• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
পাকিস্তানিদের উচ্চাশার পারদ চড়িয়েছেন ইমরান খান

পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

সংরক্ষিত ছবি

এশিয়া

পাকিস্তানিদের উচ্চাশার পারদ চড়িয়েছেন ইমরান খান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২০ আগস্ট ২০১৮

পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশবাসীর উচ্চাশার স্বপ্নকে আকাশে নিয়ে গেছেন ইমরান খান। ১০ মিলিয়ন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি, ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন এবং বহির্বিশ্বে পাকিস্তানের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখিয়ে আজ ক্ষমতার মসনদে সাবেক এই ক্রিকেটার। কিন্তু তিনি ক্রিকেটের মাঠের বাইরের এই স্বনির্ধারিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবেন তো- এমন আশঙ্কা খোদ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

একটা সময় ছিল যখন সত্যিই ইমরান খান ছিলেন জনগণের চোখের মণি। নিজের চারিত্রিক গুণাবলি আর বাকচাতুর্যতা দিয়ে গত মাসের নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন তিনি। ক্ষমতায় বসার আগেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশের ঘুষখোর ধনিকদের মধ্য থেকে দুর্নীতি দূর করা এবং জনগণকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার। কিন্তু তিনি এমন এক মসনদে বসেছেন, যা ইতোমধ্যেই দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা সঙ্কটে জর্জরিত। অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে শুরু করে জঙ্গিবাদ ইস্যুতে দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং আফগানিস্তান ও পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পাকিস্তান নাজেহাল।

ইতোমধ্যেই সংসদে বিরোধীরা বিশালাকার জোট গঠনের  পথে ইমরানের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পেছনে এবং ইমরান তাদের হাতের পুতুল এমন অভিযোগ এনে তারা একাট্টা হচ্ছেন। যদিও নির্বাচনে জিততে পিটিআইকে সেনাবাহিনী সাহায্য করেছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরান। উল্টো জয়-পরবর্তী বক্তব্যে তিনি ভারতের উদ্দেশে শান্তির চিহ্ন হিসেবে জলপাই গাছের ডাল দেখান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্বার্থ-সংক্রান্ত সুসম্পর্কের আহ্বান জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনাবাহিনীর জেনারেলদের সঙ্গে কতটা ভালো সম্পর্ক রেখে ইমরান খান চলতে পারবেন তার ওপরই নির্ভর করবে তার সরকারের পূর্ণ মেয়াদ টিকে থাকা। ইমরানের বৈদেশিক নীতি জেনারেলদের চিন্তার পরিপন্থি হলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সাবেক সরকারগুলোর পরিণতি ভোগ করতে হবে তাকেও। রাজনৈতিক গবেষক আমির আহমেদ খানের মতে, এমন অবস্থায় ইমরানের ভবিষ্যৎ অন্যান্য সবার মতোই। ছোট রাজনৈতিক দল এবং বিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত সিনেট নিয়ে ইমরান খানকে তার নির্বাচনী এজেন্ডাগুলো পূরণে বেশ বেগ পেতে হবে। সংসদে কোনো বিল পাস করতে হলে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বেন তিনি। এমনকি বিচার বিভাগ পর্যন্ত ইমরানকে থামিয়ে দিতে পারে। কিন্তু ইমরানের তরুণ সমর্থকরা মনে করেন, তিনিই পারবেন নতুন পাকিস্তান গড়তে। পাকিস্তানের ডেইলি টাইমসের সম্পাদক রাজা আহমেদের মতে, ভোটার এবং তার সমর্থকদের মধ্যকার আকাশছোঁয়া উচ্চাশা নিয়ন্ত্রণ করতে ইমরান খানকে বেশ বেগ পেতে হবে। এবারের স্বাধীনতা দিবসে দেশটির রাস্তায় তরুণদের সমবেত অংশগ্রহণ এবং ইমরানের প্রতি পরিবর্তনের বিশ্বাস অনেকটাই প্রত্যক্ষ হয়েছে।

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৬ শতাংশ। কিন্তু বর্তমান অবস্থা এবং ভঙ্গুর অবস্থা দেখে সহজেই বলা যায়- পাকিস্তানের যাত্রা ক্রমশ অবনতির দিকে। তাই ইমরান খান সরকারকে চীন থেকে ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতোমধ্যেই ইমরান পরবর্তী ১০০ দিনের পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু পরিবর্তনের জন্য পিটিআই নেতারা যে পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন আয়কর সংগ্রহকে মূল অর্থনৈতিক উৎস ধরে তাতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। একই কথা সরকারি বিভাগ থেকে দুর্নীতি দূর এবং দরিদ্রদের দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রেও।

এনডিটিভি ও বিবিসি থেকে বিশ্লেষণে কল্লোল কর্মকার

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads