• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

ব্যাংক

তফশিলি ব্যাংকগুলোর এমডিদের নিয়ে বসবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য তফশিলি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠক করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আসছে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বৈঠকটি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে ৫৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের শিগগিরই চিঠি দেওয়া হবে। ব্যাংকারদের বৈঠকে গভর্নর ফজলে কবিরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকটির জন্য একটি বিশদ প্রতিবেদন তৈরি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে ব্যাংকগুলোর সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করা হবে। ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতি, মূলধন পরিস্থিতি, লোকসানি শাখা, ডলারের বাজার পরিস্থিতি, অফশোর ব্যাংকিং, হুন্ডি পরিস্থিতি, ব্যাংকগুলোর অনিয়ম, দুর্নীতি, সুশাসন, ফারমার্স ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকের চিত্রসহ সব আর্থিক সূচকের অবস্থা তুলে ধরা হবে ওই প্রতিবেদনে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যাংকগুলোর আমলনামাও তৈরি করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্নবিব্ধ হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই বৈঠক থেকে তফশিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কঠোর বার্তা দিতে চায়।
এদিকে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর বড় অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের। ব্যাংকারদের বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের জবাবদিহি করা হবে। এছাড়া সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হবে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে। আর প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। মূলধন এবং নিরাপত্তা সঞ্চিতি ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোর এমডিদের সর্তক করে তাদের কাছে কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হবে এ ব্যাপারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই মাসে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজার বেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। কয়েকটি ব্যাংক কৃত্রিমভাবে সঙ্কট সৃষ্টি করে ডলারের দাম বাড়িয়ে দেয়। পরে অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পরোক্ষ কার্যক্রমে সেটি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। ডলারের বাজার অস্থিতিশীল করেছে এমন ব্যাংকগুলোকে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকারদের বৈঠকে ওইসব ব্যাংকের এমডিদের হুঁশিয়ার করা হবে।
অন্যদিকে অফশোর ব্যাংকিংয়ের নামে অর্থ পাচার হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্নভাবে প্রমাণ পেয়েছে। ব্যাংকগুলোর এই অর্থ পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বিশদ নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। সেটিও প্রধান নির্বাহীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। আর যেসব ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং করছে তাদের হুন্ডির বিষয়ে আরো সর্তক থাকতে নির্দেশ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads