• সোমবার, ১ মার্চ ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

এশিয়া

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কোভিডের সঙ্গে বাড়ছে একে অপরকে দোষারোপ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৫ ডিসেম্বর ২০২০

থাইল্যান্ড বলেছে, মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কারণে দেশটিতে সংক্রমণ বাড়ছে। আর মিয়ানমার সরকার তাদের দেশে ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার দায় চাপাচ্ছে প্রতিবেশী বাংলাদেশের ওপর। মিয়ানমারের সঙ্গে থাইল্যান্ডের দেড় হাজার মাইলের বেশি লম্বা সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের বেশিরভাগই ঘন জঙ্গল।

কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে খুবই সফল দেশগুলোর একটি থাইল্যান্ড। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঘটছে। অন্তত ১৯ জন মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে যাওয়া অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে আক্রান্ত হয়েছেন।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যকর্মীরা এখন তাদের সংস্পর্শে আসা শত শত মানুষকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যাদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একইভাবে ভিয়েতনাম তাদের দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার জন্য চীনের দিকে আঙ্গুল তুলছে। চীন বলছে, তাদের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলে ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার কারণ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মানুষের সঙ্গে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ।

থাইল্যান্ড-মিয়ানমারের পাহাড়ি সীমান্তে দায়িত্বরত থাই সেনাবাহিনীর কর্নেল ছত্রি সানগুয়ানথাম বলেন, সীমান্ত অনেক লম্বা। মিয়ানমার থেকে আসা শ্রমিকরা কোনও কিছুর পরোয়া করবে না। নিজেরা যা চায় সেটা পেতে তারা সব কিছু করতে পারে। এমনকী অবৈধভাবে থাইল্যান্ডেও প্রবেশ করে।

মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে থাইল্যান্ডে যাওয়া ১৭ জনের সমপ্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারা নভেম্বরের শেষের দিকে সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডে ঢুকেছে এবং অন্তত পাঁচটি স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তখন থেকেই সংক্রমণ রুখতে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিংসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। আবার গত কয়েকমাসে থাইল্যান্ড থেকে জাপান, মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া বেশ কয়েকজনেরও করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ ফল এসেছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলছে, থাইল্যান্ড থেকে ফেরা অন্তত ৭০ জন অভিবাসী শ্রমিকের ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। কাগজপত্রবিহীন ওইসব অবৈধ শ্রমিকরা সাধারণত ভিড়ে মিশে কাজ করে। থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এটি নিয়েই বেশি চিন্তিত। কাগজপত্র না থাকায় অসুস্থ হলে তারা হাসপাতালেও ভর্তি হয় না। ফলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।

তবে শুধু অবৈধ শ্রমিকরাই নয়, বৈধ শ্রমিকরাও স্বাস্থ্য সুরক্ষার নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে। যে কারণেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে। সিঙ্গাপুরে বিদেশি শ্রমিকরা ডরমেটরিতে গাদাগাদি করে থাকে। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণেও রাখতে পারে না। ফলে বিদেশি শ্রমিকরা যেমন নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে, তেমনি শ্রমিকদের ডরমেটরিগুলোতেও ভাইরাস সংক্রমণের গতি অনেক বেশি। সৌদি আরবে মাইগ্র্যান্ট ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা সেভাবে হচ্ছে না। সেখানে থাকা বেশিরভাগ শ্রমিক এশিয়া ও আফ্রিকার দেশ থেকে যাওয়া। যাদের বেশিরভাগকেই নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। যেহেতু কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা সেভাবে হয় না তাই তাদের অনেকেও নিজ দেশে ভাইরাস বয়ে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads