার কোনো দরকার নেই সেগুলো কেন কাটা হলো সে প্রসঙ্গেও কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি কিংবা কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিলেট বেতার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য গাছ কাটার আবেদন করেছে আমাদের কাছে। কিন্তু আমরা এখনো অনুমতি দিইনি। তদন্ত করে দেখব আসলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো গাছ বা কতগুলো গাছ কাটার দরকার। তারপর সেগুলো কাটার অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু অনুমতি দেওয়ার আগেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা কোনোভাবে সম্ভব নয়। যদি তারা এটা করে থাকেন তাহলে কীভাবে করেছেন, তারাই ভালো জানেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।

নানা রকম বৃক্ষরাজিতে পরিপূর্ণ সিলেট বেতার কেন্দ্র এখন ফাঁঁকা মাঠ। প্রায় ষাট বছরের পুরনো এই কেন্দ্রটি বৃক্ষহীন করার পেছনে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সিলেটের সচেতন মহল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads