• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

ব্যাংক

আঠারো বছরে টাকার অবমূল্যায়ন ৬৬%

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৫ মার্চ ২০১৮

১৮ বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে ৬৬ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে টাকার। অর্থাৎ ২০০০-১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে ৩৩ টাকা দাম বেড়েছে প্রতি ডলারের। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে প্রতি ডলার কিনতে ব্যয় হতো ৫০ দশমিক ৩১ টাকা। সেখানে গত বুধবার প্রতি ডলার কিনতে খরচ হয়েছে ৮৩ টাকা ৪০ পয়সা। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর দুই টাকা হারে দাম বেড়েছে ডলারের। অর্থাৎ পণ্য আমদানি করতে ব্যবসায়ীকে এখন আগের থেকে ডলারপ্রতি প্রায় দেড়গুণ বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, ব্যাংকিং চ্যালেঞ্জে ডলারের সর্বশেষ দাম ৮৩ দশমিক ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বাইরে দাম বেশি। বর্তমানে ৮৪ থেকে ৮৫ টাকায় প্রতি ডলার বেচাকেনা হচ্ছে। এ অবস্থায় তেল আমদানি করতেও সরকারকে ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। তবে ডলারে দাম বাড়াতে রফতানিকারকরা আগের থেকে বেশি লাভবান হচ্ছেন। রফতানির বিপরীতে আয় বেড়ে গেছে তাদের।

সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে বিদেশি মুদ্রাবাজার। অভিযোগ, বাজারে ডলারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি শুরু করে। তারপরও বাজার স্থিতিশীল করা যায়নি।

২০০১ সালে ডলার বেচাকেনা হয়েছে ৫৩ দশমিক ৯৬ টাকায়। বছর ব্যবধানে আগের বছর থেকে ডলারের দাম বাড়ে সাড়ে ৩ টাকা। ২০০২ সালে দেশের বাজারে ডলারের দাম ছিল ৫৭ দশমিক ৪৩ টাকা। পরের বছর ২০০৩ সালেই ৫৭ টাকার ঘরে ছিল ডলারের দাম। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৪ সালে ডলারের দাম এক টাকা বেড়ে হয় ৫৮ দশমিক ৯৪ টাকা। অবশ্য ২০০৫ সালে ডলারের বিপরীতে তিন টাকা দুর্বল হয় বাংলাদেশি টাকা। ওই বছর ডলারের দাম দাঁড়ায় ৬১ দশমিক ৩৯ টাকা। ২০০৬ সালে বড় উলম্ফন দেয় ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ৬ টাকা বাড়ে ডলারের দাম। ওই বছর ডলারের দাম দাঁড়ায় ৬৭ দশমিক ০৮ টাকা। হিসাব মতে, ২০০০-০৬ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে ডলারের দাম বেড়েছে ১৭ টাকা। ২০০৭ সালে দেশের বাজারে ডলার বিক্রি হয়েছে ৬৯ দশমিক ০৩ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগের তথ্যমতে, ২০০৮ সালে ডলারের দাম কিছুটা কমে। আগের বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি ডলার দর কমে বিক্রি হয়েছে ৬৮ দশমিক ৬০ টাকায়। পরের বছরো একই হারে ডলার কিনতে হয় বৈদেশিক বাণিজ্যে নিয়োজিত ব্যবসায়ীদের। ২০১০ সালে আবার ৬৯ টাকা দর পায় প্রতি ডলার। প্রতি ডলার ৭১ দশমিক ১৭ টাকায় বেচাকেনা হয় ২০১১ সালে। ২০১১-১২ সালে ডলারের দাম বড় আকারে বেড়ে যায়। বছর ব্যবধানে ৮ টাকা বাড়ে প্রতি ডলারের দাম। ২০১৩ সালে আর দাম বাড়েনি। এওপর ২০১৪ সালে আবার নিম্নমুখী হয় ডলার। ৭৯ দশমিক ৯৩ টাকা থেকে দাম কমে হয় ৭৭ দশমিক ৭২ টাকা। ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ডলারের দাম ছিল পর্যায়ক্রমে ৭৭ দশমিক ৬৭ টাকা, ৭৮ দশমিক ২৬ টাকা এবং ৭৯ দশমিক ১২ টাকা।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র দেবাশীষ চক্রবর্তী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না। তবে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময় বাজার যাতে অস্থিতিশীল না হয় সেদিকে নজর দিয়ে থাকে। ডলারের দাম এমন পর্যায়ে রাখার চেষ্টা থাকে যাতে আমদানিকারক ও রফতানিকারক কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

জানা যায়, কিছু কিছু ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বাজারে ডলারের দাম অস্থির করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি আঁচ করে কয়েকটি ব্যাংককে সতর্কও করা হয়। তারপরও প্রতিনিয়ত টাকার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রফতানির তুলনায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে বেশি। ফলে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়ে গেছে ডলারের।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads