• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
সেবার মানে শীর্ষে যেতে চায় রূপালী ব্যাংক

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. আতাউর রহমান প্রধান

সংরক্ষিত ছবি

ব্যাংক

সেবার মানে শীর্ষে যেতে চায় রূপালী ব্যাংক

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৭ মে ২০১৮

ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ হঠাৎ করে হয়নি। এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে। তবে রূপালী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ খেলাপি ঋণ এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে চায়। সে লক্ষ্যে পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন ঋণ অনুমোদনে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ব্যাংকটি সেবার মানের দিক থেকে শীর্ষে যেতে চায়। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী বিশিষ্ট ব্যাংকার মো. আতাউর রহমান প্রধান এভাবে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার দৃঢ়তার কথা জানান। একই সঙ্গে বলেন ব্যাংকটিকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার কথা।

সম্প্রতি নিজ দফতরে ব্যাংকের সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশের খবরের সঙ্গে কথা বলেছেন এই ব্যাংকার। ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে রূপালী ব্যাংকের দায়িত্ব নেন আতাউর রহমান প্রধান। যার নেতৃত্বে ২০১৬ সালের লোকসান থেকে ফিরে ২০১৭ সালে ৫৩৮ কোটি টাকা মুনাফা করেছে ব্যাংকটি।

আতাউর রহমান প্রধান বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এখানে আমরাও রয়েছি। তবে একটি কথা বলতে চাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টই বলছে, ২০১৭ সালে বিতরণ করা রূপালী ব্যাংকের কোনো ঋণ খেলাপি হয়নি। এটি আমাদের জন্য ভালো বার্তা দিচ্ছে। বর্তমান পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় আমরা যারা রয়েছি, নতুন ঋণ অনুমোদনের আগে মানের দিকটি কঠোরভাবে পর্যালোচনা করছি। ফলে খেলাপি ঋণের এই পরিস্থিতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসব।

২০১৭ সাল শেষে ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৫১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২২ শতাংশ। তবে খেলাপি ঋণ থেকে ২৯২ কোটি টাকা নগদ আদায় করেছে ব্যাংকটি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আর্থিক সূচকে ব্যাংকটি ২০১৬ সালে লোকসানে চলে যায়। ওই বছর ব্যাংকটি ৭৯ কোটি টাকা লোকসান করে। তবে ২০১৭ সালে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জোরালো নেতৃত্বে ২০১৭ সালে ৫৩৮ কোটি টাকা পরিচালনা মুনাফা করে। মুনাফার এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ২০১৮ সালে আমরা আরো ভালো করব।

বিশিষ্ট এই ব্যাংকার বলেন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ব্যবস্থা ছিল বলে আজকের ব্যাংক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। বেসরকারি ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু আশির দশকের পর। তার আগে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য সব ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সহায়তা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো করেছে। তাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবদান মানতে হবে। রূপালী ব্যাংক অন্যদের সঙ্গে এখানে অবদান  রেখেছে। 

আতাউর রহমান প্রধান বলেন, রূপালী ব্যাংকের সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে, জবাবদিহিতা আছে। কারণ রূপালী ব্যাংকের ৯০ শতাংশ মালিকানা সরকারের হলেও ১০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ মানুষের রয়েছে। কাজেই আমাদের জবাবদিহিতার জায়গা রয়েছে। সেই দিক বিবেচনা করলেও রূপালী ব্যাংক একটি ভালো জায়গায় এসেছে।

তিনি জানান, স্বাধীনতার পর তিনটি ব্যাংক একীভূতকরণ করে আজকের রূপালী ব্যাংক। তবে আমাদের দুর্বলতার দিক ছিল, গত ৪৬ বছরে এই ব্যাংকের মূলধন বাড়ানো হয়নি। এটি নানা কারণে হয়নি। তবে অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন এক হাজার কোটি টাকার ওপরে। তবে আমাদের মূলধন ৩০৩ কোটি টাকা। সরকার মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের মূলধন জোগান বাড়লে জনগণের মূলধনও বাড়বে। মূলধন বাড়লে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি আরো মজবুত হবে।

ব্যাংকের সুশাসনের প্রসঙ্গ টেনে রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, ব্যাংকের সব ক্ষেত্রে আমাদের সুনিশ্চিত জবাবদিহিতা আছে। সুশাসন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই জরুরি। আগে কিছু দুর্বল দিক ছিল। সেগুলো আমরা কাটিয়ে উঠেছি। আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অটোমেশনে এগিয়ে। আমাদের হিসাবধারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এক কোটি মায়ের হিসাব পরিচালনা করে সরাসরি উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ারের মূল্য জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে শেয়ারের দাম ছিল ২০ টাকা। সেটি এখন বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে। মুনাফা অব্যাহত থাকবে। তবে মুনাফা সব সময় এক হারে হবে সেটি বলা যাবে না। একইভাবে আমানত এক হারে বাড়বে না। তবে ঊর্ধ্বগতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

প্রবাসীদের বাড়ি নির্মাণে ঋণ দেওয়ার প্রকল্পের কথা জানিয়ে আতাউর রহমান বলেন, ব্যাংকের এই অর্থায়ন প্রকল্পটি ব্যাপক জনপ্রিয়। খুব অল্প সময়ে এখান থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকরা ঋণ নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবেন। এটাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের একটি ডেস্ক এই সেবার দায়িত্ব পালন করে।

রূপালী ব্যাংকের এই কর্মকর্তা বলেন, ১৯৮৯ সালে খেলাপি ঋণ সংজ্ঞায়িত করা শুরু হয়। তার আগে ব্যাংকাররা খেলাপি ঋণ কী জানত না। ওই বছরই খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ শতাংশ। এরপর ১৯৯৩ সালে এটি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। সেখান থেকে কমে এসেছে। মাঝখানে খেলাপি ঋণ হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বেড়েছে। এখানে হয়তো ব্যাংকারদের কিছুটা ব্যর্থতা রয়েছে। তবে এখন সবাই সতর্ক। আইনি কিছু জটিলতার কারণেও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। 

রূপালী ব্যাংক এক নম্বর হতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, তবে এর মানে এই নয় হাজার কোটি টাকা মুনাফা করব। এক নম্বর মানে নয় ২ হাজার শাখা খোলা হবে। আমরা ভালোমানের আমানত সংগ্রহ করতে চাই। সেবার মানের দিক থেকে আমরা শীর্ষে যেতে চাই। 

এজেন্ট ব্যাংকিং জনপ্রিয় হচ্ছে, এটি চালু করবেন কি না প্রশ্নে বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করতে হবে। এটি আমাদের এখন অগ্রাধিকার। কারণ সব জায়গায় আর শাখা নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংকে বিনিয়োগের প্রসঙ্গে এই ব্যাংকার বলেন, ফারমার্স ব্যাংকের সমস্যা একক কোনো সমস্যা নয়। এটাকে আলাদা করে দেখলে ভুল হবে। এখানে অনেক মানুষের আমানত রয়েছে। ব্যাংক খারাপ করেছে তার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এর জন্য ব্যাংকিং খাতের ক্ষতি হতে দেওয়া যাবে না। ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এজন্য আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সরকারি ব্যাংকগুলোর শুধু মুনাফা করা লক্ষ্য নয়। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমি মনে করি, সরকারি ব্যাংকগুলো ফারমার্স ব্যাংকের পাশে দাঁড়ালে মানুষের আস্থা ফিরবে। ব্যাংকটি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads