• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
ব্যাংক খাতে এক বছরে কর্মী কমেছে ৯ হাজার

বিআইবিএম অডিটরিয়ামে গতকাল ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অব ব্যাংকস’ বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ব্যাংক

ব্যাংক খাতে এক বছরে কর্মী কমেছে ৯ হাজার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ মে ২০১৮

ব্যাংক খাতের মানবসম্পদে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা। প্রতিনিয়তই বাড়ছে কর্মী ছাঁটাই ও পদত্যাগ। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। সাম্প্রতিক কয়েকটি ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। গত এক বছরে ব্যাংক খাতে ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন ও পদত্যাগ করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অডিটরিয়ামে ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অব ব্যাংকস’ শীর্ষক বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্যে আয়োজনের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক। তিনি দক্ষতার সঙ্গে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের ওপর জোরারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর মুজাফফর আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি, বিআইবিএমের সাবেক চেয়ার প্রফেসর এসএ চৌধুরী, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ আবদুল্লাহ, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি জন সরকার প্রমুখ।

কর্মশালার উদ্বোধন করে ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, ব্যাংক খাতের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু সার্কুলার জারি করেছে। এসব সার্কুলার যথাযথ পরিপালনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নজরদারি করা হয়। তিনি বলেন, ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। এতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ব্যাংকগুলো কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং উন্নয়নে ব্যয় ৫০ শতাংশ কমিয়েছে। ১০০ টাকা অপারেটিং ব্যয়ের মধ্যে মাত্র ২৫ পয়সা কর্মীদের উন্নয়নে ব্যয় করেছে ব্যাংকগুলো, যা খুবই হতাশাজনক। আন্তর্জাতিকভাবে অপারেটিং খরচের ২ থেকে ৩ শতাংশ ব্যয় করা হয়। একই সঙ্গে এক-তৃতীয়াংশ ব্যাংক তাদের মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যয় করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ব্যাংকিং খাতের নৈতিকতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নৈতিকতা বজায় রাখতে পারলে ব্যাংক খাতের সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে। তিনি ব্যাংকের কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।

বিআইবিএমের সাবেক চেয়ার প্রফেসর এসএ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক খাতে চাকরির জন্য লাইসেন্স ব্যবস্থার প্রবর্তন করলে অনেক সমস্যা দূর হয়ে যাবে। বিশেষ করে পেশাদারি সংক্রান্ত লাইসেন্স থাকলেও ব্যাংকিংয়ে নেই। ব্যাংক খাতে এখন বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। সুতরাং এ বিষয়টি বিবেচনায় এই লাইসেন্স কাজে লাগবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, নারী কর্মীদের সন্ধ্যা ৬টার পর ব্যাংকের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আবার ব্যাংকের পরিচালকদের একটি অংশ ব্যাংক কর্মীদের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে হবে তা জানে না। এজন্য ব্যাংক পরিচালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ আবদুল্লাহ বলেন, মানবসম্পদ কর্মীদের বেসিক ব্যাংকিংয়ের ধারণা থাকতে হবে। পদোন্নতির বিষয়েও সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় সমস্যা তৈরি হয়। এসব বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নজর দিতে হবে।

ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি জন সরকার বলেন, ব্যাংকের পরিবেশ পরিবারের মতো করে গড়ে উঠতে হবে। ভালোবাসার কারণে পরিবার যেমন টিকে থাকে ঠিক তেমনি ব্যাংকের মধ্যেও একই পরিবেশ রাখতে হবে। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফি নেওয়া ঠিক নয়। কারণ এটিকে বিজ্ঞাপন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads