• সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫
ads
টাকার টানাটানির মধ্যেও বেড়েছে এসএমই ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক

সংগৃহীত ছবি

ব্যাংক

টাকার টানাটানির মধ্যেও বেড়েছে এসএমই ঋণ

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

# মোট ঋণ ১০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে

# গত তিন মাসে ঋণ গেছে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ব্যাংক খাতে নগদ টাকার টানাটানি শুরু হয়। তারল্য সঙ্কটে ব্যাংকগুলো বড় গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। এতে বেড়ে যায় ব্যাংকঋণের সুদহার। প্রতিশ্রুতি দিয়েও ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামাতে পারেনি। এসব নেতিবাচক খবরের মধ্যেও এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মেয়াদে তিন মাসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে (এসএমই) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ দিয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। আর এ খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মেয়াদে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ করেছে এক লাখ ৬৬ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

হিসাব মতে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক থেকে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ বিতরণ করেছে।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই ঋণ বিতরণ করলেও এসএমই ঋণ বিতরণের সিংহভাগ ব্যাংকের। পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই গ্রাহকদের ঋণ দিয়েছে প্রায় এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আর বাকি দুই লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো।

এসএমই খাতে গত ছয় মাসে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৮১ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। গত ছয় মাসে নতুন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ৭৮ হাজার কোটি টাকা এসএমই ঋণ পেয়েছে। অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এসএমই ঋণের আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে গ্রামেও এই খাতে ঋণ বিতরণ করছে। তবে এই ঋণের পরিমাণ তুলনামূলক কম। অর্থাৎ শহরকেন্দ্রিক বেশি এসএমই ঋণ যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, মোট এসএমই ঋণের প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা পেয়েছেন গ্রামের উদ্যোক্তারা। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি নারী উদ্যোক্তাকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দিয়েছে।

এসএমই ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছে, ঋণ বিতরণ বাড়লেও এর সুফল খুব বেশি মিলছে না। তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো উৎপাদনশীল খাত থেকে বেশি ঋণ দিচ্ছে সেবা ও বাণিজ্য খাতে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ে না। উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ব্যাংকগুলো চলতি বছর থেকে মাইক্রো ও মাঝারি শিল্পের বাণিজ্য ঋণকে বাদ দিয়ে প্রতিবেদন করছে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলোর এসএমই ঋণের মধ্যে বাণিজ্য খাতে দুই লাখ ৮১ হাজার উদ্যোক্তাকে ৩৬ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কম। গত বছর এই সময়ে তিন লাখ চার হাজার উদ্যোক্তাকে ৫৩ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ দেখানো হয়েছিল।

চলতি বছর উৎপাদন ও সেবা খাতে ঋণ বেড়েছে। উৎপাদনশীল খাতে ২৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ঋণ বিতরণ ছিল ১৯ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। আর সেবা খাতে ১৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা চার হাজার ১৮২ কোটি টাকা বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত এসএমই। এখানে আমরা ভালো প্রবৃদ্ধি করলে দেশের অর্থনীতি বেশি সুফল পাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাই এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে সব সময়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads