• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
ads
আরো ৬ হাজার কোটি টাকা চায় সোনালী ব্যাংক

সোনালী ব্যাংক

সংরক্ষিত ছবি

ব্যাংক

আরো ৬ হাজার কোটি টাকা চায় সোনালী ব্যাংক

# গত জুনে পেয়েছে ৪০০ কোটি টাকা # খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৪,৩০৫ কোটি টাকা # মূলধন ঘাটতি ৬,৭৫৫ কোটি টাকা

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আর্থিক সূচকে পিছিয়ে পড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক আরো ৬ হাজার কোটি টাকা মূলধনের জোগান চায় সরকারের কাছে। যেখানে সর্বশেষ দফায় গত জুন মাসেও ব্যাংকটিতে ৪০০ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। মূলধন ঘাটতি পূরণ ও ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নে সরকারের কাছে এই তহবিল চেয়েছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে সরকারি সব সেবায় মাশুল (চার্জ) আদায় করতে চায় ব্যাংকটি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে। চিঠিতে সোনালী ব্যাংকের এমডি, ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে সরকারের কাছে ৬ হাজার কোটি টাকার জোগান চেয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত্ত নেয়নি। যাচাই-বাছাই না করে হলমার্ক গ্রুপকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি আর্থিক সূচকে পিছিয়ে পড়তে শুরু করে। পরে ব্যাংক হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করে। দুর্নীতি দমন কমিশনও এ ঘটনায় মামলা করে। মামলায় হলমার্কের উদ্যোক্তারা আটক হন। তবে ব্যাংক থেকে বের করে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ফলে ব্যাংকটি বড় ক্ষতিতে পড়ে যায়। যে ক্ষত আজো বয়ে নিতে হচ্ছে। সরকার ব্যাংকটিতে ঘুরে দাঁড়াতে কয়েক দফা মূলধন জোগান দিয়েছে। তবে জনগণের করের টাকা থেকে মূলধন জোগান নিলেও ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও বাছ-বিচার না থাকায় বেড়ে যাচ্ছে

খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, জুন মাস শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। এ সময় ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ৩৭ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রদত্ত ঋণের ৪৮ দশমিক ৭৩ শতাংশই খেলাপি। গত মার্চ মাস শেষে ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা; খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। মোট ঋণের ১৩ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে যায় ব্যাংকটির।

উচ্চ খেলাপির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বড় আকারের মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে ব্যাংকটি। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। কিন্তু গত মার্চ মাস শেষে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এর আগে জানুয়ারিতে মূলধন ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। গত বাজেট থেকে সোনালী ব্যাংককে মূলধন ঘাটতি পূরণে ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। একইভাবে জনতা ব্যাংককে ৪০০ কোটি, রূপালী ব্যাংককে ৩০০ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে ৪০০ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি ব্যাংককে ১৯৯ টাকা দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল এ প্রতিবেদককে টেলিফোনে বলেন, ব্যাংকটি সার্বিকভাবে ভালো করছে। আমরা নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নিয়ে ব্যাংকটিকে পরিচালন মুনাফায় নিয়ে আসতে শুরু করেছি। তবে হলমার্কের ক্ষত আজো শুকায়নি। প্রতিষ্ঠানটির দায় পরিশোধ করে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও সহায়তা পাচ্ছি না। বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে আমরা ৮০০ কোটি টাকা পাব। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি আমাদের হিসাব থেকে কেটে ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ৬ হাজার কোটি টাকা চেয়েছি সহায়তা। তবে সেটি গ্যারান্টির বিপরীতে। আমরা সেটি আস্তে আস্তে পরিশোধ করে দেব।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত রোডম্যাপ মোতাবেক, ২০২০ সালের শুরু থেকে ব্যাংকিং ঘাতের জন্য মূলধন শক্তিশালীকরণ, ঝুঁকি মোকাবেলা ও সক্ষমতার সূচক ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়ন করতে হবে। অনেক ব্যাংক এরই মধ্যে সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। ব্যাসেল-৩ কার্যকর করতে গিয়ে সোনালী ব্যাংক আরো বড় মূলধন ঘাটতিতে পড়বে বলে মনে করছে এর কর্তৃপক্ষ। 

সোনালী ব্যাংকের এমডি চিঠিতে অর্থমন্ত্রীকে বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদের তদারকি ও কৌশলগত দিক নির্দেশনায় ব্যাংকটি ২০১৮ সালের জুলাই মাসে পরিচালন মুনাফা করেছে ৯১২ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩১৬ কোটি টাকা। আর ২০১৭  সালে ব্যাংকের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। তবে নিট মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।

ব্যাংকটিকে এগিয়ে নিতে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সেবা দিয়ে মাশুল আদায় করতে চায় এর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সোনালী ব্যাংক সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ৩৭টি সেবা বিনা খরচে দিয়ে থাকে। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ১৪ ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি। এসব সেবা দিয়ে চার্জ আদায় করতে চায় ব্যাংকটি। এর আগে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা বৈঠক করে একই দাবি করেছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads