• বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
পদোন্নতি আটকাবে দুর্নীতি

লে‍াগো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক

ব্যাংক

পদোন্নতি আটকাবে দুর্নীতি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। সরকারি মালিকানার বিশেষায়িত ব্যাংকটি অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও দুর্নীতি কমাতে এবার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতিতে কঠোরতা আনছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার পদোন্নতি আটকে যাবে। এজন্য ব্যাংকটি কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতি নীতিমালায় সংশোধনী আনতে চাচ্ছে। এরই মধ্যে এর একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, খসড়া প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে ব্যাংকটির নীতি নির্ধারণী ফোরাম পরিচালনা পর্ষদে। পর্ষদ সেটি অনুমোদন করলে পাঠানো হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে।

জানতে চাইলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানিয়া বাংলাদেশের খবরকে টেলিফোনে বলেন, বিদ্যমান নীতিমালাটির সংশোধনী আনতে একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, যা এখনো চূড়ান্ত নয়। পর্ষদে যাবে। সেখান থেকে কোনো পর্যবেক্ষণ দিলে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে।

তিনি বলেন, শিগগিরই এটি চূড়ান্ত করা যাবে সেটি বলা যাবে না। সময় লাগতে পারে। জানা গেছে, নতুন নীতিমালায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে ছয়টি সাধারণ শর্ত রাখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন মোতাবেক, বিগত ৫ বছরের মধ্যে কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী এক বছরে তিনি পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবে না। একই সঙ্গে কোনো কর্মীকে পদোন্নতির জন্য পূর্ববর্তী পদে ন্যূনতম তিন বছর কাজ করতে হবে। খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার অভিযোগ দাখিল বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় চার্জশিট দাখিল বা ফৌজদারি মামলা দায়েরের সরকারি অনুমোদন থাকলে তিনি পদোন্নতি পাবেন না। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা গ্রেফতার হলে তার ওই মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত পদোন্নতি আটকে থাকবে। আটকে থাকবে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও।

কৃষি ব্যাংক বিশেষায়িত হলেও অন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে ব্যাংকটি কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে এর অনুমোদিত মূলধন দেড় হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৯০০ কোটি টাকা। তবে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকটিতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণও।

সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাখার সংখ্যা এক হাজার ৩৪টি। এর মধ্যে গ্রামীণ শাখা হচ্ছে ৭৯২টি। আর শহরের শাখা ২৩৯টি।

জানা গেছে, কোনো কর্মকর্তা যদি আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হন সেটি ভোগ করার পরের দুই বছর তাকে ব্যাংক আগের পদেই বহাল রাখবে। আর কম শাস্তি পেলে এক বছর। নতুন নীতিমালা মোতাবেক, মাঠ পর্যায়ে কাজের ন্যূনতম ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথবা পদোন্নতি নিয়ে মাঠে যেতে হবে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, এসব বিধি নিষেধ না থাকলে কেবল ওই সব কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই তালিকায় আসবেন। ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কমিটি সাক্ষাৎকার নেবে তাদের।

সূত্র বলছে, সরকার অনুমোদিত জনবল ১৫ হাজার ৪৪২ হলেও ব্যাংকটিতে কাজ করছেন ৯ হাজার ৯৭ জন, যা মোট অনুমোদিত জনবলের ৫৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। জনবলের এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকার কারণে।

এ ব্যাপারে অবশ্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি বলেন, জনবল যা আছে তা নিয়েই চলতে হবে। এখন তথ্য প্রযুক্তির সময়। আগের সেই কাঠামো মোতাবেক জনবল দরকার নেই। বরং বিদ্যমান জনবলের সঠিক ব্যবহার করতে হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে এই ব্যাংকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মহাব্যবস্থাপক পর্যন্ত ব্যাংকটিতে ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ২১৪ জন। এর মধ্যে জিএম পদে ৭, উপমহাব্যবস্থাপক পদে ৪৩, সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে ১৩৫, ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা পদে ১৮৫ এবং মুখ্য কর্মকর্তা পদে ঘাটতি রয়েছে ৮৪৪ জনের।   

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, নীতিমালা কেবল করলেই হবে না। নীতিমালা পরিপালন করার মনোভাব তৈরি করতে হবে। কেবল কাগজে কলমে থাকলে কোনো লাভ হবে না। আমাদের ব্যাংকিং খাতে অনেক আইন-কানুন রয়েছে। তারপরও সুশাসন প্রশ্নে আমরা পিছিয়ে। কারণ পরিপালন হচ্ছে না এসব আইন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads