• সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৫
ads
সরল সুদে গতিশীল হবে অর্থনীতি

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক

সরল সুদে গতিশীল হবে অর্থনীতি

কার্যকর হয়নি ব্যাংক মালিকদের প্রতিশ্রুতি

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৭ মে ২০১৯

নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি গত প্রায় এক বছরে কার্যকর করেনি ব্যাংকগুলো। বিনিয়োগকারীরা বার বার ব্যাংক মালিকদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবি তুললেও লাভ হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইবার এ নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। অথচ ঋণের সুদ হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্যাংকগুলো একগুচ্ছ নীতি সহায়তা নিয়ে গেছে। 

ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা বলছেন, এক অঙ্কে সুদ হার যদি নামিয়ে আনা যায় তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য হবে টার্নিং পয়েন্ট। বেসরকারি বিনিয়োগ বড় আকারে বাড়বে। সরকারি হিসাবমতে, বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগের হার দাঁড়িয়েছে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। যা সরকার আগামী ৫ বছরে নিয়ে যেতে চায় ৩৭ শতাংশে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের মূলধন জোগান দিতে হবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে টিকে থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ। যা গত ৫ বছরে সর্বনিম্ন। গত ৬ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বলে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ দাঁড়াবে। কিন্তু তার থেকে অনেক দূরে প্রকৃত চিত্র।    

দেশের ব্যাংকিং খাতে নানা সংকট চলছে। একটি গতিশীল অর্থনীতি আনতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চলমান চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের পরিবর্তে সরল সুদের প্রবর্তন। এ বিষয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে চলতি যেকোনো সময় থেকেই সরল সুদের ব্যাংক ঋণ দেওয়া শুরু হবে।

সরল সুদের ব্যাংক ঋণ কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতিতে আবারো গতি ফিরবে। পুনরুজ্জীবিত হবে ঝিমিয়ে পড়া শিল্পকারখানা। এদিকে নতুন এ নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের (উইলফুল ডিফল্টার) বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। অন্যদিকে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা অসুবিধায় পড়ে যেসব গ্রাহক ঋণ খেলাপি হয়ে গিয়েছে, তাদের েসুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

খেলাপি ঋণ কমিয়ে এনে এবং ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সুবিধা দিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আর এটা পূরণ করতে অর্থনৈতিক খাতের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের ব্যাংকগুলোতে যেভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নেওয়া হয় তাতে ব্যবসা-বাণিজ্য করে টিকে থাকাই মুশকিল। ব্যবসা যদি না টেকে তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে না। একটি টেকসই অর্থনীতির জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের ও সহনশীল সুদহার প্রয়োগ করা।

ঋণের সুদহার কমাতে পারলেই আমাদের শিল্পকারখানাগুলো বেঁচে যাবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থান বাড়বে। দেশে প্রতিবছর একটি বড় জনগোষ্ঠী কর্মসংস্থানের জন্য বেরিয়ে আসছে। তাদের জন্য সরকারিভাবে কর্মসংস্থান তৈরি করা কঠিন। এজন্য বেসরকারি খাতের প্রসার জরুরি। 

গত মাসের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সিম্পল রেট বা সরল সুদে ব্যাংক ঋণ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে ঘোষণার আলোকেই কাজ চলমান রয়েছে। চলতি মাস থেকে নতুন পদ্ধতিতে ঋণদান শুরু করা যাবে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ ও অন্যান্য বিষয় দেখে বিশ্বমানের নীতিমালা তৈরি করা হবে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা নানা সমস্যায় নিপতিত। জ্বালানি তথা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে মিল-কারখানা সক্ষমতা অনুযায়ী চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জ্বালানি সংকট, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা প্রভৃতি মোকাবেলা করে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের টিকে থাকতে হয়।

অন্যদিকে, গত তিন বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে ১৩০ শতাংশ। ফলে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়। উদ্যোক্তা সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন। এতে অনিচ্ছাকৃতভাবে অনেক উদ্যোক্তাই ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েন।

সম্প্রতি ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনে রাজস্ব তহবিল থেকে অর্থ চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রাজস্ব বাজেট থেকে ভর্তুকি দিয়ে সুদের হার নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এ ছাড়া করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমিয়ে আনার দাবি সংগঠনটির। আবার, ঢাকা চেম্বার বলছে, দেশে করপোরেট করের হার এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অনেক। তাই এটি ৫ শতাংশ কমানো যেতে পারে।

এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আমানত এবং ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারি ও দক্ষতার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। ঋণের উচ্চ সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে রাজস্ব বাজেট থেকে ভর্তুকি দিয়ে সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বর্তমানে তারল্য ঘাটতির কারণে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ অনুমোদন হওয়া সত্ত্বেও টাকা দিতে পারছে না। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads