• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ব্যাংকের আমানত ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা!

ভারসাম্যহীনভাবে চলছে দেশের ব্যাংক খাতের আমানত কাঠামো

প্রতীকী ছবি

ব্যাংক

ব্যাংকের আমানত ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা!

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২৮ আগস্ট ২০১৮

দেশের ব্যাংক খাতের আমানত কাঠামো (ব্যবস্থা) ভারসাম্যহীনভাবে চলছে। ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা নেই। অপরদিকে তফসিলি ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করছে। দীর্ঘদিন ধরেই আমানত সংগ্রহ ও বিনিয়োগে চলছে এই অব্যবস্থাপনা। পরিস্থিতি উত্তরণে বন্ড মার্কেট এবং যৌথভাবে দেশি ও বিদেশি ইক্যুইটি ব্যবস্থা কার্যকর করার কোনো উদ্যোগ নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংক খাতে নগদ টাকার টানাটানির যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ আমানত ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় বিচ্যুতি। এ অবস্থায় দেশের বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করা জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতকে সঠিক শৃঙ্খলায় আনতে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে তফসিলি ব্যাংকগুলোর আমানত সংগ্রহ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য মেয়াদি আমানতের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। পাশাপাশি বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করতে হবে। এর সঙ্গে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ জোগান বাড়াতে হবে। মূলধন বাজারে ইক্যুইটি বিকাশ করতে হবে। দেশে অবকাঠামো ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের মেগা প্রকল্পগুলোর অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশি ও বিদেশি ইক্যুইটি বিনিয়োগ পর্যাপ্ত মাত্রায় জোরদার করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমান বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ। ব্যাংকগুলো মূলত তিন শ্রেণির আমানত কাঠামো থেকে গ্রাহকের আমানত সংগ্রহ করে। সেগুলো হলো- চলতি আমানত, সঞ্চয়ী আমানত এবং মেয়াদি আমানত। এর বাইরে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব কিছু উদ্ভাবনী আমানত সংগ্রহ ব্যবস্থা থাকে।

বর্তমানে মোট আমানতের অর্ধেকই আসে মেয়াদি আমানতের মাধ্যমে। ব্যাংকগুলো তিন, ছয়সহ বিভিন্ন মেয়াদ ঠিক করে গ্রাহকের আমানত নিয়ে বিনিয়োগ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, বর্তমানে ৫ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে মেয়াদি আমানত। এসব মেয়াদি আমানত নিয়ে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন গ্রাহকের প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করে থাকে, যা ফেরত আসতে সময় লাগে। ফলে ব্যাংকগুলোকে নগদ টাকার টানাটানিতে পড়তে হয়। বর্তমানে দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিম দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। চলতি হিসাব থেকে ব্যাংকগুলোর আমানত মাত্র ২০ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ মোট আমানতের ২ লাখ কোটি টাকার জোগান আসে এখান থেকে। সঞ্চয়ী আমানতও ২ লাখ কোটি টাকা। দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ হলো বিভিন্ন ধরনের স্থায়ী আমানত। কিন্তু এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর আমানত মাত্র ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা ঠিক মতো চলছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যেন রাজনৈতিক বলয়ে চলছে। সাময়িকভাবে বাঁচতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পর্ষদ নানা অপকৌশল বেছে নিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য পদক্ষেপ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির এ প্রতিবেদককে বলেন, গত জুলাই মাসে আমরা যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছি সেখানে কিছু সংস্কার কার্যক্রমের দিকে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। আমরা ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার পথে রয়েছি। কিন্তু এটিকে টেকসই করতে চাইলে আমানত ব্যবস্থাপনায় সংস্কার জরুরি। আমাদের ব্যাংক খাতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এর কারণ বিদ্যমান আমানত কাঠামো। তিনি বন্ড মার্কেট জোরালো করার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে নতুন নতুন আমানত ব্যবস্থা বাজারে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads