• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
প্রকট হতে পারে তারল্য সঙ্কট

সব ঋণের সুদহার এক অঙ্কে কার্যকর করতে চান না ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা

প্রতীকী ছবি

ব্যাংক

চ্যালেঞ্জের মুখে এমডিরা

প্রকট হতে পারে তারল্য সঙ্কট

সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকর নয়

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৯ জুলাই ২০১৮

এক অঙ্কে ঋণের সুদহার কার্যকর করতে হোঁচট খাচ্ছেন বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। মালিকদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চ্যালেঞ্জের মুখে তারা। সব ঋণের সুদহার এক অঙ্কে কার্যকর করতে চান না তারা। অন্যদিকে, আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ নির্ধারণ করে দেওয়াতে ব্যাংক খাতে চলমান তারল্য সঙ্কট আরো প্রকট হতে পারে বলে ব্যাংকারদের শঙ্কা।

অধিকাংশ ব্যাংক মালিকদের সিদ্ধান্ত কার্যকর শুরু করলেও সব ঋণের সুদহার এখনই ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা যাচ্ছে না। গত ২০ জুন বৈঠক করে ব্যাংক চেয়ারম্যানদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়, যা কার্যকর হয়েছে পহেলা জুলাই থেকে।

জানতে চাইলে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, দেশের অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা ও বাণিজ্যের স্বার্থে একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা তা কার্যকর শুরু করে দিয়েছি। গত সোমবারের ব্যাংকার্স সভায় উপস্থিত এমডিরা নিজেদের ব্যাংকের কৌশলের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করেছে।

তিনি বলেন, রাতারাতি ব্যাংকের সব ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা যাবে না। তবে আমরা ঢাকা ব্যাংক এটি করার উদ্যোগ নিয়েছি।

গতকাল ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের খবর চারটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা সবাই বলেছেন, সার্বিকভাবে সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ রাতারাতি কার্যকর করা সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে দেশের অর্থনীতিতে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান বাড়াতে ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে আরো গতিশীল করতে যেসব নতুন ঋণ প্রস্তাব আসবে, সেসব প্রকল্পে তারা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে। তবে ভোক্তাঋণের সুদহার কমানো এখনই সম্ভব নয়।

বরং তারা স্বীকার করছেন, ব্যাংকের মুনাফা অব্যাহত রাখতে ব্যাংকগুলোকে স্বাভাবিকভাবে কিছুটা কৌশল হাতে নিতে হবে। সেটি হচ্ছে ভোক্তাঋণের পরিমাণ বাড়ানো। আর ভোক্তাঋণ থেকে বেশি সুদ আদায় করে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা টিকিয়ে রাখা। এ চার এমডি কেউ সঙ্গত কারণে সংবাদমাধ্যমে নাম প্রকাশ করতে চাননি।

এমডিরা বলছেন, ব্যাংকগুলোকে বছর শেষে মুনাফা করতে হবে। ব্যাংক কোনো চ্যারিটেবল সংস্থা নয়। এর মুনাফা করে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা সচল রাখার দায়িত্ব চূড়ান্তভাবে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাঁধে বর্তায়। এখানে ব্যর্থ হলে তার দায় এমডি এবং অন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। ফলে ব্যবসায়িক কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে তাদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে নগদ টাকার টানাটানি চলছে। তারা উচ্চসুদেও আমানত পাচ্ছে না অনেক সময়। এখন সার্বিকভাবে ৬ শতাংশ সুদে আমানত কতটা পাবে তারা। সরকারি আমানত সংস্থার নির্বাহী এত কম সুদে দিতে চাচ্ছেন না। আর ব্যক্তি খাতের আমানতও এত কম সুদে আসবে না। যেখানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৬ শতাংশ, সে দেশে ৬ শতাংশ সুদে কেন আমানত রাখবে। ফলে বিদ্যমান তারল্য সঙ্কট আরো প্রকট হবে। যাদের কাছে টাকা আছে, তারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করবেন নানা কৌশলে। কিছু বিনিয়োগ যাবে পুঁজিবাজারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছেন, ব্যাংকের মালিকরা নিজেরাই নিজেদের ফাঁদ তৈরি করেছেন। সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিতে নিতে এখন জালে আটকে গেছেন তারা। সরকারপ্রধানের নির্দেশে তারা বাধ্য হয়েছেন ঋণের সুদহার নামিয়ে আনতে। তবে এটি কার্যকর করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা তাদের জন্য কঠিন। আবার এর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা বেরিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। কারণ নির্বাচনের বছরে ভালো বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ বাড়াতে চান না।

ওই কর্মকর্তা বলেন, তবে মালিকদের ঘোষণা কতটা কার্যকর করা হচ্ছে, সেটি তদারকি করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোর নতুন ঋণের হালনাগাদ তথ্য চাইবে। ঘোষণা দিয়ে বসে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি থাকবে পুরো বিষয়টি ঘিরে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে দেশের অর্থনীতিতে শিল্পবান্ধব পরিবেশ, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান বাড়াতে ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে আরো গতিশীল করতে মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২০ জুলাই ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যানদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ৬ শতাংশ সুদে আমানত জোগান দেওয়া হবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে আমানতের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি। যার প্রায় পৌনে তিন লাখ কোটি টাকা সরকারি আমানত।

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আবদুছ ছালাম আজাদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘আমরা সব ঋণের সুদহার এক অঙ্কে কার্যকর করতে আমাদের সর্বশেষ পর্ষদ সভায় অনুমোদন নিয়েছে। জনতা ব্যাংক সব গ্রাহককে এক অঙ্ক সুদে ঋণ দেবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads