• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সম্মত ভারত

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে ঘুড়ি উড়াচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

ইন্টারনেট

এশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সম্মত ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ৩১ মে ২০১৮

প্রতিরক্ষা এবং মেরিটাইম সহযোগিতায় ইন্দোনেশিয়া ও ভারত পরস্পর সম্মত হয়েছে। গতকাল বুধবার ইন্দোনেশিয়ায় সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো ওয়াইডোডোর এ বিষয়ক প্রতিশ্রুতি বিনিময় হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। প্রতিশ্রুতি অনুসারে ইন্দোনেশিয়াকে ভারত সাগরে নৌবন্দর প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে ভারত। এ ছাড়া দুই নেতার মধ্যে ওষুধ এবং প্রযুক্তি খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে কয়েকটি চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে।

জাকার্তায় দুই দেশের নেতারা অন্যান্য ইস্যুর পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাবাঙে অর্থনৈতিক জোন তৈরিতে আলোচনা করেন। সুমাত্রা দ্বীপ এবং মালাক্কা অন্তরীপের নিকটবর্তী সবচেয়ে ব্যস্ত জাহাজ চলাচল রূপ এই সাবাঙ। গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার মেরিটাইম সম্পর্কবিষয়ক মন্ত্রী লুহুত পান্দযাইতান জানান, সাবাঙ বন্দরটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং সাবমেরিনের জন্য আরো উন্নত করা হবে।

প্রেসিডেন্ট ভবনে আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াইডোডো জানান, ভারত কৌশলগত প্রতিরক্ষাবিষয়ক অংশীদার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াও সাবাঙ ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ উন্নয়নে আমরা পরস্পর কাজ করব। বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে চীনের উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ ভারত সাগরে চীনের প্রভাব রুখতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক উন্নয়নে মোদির ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বলা হচ্ছে, চীনকে রুখতে এক্ষেত্রে সাগরে ভারতকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

সাবাঙে বিনিয়োগ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা প্রীতি শরণ জানান, নয়াদিল্লি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবকাঠামো উন্নয়নে সাহায্য করতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রশ্নে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সাবাঙে শুধু নৌবন্দরেরই উন্নয়ন হবে না, পাশাপাশি একটি বিমানবন্দরও তৈরি করা হবে। ভারতীয় একাধিক কোম্পানি এক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে বলেও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ও এর বাইরেও ভারত-আসিয়ান অংশীদারিত্বের সম্পর্ক শান্তি এবং উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেবে। আঞ্চলিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোদি চলতি বছর আসিয়ানভুক্ত দশ জাতির নেতাদের নয়াদিল্লিতে রিপাবলিক ডের প্যারেডে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে এবারই ভারতে একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিদেশি নেতারা উপস্থিত হবেন।

বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই বিতর্কের মাঝেই দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ অংশের কর্তৃত্ব একা চীন নিজেই দাবি করে আসছে অনেক দিন। ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান এবং ভিয়েতনাম ওই অঞ্চলের দখল প্রশ্নে বিবাদে লিপ্ত আছে। এক পরিসংখ্যান মতে, প্রতিবছর ৩ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ওই রুট দিয়ে আসা যাওয়া করে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নাতুনা দ্বীপে মাছ ধরার অধিকার নিয়ে ইন্দোনেশিয়া ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে কাজে লাগাতে চাইছে ভারত। চীন নাতুনা দ্বীপে সেনা মোতায়েন ছাড়াও অর্থনৈতিক জোনের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে ওই দ্বীপটিকে। আর চীনের এই নতুন অর্থনৈতিক জোন নিয়ে আপত্তি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর। ভারত সাগরে চীনের পর যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি আধিপত্য বিস্তারকারী দেশ।

নরেন্দ্র মোদি বুধবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক পরবর্তী সময়ে আজ বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া যান। সেখানে দেশটির নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে দেখা করেন এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা করেন। সেখান থেকেই সিঙ্গাপুরের সাংঘ্রি লাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ফোরামের নির্ধারিত বৈঠকে যোগ দেবেন মোদি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads