• সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
অ্যান্টিবডির সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা

সংগ‍ৃহীত ছবি

এশিয়া

করোনা ভাইরাস

অ্যান্টিবডির সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০২ এপ্রিল ২০২০

করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় চীনা বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য ওষুধ খুঁজতে গিয়ে কার্যকর অ্যান্টিবডির সন্ধান পেয়েছেন। আলাদা করে ফেলা এসব অ্যান্টিবডি নতুন ভাইরাসকে কোষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার বেলায় অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। খবর: বিবিসি ও আলজাজিরা।

বেইজিংয়ের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝাং লিংকি বলেন, অ্যান্টিবডির মতো অ্যান্টিবডি দিয়ে তৈরি ওষুধ বর্তমান পদ্ধতির চেয়ে অধিক কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটিকে তিনি বর্ডারলাইন বা সীমান্তরেখা বলছেন। অতীতে এ রকম প্লাজমা বা রক্তরস পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার নজির রয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ইয়ান লিপকিন করোনা চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি হিসেবে ব্লাড-প্লাজমা থেরাপির কথা বলেন। বিশেষজ্ঞরা এ চিকিৎসা পদ্ধতিকেও আশার আলো হিসেবে দেখছেন। তারা বলেন, প্লাজমায় অ্যান্টিবডি থাকে, তবে রক্তের ধরন দ্বারা এটি সীমাবদ্ধ।

তারও আগে জানুয়ারি মাসের শুরুতে ঝাং ও তার গবেষক দল শেনঝেনে থার্ড পিপল হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে সেরে ওঠা রোগীদের রক্তে অ্যান্টিবডি বিশ্লেষণ শুরু করেন। তারা ২০৬টি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি পৃথক করেন যার ভাইরাসের প্রোটিনের সঙ্গে আবদ্ধ হওয়ার একটি জোরালো ক্ষমতা রয়েছে। ঝাং বলেন, অ্যান্টিবডি পৃথক করার পর তারা আরো একটি পরীক্ষা চালান। এ পরীক্ষায় অ্যান্টিবডি ভাইরাসকে কোষে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারে কি না, তা দেখা হয়। প্রথম ২০ বা ততধিক অ্যান্টিবডির মধ্যে পরীক্ষা করে দেখা যায়, ৪টি অ্যান্টিবডি ভাইরাসের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয়। এর মধ্যে দুটি খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারে।

গবেষকেরা এর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি শনাক্ত করে সেগুলোকে সংযুক্ত করে ভাইরাসের পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে চেষ্টা করছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগ্রহী ওষুধ নির্মাতারা এটি নিয়ে পরীক্ষা করতে পারবেন। প্রথমে পশু ও পরে মানুষের ওপর এটি প্রয়োগ করা হবে। গবেষক দলটি ইতিমধ্যে বায়োটেক ফার্ম ব্রি বায়োসায়েন্সের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। ঝাংয়ের দাবি, কয়েক দশক ধরে অ্যান্টিবডিগুলোর গুরুত্ব প্রমাণিত হয়েছে। ক্যানসার চিকিৎসা বা সংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসায় এর প্রয়োগ করা হয়েছে। অ্যান্টিবডি কোনো ভ্যাকসিন নয়, তবে ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের রোগপ্রতিরোধের জন্য দেওয়া যেতে পারে।

এদিকে করোনা চিকিৎসায় নিজেদের অ্যাভিগান ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে জাপানের ফুজি ফিল্ম। সাধারণত, ঠান্ডা-সর্দির চিকিৎসায় ব্যবহূত অ্যাভিগান ওষুধটি চীনে করোনা চিকিৎসায় ম্যাজিকের মতো কাজ করেছিল। চীনের ট্রায়ালে দেখা যায়, যাদের ওই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, অন্যদের তুলনায় তারা দ্রুত সেরে ওঠেন। অ্যাভিগানের জেনেরিক নাম ফ্যাভিপিরাভির।

গতকাল বুধবার কোম্পানির এক মুখপাত্র জানান, জুনের শেষ নাগাদ ১০০ জন রোগীর ওপর এ ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে। আমরা প্রথমে তথ্য সংগ্রহ করব, বিশ্লেষণ করব, এরপর অনুমোদনের জন্য আবেদন করব। হালকা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ২০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী রোগীদের সর্বোচ্চ দিনের জন্য এ ওষুধটি দেওয়া হবে। তবে প্রাণীর শরীরে পরীক্ষার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এ ওষুধ দেওয়া হবে না।

গত শনিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা হিসেবে অ্যাভিগানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করবে তারা। এরপরই তৃতীয় ধাপে ট্রায়ালের ঘোষণা এল। গত মাসে চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, এর মধ্যে ফ্যাভিপিরাভিরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ হয়েছে। জাপানে এর আগে করা দুই ধাপের ট্রায়ালে দেখা গেছে, এ ওষুধ রোগীদের সুস্থ হওয়ার সময় কমিয়ে আনে। যদিও ওই দুই ট্রায়াল প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল না ফুজি ফিল্ম। এবারে তৃতীয় ধাপে ট্রায়ালের আগে ফুজি ফিল্ম এক বিবৃতিতে জানায়, আশা করা যায় নতুন ভাইসের ওপর অ্যাভিগান প্রভাব ফেলতে পারবে।

সাধারণত ঠান্ডা-সর্দির চিকিৎসায় ব্যবহূত অ্যাভিগ্যান করোনা চিকিৎসায় জাপানের তৈরি অ্যাভিগান ওষুধটি চীনে ম্যাজিকের মতো কাজ করেছিল। বেশ কিছু করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় এ ওষুধের কার্যকারিতার লক্ষণ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে অনেক দেশ এ ওষুধ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এবার জাপানও ওষুধটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করবে।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রমাণিত কার্যকর কোনো চিকিৎসা এখনো নেই। চীনে গত বছরের ডিসেম্বরে উৎপত্তি হওয়া এ ভাইরাস বর্তমানে সারা বিশ্বে মহামারীতে রূপ নিয়েছে। জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ৮ লাখ ৬২ হাজার মানুষের করোনায় আক্রান্ত। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads