• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনৈতিক

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

এশিয়া

নেপালের তদন্ত কমিশন বলল  

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনৈতিক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৮ আগস্ট ২০১৮

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ‘অসম্পূর্ণ’ ও  ‘অপ্রকাশিত’  তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেপালের ইংরেজি দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইকান্তিপুর যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা  ‘অনৈতিক ও প্রতারণামূলক’ বলেছে নেপাল সরকারের অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশন। 

সোমবার কমিশনের সদস্য সচিব বুদ্ধি সাগর লামিচ্ছানে স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাঠমান্ডু পোস্ট ও ইকান্তিপুরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন নিয়ে কমিশন ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং অসন্তুষ্ট’। সোমবারই কাঠমান্ডু পোস্টের ওই  প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পাইলট আবিদ সুলতান ‘ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মারাত্মক মানসিক চাপ ও উদ্বেগের’ মধ্যে ছিলেন এবং ওই অবস্থায় তিনি একের পর এক যেসব ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন, তার পথ ধরেই গত মার্চে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিএস-২১১ বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেপাল সরকারের গঠিত অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশনের প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি হাতে পাওয়ার দাবি জানিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট লেখে, পাইলট আবিদ সুলতান ত্রিভুবনে নামার প্রস্তুতির সময় বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ‘অসত্য’ তথ্য দিয়েছিলেন; এক ঘণ্টার ওই পুরো ফ্লাইটে তিনি ককপিটে বসেই ধূমপান করছিলেন। 

গত ১২ মার্চ ঢাকা থেকে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে রওনা হয়ে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১। এতে পাইলট আবিদ সুলতানসহ আরোহীদের ৫১ জনের মৃত্যু হয়। ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র আবিদ এক সময় বাংলাদেশ এয়ারফোর্সের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। বাহিনীতে তিনি ‘ব্রাইট অফিসার’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বলে পরিচিতজনদের ভাষ্য। শতাধিকবার ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের অভিজ্ঞতাও ছিল আবিদের। তাই তার পরিচালনায় ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি কীভাবে বিধ্বস্ত হলো- সে প্রশ্ন ওঠে তখনই। বিমানটি বিধ্বস্তের কারণ নিয়ে আসে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও। ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি জানায়, পাইলটের ভুলেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আর ইউএস-বাংলার পক্ষ থেকে বলা হয়, নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হচ্ছিল তাদের।  

মর্মান্তিক ওই ঘটনায় নেপাল সরকার গঠিত তদন্ত কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ না করলেও তার একটি কপি কাঠমান্ডু পোস্টের কাছে আছে বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, ফ্লাইটের পুরো সময়ে প্রধান বৈমানিক আবিদের আচরণ তার স্বাভাবিক চরিত্রের সঙ্গে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না’। এ বিষয়টি আগেই নজরে আনা উচিৎ ছিল বলে নেপালি তদন্তকারীদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

Accident-Investigation-Commission-Nepal

 

তবে নেপালের অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই কমিশনের কাজের মূল উদ্দেশ্য হল ওই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে চেষ্টা করা। সেই তদন্ত এখনও চলছে। কমিশন বিশ্বাস করে, দুর্ঘটনার তদন্ত ‘গণমাধ্যমের প্রপাগান্ডার’ বিষয় নয়। ‘কমিশন এ ধরনের অনৈতিক ও প্রতারণামূলক সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এ ধরনের প্রতিবেদন সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভুল ধারণা ও বিশ্বাসের জন্ম দেবে।’ কমিশন বলছে, যেখানে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি এবং কমিশনের মধ্যে এখনও আলোচনা চলছে, সেখানে যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই না করে এরকম একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা কোনোভাবেই উচিৎ নয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন এখনও ‘অফিসিয়ালি’ সম্পন্ন হয়নি এবং তা প্রকাশও করা হয়নি। যখন প্রতিবেদনটি তৈরি হবে, নেপাল সরকারের নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নিয়ম মেনে তা প্রকাশ করা হবে। ‘সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কমিশনের অনুরোধ, এরকম স্পর্শকাতর একটি বিষয় নিয়ে কেউ অনুমাননির্ভর ধারণার পেছনে ছুটবেন না, কেননা ওই ঘটনায় নেপাল এবং বন্ধুপ্রতিম দেশের নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে।’

এর আগে সোমবারই ইউএস-বাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো দুর্ঘটনার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগে এ ধরনের অসমর্থিত মতামত প্রকাশ কোনো গণমাধ্যমের কাছেই কাম্য নয়।  

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট 

KP-2

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads