• রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
ব্যাংকপাড়ায় ভীতি

লোগো বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক

ব্যাংকপাড়ায় ভীতি

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সুশাসন ও সংস্কার প্রশ্নে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে অর্থনীতির মেরুদণ্ড ব্যাংক খাতে। ব্যাংকপাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ভীতি ও শঙ্কা। অনিয়মকারী ও দুর্নীতিবাজরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সরকারি-বেসরকারি দুই ধরনের ব্যাংকেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৫৯টি ব্যাংকে প্রায় দেড় লাখ ব্যাংকারের সজাগ দৃষ্টি পরিবর্তিত এই পরিস্থিতির দিকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব, আর্থিক খাতের অনিয়ম ও জালিয়াতি ধরতে দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎপরতা, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের বিশেষ অনুসন্ধান কার্যক্রম ও আদালতের হস্তক্ষেপ ব্যাংকারদের মধ্যে এ ভীতি তৈরি করেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ জয়ে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ তার প্রতিশ্রুতিতে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন বাড়ানোর কথা বলেছে। এই চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে সরকারের আগের মেয়াদের পরিকল্পনামন্ত্রী ও বর্তমান মেয়াদের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে। অন্যদিকে আর্থিক খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে সক্রিয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি ব্যাংকিং খাতের জালিয়াতি ও অনিয়ম সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে বেশ সক্রিয়। অপরদিকে অর্থপাচার সংক্রান্ত জালিয়াতি তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। রফতানি হচ্ছে কিন্তু তার অর্থ দেশে আসছে না এবং রফতানি বিল ক্রয় করে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের অর্থ দেশে আনছে না- এমন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অনুসন্ধানে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অনিয়ম ও জালিয়াতির সঙ্গে শুধু করপোরেটগুলোর উদ্যোক্তারা জড়িত নন। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে ব্যাংকের একশ্রেণির কর্মকর্তা অর্থপাচারের এই ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। দুদক ও শুল্ক গোয়েন্দারা এসব শক্তভাবে অনুসন্ধান করলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে। আটকা পড়বেন ব্যাংকের প্রথম থেকে উচ্চপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা।

গত ৩০ জানুয়ারি অর্থপাচারের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের ১৫ কর্মকর্তাকে। এরপর চলতি সপ্তাহে দুদক একই ঘটনায় ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে মামলা করেছে। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্ত গতি পেয়েছে। গত সাড়ে তিন বছরে দুদক এ ঘটনার বড় কোনো অগ্রগতি করতে না পারলেও আবার ঘটনাটি সামনে এসেছে। চার্জশিট তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। এখানে ব্যাংকটির বেশ কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ পাওয়া যাবে। ফলে বেসিক ব্যাংকের অভ্যন্তরে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে দুদক বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। উচ্চ আদালত সম্প্রতি যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ধরে নিয়ে আদালতে হাজির করতে বলেছেন। এই অবস্থায় বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্মেলনে এক ধরনের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শক্ত ও বড় অনিয়মের বিরুদ্ধে দুর্বল ব্যবস্থা নিলে ব্যর্থ হতে হবে। দুষ্টচক্রকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অসাধু ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারের যোগসাজশে একটি শ্রেণি বার বার একই কায়দায় ঋণ নিচ্ছে। আগের ঋণের কোনো খবর রাখা হচ্ছে না। তবে এটি আর হতে দেবে না সরকার। দুজনের বিরুদ্ধেই শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকগুলোতে সুশাসন বাড়াতে শিগগিরই বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। তিনটি হিসাব নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে তিন বছরের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হবে। এই তথ্য পেয়ে ব্যাংকাররা এখন রীতিমতো আতঙ্কে। 

এদিকে অনিয়ম ও জালিয়াতিতে প্রত্যক্ষ মদত থাকলেও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো শক্ত পদক্ষেপ সামনে আসেনি। অথচ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। পারে না কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি করতেও। কিন্তু সেই পর্ষদ সদস্যরা সব সময় থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনেক সময় পুরস্কৃতও হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত একজন পরিচালককেও কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় আসতে হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। যখনই কোনো ব্যত্যয় নজরে আসছে আমরা সে মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে তা কার্যকরভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads