• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
স্বল্প সুদে সরকারি আমানত নিয়ে অস্বস্তিতে বেসরকারি ব্যাংক

স্বল্প সুদে সরকারি আমানত নিয়ে অস্বস্তিতে বেসরকারি ব্যাংক

সংরক্ষিত ছবি

ব্যাংক

স্বল্প সুদে সরকারি আমানত নিয়ে অস্বস্তিতে বেসরকারি ব্যাংক

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৭ আগস্ট ২০১৮

ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে স্বল্প সুদে (৬ শতাংশ) সরকারি আমানত পাচ্ছে না বেসরকারি ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাপারে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে আশ্বস্ত করলেও সেটি কার্যকর না হওয়ায় তারা উচ্চ সুদে সরকারি ব্যাংক ও সরকারি আমানত সংগ্রহ করছে। তারল্য সঙ্কটে বেসরকারি ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদ দিয়ে আমানত নিয়ে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছে।

বেসরকারি খাতের একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী বলছেন, এ অবস্থা চললে ঋণের সুদহার সব পর্যায়ে কোনো দিনই এক অঙ্কে নামবে না। হয়তো ব্যাংক মালিকদের চাওয়াকে সম্মান দেখিয়ে কিছু কিছু বিনিয়োগে সুদহার কমানো হবে।

এদিকে এ পরিস্থিতিতে আগামীকাল বুধবার সঞ্চয়পত্রের সুদহার পর্যালোচনায় বৈঠক ডেকেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত বৃহস্পতিবার তিনি সঞ্চয়পত্রের সুদহার পুনর্নির্ধারণ করার ঘোষণা দেন ব্যাংক মালিক ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনায়। বৈঠকে তারা ঋণের সুদহার কমাতে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর প্রস্তাব তোলেন।

ব্যাংকার ও ব্যাংকের মালিকদের বক্তব্য, আমানতের জন্য তারা ৬ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের সুদহার সাড়ে ১০ শতাংশের বেশি। এতে সাধারণ মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখতে আসছেন না। এর সমাধান না হলে বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জিডিপির উচ্চ হার অব্যাহত রাখতে সঙ্কটে পড়বে ব্যাংক খাত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোট আমানত প্রায় সাড়ে ১০ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি আমানত প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অলস পড়ে আছে বিপুল পরিমাণ টাকা। এসব আমানত ৬ শতাংশ হারে বেসরকারি ব্যাংকগুলো পেলে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা যাবে।

বেসরকারি খাতের সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কাজী ওসমান আলী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকার পরও সরকারি তহবিল আমরা স্বল্প সুদে পাচ্ছি না। বর্তমানে তারা আগের থেকে কিছুটা কম সুদ দাবি করছে।

অপরদিকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি মামুন-উর-রশিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, আমানতকারীরা রীতিমতো দরপত্র আহ্বান করেন। এটি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে সুদের হার নামবে না। ঢাকঢোল পিটিয়ে ১ জুলাই থেকে আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ ও ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ কার্যকরের ঘোষণা দেন ব্যাংক মালিকরা। মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই ঘোষণা দেন তারা। তবে শুরু থেকেই এটি কার্যকর নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিভিন্ন মহল। গত এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো ব্যাংকই পুরোপুরি এটি কার্যকর করতে পারেনি। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এক অঙ্কে ঋণের সুদহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ব্যাংকগুলোর জন্য।

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদ বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জনতা ব্যাংক সব সময় আগে থাকে। এখানেও তার ব্যত্যয় হয়নি। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলো স্বল্প সুদে আমানত নিয়ে উচ্চ সুদে বিনিয়োগ করছে কি না সেটি তদারকির বিষয়।

এদিকে বিনিয়োগ চাঙা করতে ঋণের সুদহার কমানোর চেষ্টায় থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩১ জুলাই যে মুদ্রানীতি দিয়েছে তাতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ আগের মতোই রাখা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ ঋণের প্রবৃদ্ধি দিয়ে সরকারের ঘোষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।

গত জুনের শেষ দিকে তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানেও স্বল্প সুদে সরকারি ঋণ নিশ্চিত করার দাবি করেন তারা।

চলতি বছরের শুরু থেকে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার টানাটানি শুরু হয়। সঙ্কট থেকে বেড়ে যায় সব ধরনের ঋণ ও আমানতের সুদহার। আমানতকারীকে কোনো কোনো ব্যাংক ১১ শতাংশ হারে সুদ দিতে শুরু করে টাকার টানাটানি দূর করতে। আবার আমানতের উচ্চ সুদের হারের কারণে বিনিয়োগের সুদহার ১৭/১৮ শতাংশ দাঁড়ায়।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নীতি সহায়তা চান বেসরকারি ব্যাংক মালিকরা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কট কাটাতে নতুন নিয়মে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পাচ্ছে বেসরকারি ব্যাংক। কমানো হয়েছে নগদ জমার হার (সিআরআর)। সব তফসিলি ব্যাংকের মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের সাড়ে ৬ শতাংশ হারে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এবং ৬ শতাংশ দৈনিক হারে নগদ জমা সংরক্ষণ করার বিধান ছিল। সেটি পুনর্নির্ধারণ করা হয় সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে ৫ শতাংশ। আগ্রাসী ব্যাংকিং করে তারল্য সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানত হার নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনতে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads