• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
প্রভাবশালীদের ‘কব্জায়’ ব্যাংকের ভল্ট

ব্যাংকের ভল্ট

সংরক্ষিত ছবি

ব্যাংক

প্রভাবশালীদের ‘কব্জায়’ ব্যাংকের ভল্ট

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৪ আগস্ট ২০১৮

দেশের অর্থনীতিতে এসএমইসহ ছোট উদ্যোক্তাদের অবদান বেশি থাকলেও তাদের জন্য যত নিয়মের কড়াকড়ি। ব্যাংকঋণ পেতে যেসব প্রক্রিয়া তার সবই যেন তাদের জন্য। এসব ব্যবসায়ীর জন্য ব্যাংকের ভল্ট খোলা ‘পাহাড় সমান’ কঠিন হলেও প্রভাবশালীদের বেলায় তা নয়। ব্যাংকের ভল্ট যেন তাদের কব্জায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ছোট ব্যবসায়ীরা রেহাই পান না ব্যাংকঋণ পরিশোধ না করে; ব্যর্থ হলে তাদের সম্পত্তি নিলামেও তোলে ব্যাংক। অন্যদিকে ব্যাংকের আচরণ উল্টো প্রভাবশালীদের কাছে। ঠিকমতো ঋণ পরিশোধ না করলেও তাদের জন্য খোলা থাকে ব্যাংকের ভল্ট।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৭ সাল শেষে ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৭৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

ব্যাংকঋণের ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নিয়েছে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। যার বড় অংশই নিয়মিত আদায় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। আদায় করতে কঠোর কোনো ব্যবস্থাও যেন নেওয়া যায় না। অনাদায়ী ঋণ আদায়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরাই ছুটে যান ওইসব ব্যবসায়ীর অফিসে; যা রীতিমতো প্রটোকল লঙ্ঘন। ব্যাংকিং ফন্দিফিকিরেও এসব ব্যবসায়ীর পাশে থাকে ব্যাংকগুলো। ২০১৭ সালে ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করেছে ৫৭টি ব্যাংক। এর অর্ধেকের বেশিই করা হয়েছে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। তাদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে ৪৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা; যা মোট ঋণের প্রায় ১৩ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বড় গ্রুপ ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের একটি ‘অদৃশ্য বোঝাপড়া’ তৈরি হয়েছে। তারা নিজেরা ব্যাংক খাতের ঋণ যেন ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। এসব কাজে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নীরবে সায় দিয়ে যাচ্ছে। এতে ভল্ট থেকে সহজেই অর্থ বের করে নিতে পারছেন বড় ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন দিন দিন নাই হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক পরিচালক, উদ্যোক্তা যোগসাজশে নিজেদের বন্ধু, আত্মীয়দের ঋণ দিচ্ছেন। কিন্তু তা আদায় হবে কি না দেখছেন না। ‘সম্পর্কের বিষয়টি’ যেন ঋণপ্রাপ্তির সূচক হয়ে উঠছে। ব্যাংকগুলোর সতর্ক হয়ে অর্থায়ন করা উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, সেটি করা কঠিন। মালিকরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তাই ব্যাংকগুলো যাচাই-বাছাই না করে বিনিয়োগ করে।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমাদের ব্যাংক ব্যবস্থা দিন দিন ভেঙে পড়ছে। সংশ্লিষ্টদের চূড়ান্ত গাফিলতি, আইনের কঠোর প্রয়োগ না হওয়া, সুশাসনের ঘাটতি, উচ্চ পর্যায়ের সিন্ডিকেটসহ নানা জটিলতায় এই খাতে চরম দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। পুরো খাতটি অনিয়মের বেড়াজালে বন্দি। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কারণে এই নাজুক পরিস্থিতি।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বেসরকারি খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সব ব্যবসায়ী খারাপ তা বলা যাবে না। অনেকেই ঠিকমতো ঋণ পরিশোধ করছেন। অনেকে তা করেন না।

ঋণ পুনঃতফসিল করা হয় তখনই যখন তা ঠিকমতো আদায় হয় না। ব্যাংকগুলো নিজের আর্থিক অবস্থা ভালো দেখাতে ঋণের একটি অংশ নিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ পরিশোধে নতুন করে ব্যবসায়ীদের সময় দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এসএমই ঋণ পুনঃতফসিলের হার ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। যেখানে বড় ঋণের পুনঃতফসিল হার ১৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads